সন্তানের জন্য বন্ধুর মতো বাবা, বিচ্ছেদের পরও ইজ়হানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন শোয়েব

বিচ্ছেদের পরও ইজ়হানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন শোয়েব! প্রাক্তন ভারতীয় টেনিস তারকা সানিয়া মির্জা এবং পাকিস্তানের ক্রিকেটার শোয়েব মালিকের ১৪ বছরের দাম্পত্যজীবন ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ভেঙে যায়। কিন্তু তাঁদের বিচ্ছেদ…

March 18, 2025
1 min read

বিচ্ছেদের পরও ইজ়হানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন শোয়েব!

প্রাক্তন ভারতীয় টেনিস তারকা সানিয়া মির্জা এবং পাকিস্তানের ক্রিকেটার শোয়েব মালিকের ১৪ বছরের দাম্পত্যজীবন ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ভেঙে যায়। কিন্তু তাঁদের বিচ্ছেদ সন্তান ইজ়হান মির্জা মালিকের উপর কোনো প্রভাব ফেলতে দেননি শোয়েব। বাবা-মায়ের সম্পর্কের টানাপোড়েন সত্ত্বেও শোয়েব নিয়মিত ইজ়হানের সঙ্গে দেখা করেন, সময় কাটান এবং বন্ধুর মতো সম্পর্ক বজায় রাখেন।

বাবা-ছেলের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শোয়েব মালিক জানান, ছেলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বন্ধুর মতো। ইজ়হান কখনও তাঁকে “ভাই” বলে ডাকে, আবার তিনিও ছেলেকে কখনও কখনও “ভাই” বলে সম্বোধন করেন। তিনি বলেন,

“ইজ়হানের সঙ্গে আমার সম্পর্ক দারুণ। আমরা সবকিছু নিয়ে গল্প করি, প্রতিদিন ভিডিও কলে কথা বলি। দুবাইয়ে থাকলে ওকে নিজে স্কুলে পৌঁছে দিই, আবার নিয়ে আসি। মাসে অন্তত দু’বার ওর সঙ্গে দেখা করি।”

শোয়েবের কথায় স্পষ্ট, ছেলেকে সময় দেওয়া তাঁর কাছে অগ্রাধিকার।

বিচ্ছেদ হলেও সন্তানের প্রতি সমান দায়িত্ব

বিচ্ছেদের পর আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ইজ়হান থাকছে মায়ের কাছে, তবে বাবা হিসেবে ছেলের সঙ্গে দেখা করার অধিকার রয়েছে শোয়েবের। পাকিস্তানের এই প্রাক্তন অধিনায়ক বলেন,

“আমরা কেউই চাই না আমাদের বিচ্ছেদের প্রভাব সন্তানের উপর পড়ুক। ও যেন বাবা-মায়ের ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।”

তিনি আরও বলেন, ইজ়হানের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক স্বাভাবিক এবং তিনি সবসময় বাবা হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালন করে যাবেন।

কেন বিচ্ছেদ?

দীর্ঘদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল, শোয়েব এবং সানিয়ার সম্পর্কে ফাটল ধরেছে। মূলত শোয়েবের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই তাঁদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ইসলামি নিয়ম অনুযায়ী ‘খুলা’ নিয়ে সানিয়া বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন।

এরপরই শোয়েব নতুন জীবন শুরু করেন। তিনি বিয়ে করেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সানা জাভেদকে। যদিও এই নতুন সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা কম হয়নি, তবে শোয়েব বরাবরই বলে এসেছেন, “আমি আমার ছেলের প্রতি সবসময় দায়বদ্ধ থাকব।”

সন্তানের জন্য একসঙ্গে থাকার প্রয়োজন নেই

অনেক বাবা-মা মনে করেন, সন্তানকে ভালোভাবে বড় করতে গেলে একসঙ্গে থাকাই একমাত্র উপায়। কিন্তু শোয়েব এবং সানিয়া দেখিয়ে দিলেন, সঠিক বোঝাপড়া থাকলে এবং বাবা-মা যদি পরিণত আচরণ করেন, তবে সন্তান বিচ্ছেদের কষ্ট অনুভব করবে না।

শোয়েব মালিক এখন নিজের নতুন দাম্পত্যজীবন নিয়ে ব্যস্ত। অন্যদিকে, সানিয়া মির্জা ছেলে ইজ়হানকে বড় করতে মনোযোগী। তবে তাঁদের দু’জনের একটাই লক্ষ্য—সন্তান যেন ভালোভাবে বেড়ে ওঠে এবং বাবা-মায়ের ভালোবাসা সবসময় পায়।

শেষ কথা

বিচ্ছেদ মানেই সম্পর্কের ইতি নয়—বিশেষ করে যখন একটি শিশুর ভবিষ্যৎ এর সঙ্গে জড়িত। শোয়েব মালিক ও সানিয়া মির্জার সম্পর্ক শেষ হয়ে গেলেও তাঁদের বাবা-মা হিসেবে দায়িত্বের পরিবর্তন হয়নি। ইজ়হানের প্রতি শোয়েবের বন্ধুত্বপূর্ণ ভালোবাসা, নিয়মিত দেখা করা এবং তাঁর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি সত্যিই প্রশংসনীয়।

বিচ্ছেদের পরেও সন্তানের জন্য বাবা-মায়ের এই সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক অনেকের জন্যই দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দাপ্রধানের উদ্বেগ, ইউনূস প্রশাসনের কড়া প্রতিক্রিয়া

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *