সংখ্যালঘু অধ্যুষিত তিন জেলায় নতুন করে হিসেব কষছে তৃণমূল, মেপে পা ফেলছেন অভিষেক

মেপে পা ফেলছেন অভিষেক এক সময় কংগ্রেসের অজেয় দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর দিনাজপুর। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই তিন জেলায় কংগ্রেসের প্রভাব ছিল অপ্রতিদ্বন্দ্বী। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে…

September 25, 2025
1 min read

মেপে পা ফেলছেন অভিষেক

এক সময় কংগ্রেসের অজেয় দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর দিনাজপুর। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই তিন জেলায় কংগ্রেসের প্রভাব ছিল অপ্রতিদ্বন্দ্বী। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাল্টেছে রাজনৈতিক সমীকরণ। গত দেড় দশকে সংখ্যালঘু ভোটকে শক্তিতে পরিণত করে সংগঠন পোক্ত করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তবু ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে আবারও নতুন করে এই তিন জেলায় বিশেষ নজর দিচ্ছে রাজ্যের শাসকদল।

এই জেলাগুলির রাজনীতিতে তিনটি বিষয় বিশেষভাবে প্রভাব ফেলছে। প্রথমত, ধর্মীয় মেরুকরণের পরিবেশ এখানে তুলনামূলক বেশি। দ্বিতীয়ত, সংগঠনের ভিতরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব অন্য জেলার তুলনায় প্রবল। তৃতীয়ত, কংগ্রেস ও বামেরা এই জেলাগুলিকেই নিজেদের পুনরুত্থানের ক্ষেত্র হিসেবে দেখছে। তাই তৃণমূলও এবার অত্যন্ত হিসেব কষে পা ফেলছে, যার মূল পরিকল্পনাকারী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

সাম্প্রতিক সাংগঠনিক রদবদলে তার ছাপ স্পষ্ট। প্রশাসনিক ভাবে এক হলেও, সাংগঠনিক ভাবে মুর্শিদাবাদকে দু’ভাগে ভাগ করেছে তৃণমূল— বহরমপুর ও জঙ্গিপুর। এই দুটি জেলাতেই সভাপতির পদ আপাতত খালি রাখা হয়েছে কয়েকটি ব্লকে। যেমন সাগরদিঘি ও লালগোলায় পূর্ণাঙ্গ সভাপতি না দিয়ে গঠিত হয়েছে কোর কমিটি। এর পেছনের কারণ, স্থানীয় স্তরে গোষ্ঠীকোন্দল ও অভ্যন্তরীণ বিভাজন। ২০২৩ সালের সাগরদিঘি উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী বাইরন বিশ্বাস তৃণমূলকে হারানোর পর সেই সমস্যা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পরে যদিও বাইরন তৃণমূলে যোগ দেন, তবু দলে বিভাজনের আশঙ্কা থেকেই যায়। তাই তাঁকেই কোর কমিটির আহ্বায়ক করে ভারসাম্য আনার চেষ্টা চলছে।

এই ধরণের কৌশল নতুন নয়। এর আগেও বীরভূমে অনুব্রত মণ্ডল ও কাজল শেখের দ্বন্দ্ব সামাল দিতে কোর কমিটি গঠন করেছে তৃণমূল। উত্তর কলকাতায় সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কুণাল ঘোষের মধ্যে বিবাদের ক্ষেত্রেও একই রকম সমাধান নিয়েছে দল।

উত্তর দিনাজপুরেও একই ছবি। ২০১৯ সালে রায়গঞ্জ লোকসভা আসন জিতে বিজেপি সেখানে শক্ত ভিত গড়ে তোলে। যদিও ২০২১-এর বিধানসভা ভোটে তৃণমূল বেশিরভাগ আসন দখল করে, ২০২৪-এর লোকসভায় আবারও বিজেপি জেতে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে রায়গঞ্জের ফলাফল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সংখ্যালঘু ভোটভিত্তিক এই জেলায় বিহারের সন্নিকটে থাকায় বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির প্রভাবও বেশি।

মালদহেও তৃণমূলকে বারবার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে। ২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে খারাপ ফলাফল, ২০১৯-এ লোকসভায় বিজেপি ও কংগ্রেসের জয়— এসবই তৃণমূলের জন্য সতর্কবার্তা। যদিও ২০২১-এর বিধানসভায় ঘুরে দাঁড়ায় দল, ২০২৪-এ আবারও দুই লোকসভা আসনে হেরে যায়। এর পেছনে স্থানীয় গোষ্ঠীকোন্দলকে দায়ী করছেন অভিষেক। এই কোন্দল এতটাই প্রবল যে, তা সহিংসতায়ও গড়িয়েছে। তিনি নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন দ্রুত অভ্যন্তরীণ বিভাজন মেটাতে।

পরিসংখ্যান বলছে, এই তিন জেলায় সংখ্যালঘু ভোট পুরোপুরি তৃণমূলের দিকে আসতে সময় লেগেছে। ২০১১ সালের পালাবদলের পরও ২০১৬ পর্যন্ত সংখ্যালঘু ভোটের বড় অংশ ছিল বাম ও কংগ্রেসের দিকে। ধীরে ধীরে ২০১৯-এর লোকসভা ও ২০২১-এর বিধানসভায় তৃণমূলের পক্ষে ঢলে পড়ে। তবে বিজেপিও ধর্মীয় মেরুকরণকে পুঁজি করে নিজেদের ভিত্তি শক্ত করেছে।

সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটের আগে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই তিন জেলায় তৃণমূলের লক্ষ্য স্পষ্ট— সংগঠন শক্ত করা, গোষ্ঠীকোন্দল কমানো এবং ভোটভিত্তি মজবুত রাখা। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে দল তাই এবার আগের চেয়ে অনেক বেশি সতর্ক ও কৌশলগত পথে হাঁটছে।

ব্যালকনির উপর উড়ালপুল! নাগপুরের সেতু স্মরণ করাচ্ছে ভোপালের ৯০ ডিগ্রি রেলসেতুর ঘটনার কথা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *