সম্বোধন নিয়ে নতুন বিতর্ক: রামকৃষ্ণদেবকে ‘স্বামী’ বলায় মোদীকে নিশানা মমতার

রামকৃষ্ণদেবকে ‘স্বামী’ বলায় মোদীকে নিশানা মমতার! আবারও সম্বোধন বিতর্কে দেশের প্রধানমন্ত্রী। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে এক পোস্টে নরেন্দ্র মোদী শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস-এর নামের আগে ‘স্বামী’ উপসর্গ ব্যবহার করায় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে…

February 20, 2026
1 min read

রামকৃষ্ণদেবকে ‘স্বামী’ বলায় মোদীকে নিশানা মমতার!

আবারও সম্বোধন বিতর্কে দেশের প্রধানমন্ত্রী। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে এক পোস্টে নরেন্দ্র মোদী শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস-এর নামের আগে ‘স্বামী’ উপসর্গ ব্যবহার করায় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

🌼 শ্রদ্ধা জানাতে গিয়েই বিতর্ক

রামকৃষ্ণদেবের জন্মতিথি উপলক্ষে করা পোস্টে প্রধানমন্ত্রী তাঁর আধ্যাত্মিক দর্শনের প্রশংসা করেন এবং মানবতার কল্যাণে তাঁর শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন। কিন্তু আপত্তি ওঠে তাঁর ব্যবহৃত সম্বোধন নিয়ে— কারণ বাংলার সাংস্কৃতিক পরম্পরায় তাঁকে সাধারণত ‘ঠাকুর রামকৃষ্ণ’ বা ‘যুগাবতার’ বলেই ডাকা হয়।

এই ঘটনার পরই মুখ্যমন্ত্রী সমাজমাধ্যমে লেখেন, এমন সম্বোধন তাঁকে “স্তম্ভিত” করেছে। তাঁর বক্তব্য, বাঙালি মনীষীদের নামের সঙ্গে নতুন নতুন উপসর্গ বা প্রত্যয় যুক্ত করা সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতার অভাব প্রকাশ করে।

✍️ মমতার যুক্তি

মমতা তাঁর পোস্টে ব্যাখ্যা দেন— ভারতীয় ধর্মীয় ঐতিহ্যে ‘স্বামী’ শব্দটি সাধারণত সন্ন্যাসীদের জন্য ব্যবহৃত হয়, বিশেষ করে স্বামী বিবেকানন্দ-এর মতো রামকৃষ্ণের শিষ্যদের ক্ষেত্রে। কিন্তু গুরু রামকৃষ্ণকে ঐতিহ্যগতভাবে ‘ঠাকুর’ বলেই সম্বোধন করা হয়।

তিনি আরও অনুরোধ করেন, আধুনিক ভারতের নির্মাণে যাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, তাঁদের নামের ক্ষেত্রে যেন এমন নতুন সম্বোধন ব্যবহার না করা হয়।

📚 পুরনো বিতর্কের পুনরাবৃত্তি

এই প্রথম নয়। এর আগেও সংসদে বক্তৃতা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় গান ‘বন্দেমাতরম’-এর স্রষ্টা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-কে ‘বঙ্কিমদা’ বলে সম্বোধন করেছিলেন। সেই ঘটনাও তীব্র বিতর্কের জন্ম দেয়। পরে তিনি নিজে সংশোধন করে ‘বঙ্কিমবাবু’ বলেন।

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ধারাবাহিক সম্বোধন বিতর্ক সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলছে।

🧭 সংস্কৃতি বনাম রাজনীতি

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিতর্ক কেবল রাজনৈতিক নয়— এটি মূলত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও আঞ্চলিক পরিচয়ের প্রশ্ন। বাংলার বহু ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বকে নির্দিষ্ট সম্বোধনে ডাকার দীর্ঘ সামাজিক রীতি রয়েছে, যা স্থানীয় আবেগের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।

প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *