রেজিনগরে সংখ্যালঘু ভোটও বিজেপির দিকে!
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর সংখ্যালঘু ভোট নিয়ে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। রেজিনগরে মুসলিম ভোটারদের একাংশ বিজেপিকে সমর্থন করেছেন বলে দাবি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। তাঁর বক্তব্য, বিভাজনের রাজনীতি নয়, উন্নয়ন ও নিরপেক্ষতার বার্তা দেখেই সংখ্যালঘুরা সরকারের সঙ্গে ‘বন্ধুত্ব’ করতে চেয়েছেন। যদিও বিরোধীদের অভিযোগ, এই ফল মানুষের প্রকৃত রায়ের প্রতিফলন নয়, ভোটলুটের ফল।
রেজিনগরে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ৭০ শতাংশ। ফলে উপনির্বাচনে এই আসনের ফল কোন দিকে যায়, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ ছিল। একসময় এই অঞ্চলে সংখ্যালঘু ভোট তৃণমূলের অন্যতম বড় শক্তি হিসেবে বিবেচিত হত। কিন্তু এ বার বিজেপির বড় ব্যবধানে জয় সেই সমীকরণে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
উপনির্বাচনের প্রচারে শুভেন্দু সংখ্যালঘু ভোটারদের উদ্দেশে বলেছিলেন, সরকারের সঙ্গে থাকতে চান কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তাঁদের সামনে রয়েছে। ফল প্রকাশের পরে তিনি বলেন, ভোটারেরা তাঁর বাড়িয়ে দেওয়া ‘বন্ধুত্বের হাত’ গ্রহণ করেছেন। তাঁর দাবি, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তা মহিলারা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন।
নন্দীগ্রামে বিজেপির প্রার্থী হাসিরানি রথ পেয়েছেন ১ লক্ষ ৬৪ হাজার ৪২৭ ভোট। কংগ্রেসের মিলন প্রধান পেয়েছেন ৪১ হাজার ৬৭৪ ভোট। বিজেপির জয়ের ব্যবধান ১ লক্ষ ২২ হাজার ৭৫৩। অন্য দিকে, রেজিনগরে বিজেপির শাখারভ সরকার ৭০ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রেজিনগরে গত বিধানসভা নির্বাচনে জিতেছিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির হুমায়ুন কবীর। এ বার তাঁর পুত্র গোলাম নবি আজাদ ওই দলের প্রার্থী হলেও জয় পাননি। প্রচারের শেষ পর্বে হুমায়ুন নিজেকে সরিয়ে নেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ভোটের ফলের পরে তিনি অভিযোগ করেন, শুভেন্দু তাঁকে কথা দিয়েছিলেন যে রেজিনগরে তাঁর পুত্র জিতবেন। সেই অভিযোগ নিয়ে শুভেন্দু প্রকাশ্যে কোনও জবাব দেননি।
বিজেপির জয়ের ব্যাখ্যা নিয়ে অবশ্য বিরোধী শিবিরে তীব্র আপত্তি রয়েছে। তৃণমূলের বিধায়ক আলিফা আহমেদের অভিযোগ, রেজিনগরে নির্বাচন প্রহসনে পরিণত হয়েছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারও ভোটলুটের অভিযোগ তুলেছেন। বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, বিজেপি সংখ্যালঘুদের প্রকৃত সমর্থন পায়নি।
তবে তৃণমূলের আর এক শিবিরের মুখপাত্র প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় ফল মেনে নিয়ে বিজেপিকে অভিনন্দন জানানোর কথা বলেছেন। তাঁর বক্তব্য, দুই আসনেই বিজেপি জিতেছে, তাই তারা সব সম্প্রদায়ের মানুষের ভোট পেয়েছে—এমনটা মনে করা স্বাভাবিক।
সব মিলিয়ে, রেজিনগরের ফল ঘিরে সংখ্যালঘু ভোটের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিজেপি যেখানে উন্নয়ন ও সরকারের প্রতি আস্থাকে জয়ের কারণ বলে তুলে ধরছে, সেখানে বিরোধীরা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তুলছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।