অবসরেও ফিট থাকার রহস্য!
পেশাদার টেনিস থেকে অবসর নেওয়ার পর অনেক খেলোয়াড়ই অনিয়মিত জীবনযাপনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। কিন্তু সানিয়া মির্জা সে পথে হাঁটেননি। খেলার ব্যস্ততা নেই, নিয়মিত অনুশীলনের চাপও কমেছে— তবু নিজের শরীর ও স্বাস্থ্যের দায়িত্ব তিনি নিজের হাতেই রেখেছেন। অতিরিক্ত ওজন বা অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস যেন জায়গা না পায়, তার জন্য নতুন করে ডায়েট মেনে চলা শুরু করেছেন এই টেনিসতারকা।
সানিয়া নিজেই জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন অত্যন্ত শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনে অভ্যস্ত ছিলেন তিনি। খেলা ছাড়ার পর হঠাৎ করে সব নিয়ম ভেঙে দেওয়াটা সহজ ছিল। কিন্তু সেটাই তিনি চাননি। তাই সচেতনভাবেই খাবারের দিকে নজর দিয়েছেন। আগে নিয়মিত ম্যাচ আর অনুশীলনের ফলে শরীর থেকে বাড়তি মেদ এমনিই ঝরে যেত। এখন সেই জায়গায় এসেছে পরিকল্পিত খাদ্যাভ্যাস।
তাহলে রোজ সানিয়ার খাওয়ার পাতে কী থাকে? খুব জাঁকজমক নয়, বরং একেবারেই ঘরোয়া খাবার। ভাত, সাধারণ তরকারি, সঙ্গে মুরগি বা পাঁঠার ঝোল— এই নিয়েই তাঁর দিনের খাবার। তবে যে জিনিসটি একেবারেই বাদ পড়ে না, তা হল স্যালাড। দিনের প্রতিটি খাবারের সঙ্গেই স্যালাড থাকতেই হবে।
সানিয়ার কথায়, তিনি আর তাঁর পরিবার স্যালাড খেতে ভালবাসেন। দামি উপকরণ বা বিদেশি রেসিপি নয়, একেবারে সহজ-সরল স্যালাডই তাঁদের পছন্দ। শসা, টম্যাটো, গাজর বা যা হাতের কাছে পাওয়া যায়, তাই দিয়েই তৈরি হয় রোজের স্যালাড। কিন্তু গুরুত্বটা সেখানেই— নিয়মিত খাওয়া।
পুষ্টিবিদদের মতে, আসলে ভাত বা রুটিকে কেন্দ্র করে খাবার সাজানো নয়, বরং স্যালাডকেই প্রধান জায়গা দেওয়া উচিত। অর্থাৎ স্যালাডের সঙ্গে ভাত বা রুটি খাবেন। প্লেটের অর্ধেক জুড়ে থাকবে সব্জি, এক-চতুর্থাংশ প্রোটিন (মাছ, মুরগি, ডিম বা দই) আর বাকি এক-চতুর্থাংশ কার্বোহাইড্রেট।
স্যালাড মানেই যে শুধু শসা-পেঁয়াজ-টম্যাটো, তা নয়। মরসুমি ফল ও সব্জি দিয়ে নানা রকম স্যালাড বানানো যায়। ব্রকোলি, বেলপেপার, বিনস, বিট, গাজর, পালংশাক, ভুট্টা বা ছোলা— যা পাওয়া যায়, ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ব্যবহার করুন। রঙিন খাবার শুধু শরীর নয়, মনও ভাল রাখে।
সানিয়া মির্জার ডায়েট প্রমাণ করে, ফিট থাকতে হলে কঠিন নিয়ম নয়— দরকার সচেতনতা আর ধারাবাহিকতা। সাদামাঠা খাবার, কিন্তু সঠিক ভারসাম্য— এই অভ্যাসই আপনাকেও রাখতে পারে সুস্থ ও হালকা।
ভিন্রাজ্যের ভোটারদের স্বস্তি: শুনানিতে হাজিরা নয়, অনলাইনেই জমা দেওয়া যাবে নথি