শো কজ়ের জবাবে অনড় হুমায়ুন, ক্ষমা চাইতে নারাজ ‘বিদ্রোহী’ বিধায়ক!

শো কজ়ের জবাবে অনড় হুমায়ুন! তৃণমূল কংগ্রেসের শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে শো কজ় চিঠি পেয়েছিলেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। কিন্তু দলের চাপে নতি স্বীকার করেননি তিনি। বরং এক পাতার শো কজ়ের জবাবে…

March 15, 2025
0 min read

শো কজ়ের জবাবে অনড় হুমায়ুন!

তৃণমূল কংগ্রেসের শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে শো কজ় চিঠি পেয়েছিলেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। কিন্তু দলের চাপে নতি স্বীকার করেননি তিনি। বরং এক পাতার শো কজ়ের জবাবে দু’পাতার ব্যাখ্যা দিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। জানিয়েছেন, তিনি কোনো ভুল করেননি এবং তাঁর বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইবেন না।

শো কজ়ের চিঠি এবং তার দ্রুত জবাব

হুমায়ুন কবীরকে তৃণমূলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠানো হয়েছিল। মূলত, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর এক মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় হুমায়ুন যে বক্তব্য রেখেছিলেন, তার জন্য তাঁকে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। তৃণমূল সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই এই শো কজ় চিঠি পাঠানো হয়।

বিধায়ককে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছিল। প্রথমে তিনি সোমবার পর্যন্ত সময় চেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর দেরি করেননি। শুক্রবার রাতেই শো কজ়ের উত্তর পাঠিয়ে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ‘‘শুক্রবার রাত ৮টা ১২ মিনিটে আমার সঙ্গে শোভনদেববাবুর কথা হয়। এরপর আমি শো কজ় চিঠিটি দেখি এবং রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে পিডিএফ ফাইলের মাধ্যমে তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে আমার উত্তর পাঠিয়ে দিই।’’

ক্ষমা চাইবেন না, নিজের অবস্থানে অনড়

হুমায়ুন কবীর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি তাঁর মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইবেন না। তিনি বলেন, ‘‘এর আগেও এক পাতার শো কজ়ের চিঠির জবাবে তিন পাতার ব্যাখ্যা দিয়েছিলাম। এবারও আমি আমার বক্তব্য স্পষ্ট করেছি। আমি মনে করি না যে, আমি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছি। দল আমার কাছে আগে নয়, আমার জাতি আমার কাছে বড়। দল করি বলে আমার জাতি সম্পর্কে কেউ কিছু বলবে আর আমি চুপ থাকব, এটা সম্ভব নয়।’’

তাঁর ১০ মিনিট ২৯ সেকেন্ডের একটি বক্তব্যের মধ্যে মাত্র ৩১ সেকেন্ডের একটি অংশ নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির মতে, এই মন্তব্যে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে এবং ক্ষতি হয়েছে। তবে হুমায়ুন তা মানতে নারাজ। তিনি বলেন, ‘‘শুধু ৩১ সেকেন্ডের একটি অংশ নিয়ে পুরো বক্তব্য বিচার করা অন্যায়। আমি কোন প্রেক্ষিতে এই কথা বলেছি, কেন বলতে বাধ্য হয়েছি—সব কিছু আমি চিঠিতে ব্যাখ্যা করেছি।’’

তৃণমূল কী সিদ্ধান্ত নেবে?

শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, হুমায়ুন কবীরের পাঠানো উত্তর তাঁরা পেয়েছেন এবং তার হার্ডকপি তৈরি করে কমিটির কাছে পাঠানো হবে। এরপরই দল চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

তবে তৃণমূলের অন্দরমহলে এখন প্রশ্ন উঠছে—দলের বিরুদ্ধে সরব হয়ে যাওয়া একজন বিধায়কের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না? নাকি তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করা হবে? হুমায়ুন কবীরের স্পষ্ট ভাষায় দলীয় নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া তৃণমূলের জন্য একটি নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন দেখার বিষয়, দল তাঁকে শাস্তি দেয় নাকি বিষয়টি সমঝোতার মাধ্যমে মিটিয়ে নিতে চায়।

রাজনৈতিক মহলে এখন আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে, তৃণমূল কি হুমায়ুনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে, নাকি ভবিষ্যতে দলীয় স্বার্থে তাঁকে ফেরানোর চেষ্টা করবে? হুমায়ুনের অনড় অবস্থান এবং তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য দলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

দোলে তারকাদের মতো সাজুন: রঙের উৎসবে ফ্যাশনের ছোঁয়া

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *