শোকের অবসান নয়, কিন্তু ন্যায়ের পথে এক ধাপ! অবশেষে ডেথ সার্টিফিকেট হাতে পেল নির্যাতিতার পরিবার

শোকের অবসান নয়! আরজি করে নৃশংস নির্যাতনের শিকার তরুণীর পরিবারের কাছে পৌঁছল তাঁর মৃত্যুর নথি। দীর্ঘ ছয় মাসের অপেক্ষার পর, অবশেষে বুধবার তাঁদের বাড়িতে গিয়ে স্বয়ং রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ…

March 20, 2025
1 min read

শোকের অবসান নয়!

আরজি করে নৃশংস নির্যাতনের শিকার তরুণীর পরিবারের কাছে পৌঁছল তাঁর মৃত্যুর নথি। দীর্ঘ ছয় মাসের অপেক্ষার পর, অবশেষে বুধবার তাঁদের বাড়িতে গিয়ে স্বয়ং রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম আনুষ্ঠানিকভাবে ডেথ সার্টিফিকেট তুলে দেন।

নির্যাতিতার বাবা-মা বহুদিন ধরেই এই নথির জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছিলেন। কখনও স্বাস্থ্য ভবন, কখনও বোরো অফিস, কখনও বা হাসপাতালের করিডোরে দীর্ঘ অপেক্ষা— সবকিছু মিলিয়ে এই নথির জন্য তাঁদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। কিন্তু অবশেষে, প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হলো তাঁদের মেয়ের মৃত্যুর নথি।

স্বাস্থ্যসচিবের আকস্মিক আগমন

বুধবার বিকেলে নির্যাতিতার বাড়িতে হাজির হন স্বাস্থ্যসচিব। হাতে ডেথ সার্টিফিকেটের মূল কপি তুলে দিয়ে তিনি জানান, ভবিষ্যতে এই নথির প্রয়োজন হলে হাসপাতালের এমএসভিপি (মেডিক্যাল সুপারিন্টেন্ডেন্ট-সহ-ভাইস প্রিন্সিপাল) তা সরবরাহ করবেন। পাশাপাশি, পরিবারের সদস্যদের একটি লিঙ্ক পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে তাঁরা প্রয়োজনে অনলাইন থেকেও নথির প্রিন্ট বের করে নিতে পারেন।

দীর্ঘ ছয় মাসের অপেক্ষা, বিষাদের মধ্যে স্বস্তির নিঃশ্বাস

নথি হাতে পাওয়ার পর, নির্যাতিতার বাবা বলেন,
“একজন বাবা হয়ে নিজের মেয়ের মৃত্যুর সার্টিফিকেটের জন্য এতদিন ধরে ঘুরতে হবে, এটা মেনে নেওয়া যায় না। আজ এটা পেয়েছি, তার জন্য সবার কাছে কৃতজ্ঞ। কিন্তু কেন এত দেরি হলো, তার কোনো সঠিক উত্তর পাইনি।”

তিনি আরও জানান, সেপ্টেম্বর থেকে একাধিকবার এই নথির জন্য আবেদন করেছিলেন, কিন্তু কোনও সাড়া মেলেনি। অবশেষে ৩১ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত আবেদন জানান। তারপরও একবার স্বাস্থ্য ভবন, একবার বোরো অফিস, একবার আরজি কর হাসপাতাল— এইভাবে বারবার ছুটতে হয়েছে তাঁদের।

সরকারের অবস্থান ও মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া

স্বাস্থ্যসচিব বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি মন্তব্য করতে চাননি। বাড়ি থেকে বেরিয়ে তিনি শুধু বলেন,
“ওঁদের ডেথ সার্টিফিকেট দেওয়ার কথা ছিল, সেটা দিয়ে এলাম। আর কিছু হয়নি।”

এই প্রসঙ্গে বুধবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও মুখ খোলেন। তিনি বলেন,
“আমরা চাই, আরজি করের মেয়েটি বিচার পাক।”

একটি বর্বর হত্যাকাণ্ড এবং চলমান আন্দোলন

গত ৯ আগস্ট, কলকাতার আরজি কর হাসপাতালে কর্তব্যরত অবস্থায় এক মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুন করা হয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে রাজ্যের চিকিৎসক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়, চলতে থাকে দীর্ঘ অনশন ও কর্মবিরতি।

অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে আদালত দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে। তবে নির্যাতিতার পরিবারের দাবি, এই ঘটনায় আরও অনেকে জড়িত ছিল। তাই তাঁরা তাঁদের মেয়ের পূর্ণাঙ্গ বিচারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ন্যায়ের পথে আরেক ধাপ, কিন্তু লড়াই শেষ নয়

ডেথ সার্টিফিকেট হাতে পেলেও, নির্যাতিতার পরিবারের কাছে এটি শুধুমাত্র এক টুকরো কাগজ নয়— এটি তাঁদের মেয়ের জীবনের নির্মম পরিণতির সাক্ষী। এটি তাঁদের দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের অংশ, যা শেষ হয়নি।

এই নথি তাঁদের হাতে পৌঁছেছে, কিন্তু প্রকৃত বিচার আদায়ের লড়াই এখনো চলছে। নির্যাতিতার বাবা-মা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁদের একমাত্র চাওয়া— প্রকৃত দোষীদের কঠোর শাস্তি, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো বাবা-মাকে এমন নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হতে না হয়।

পরিচালকের বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপের অভিযোগ! নুসরতের সই জাল, কী বলছেন প্রযোজকরা?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *