ফ্রান্সে তরুণদের বিক্ষোভ!
শিক্ষাখাতে বরাদ্দ কমানোর প্রস্তাব ঘিরে ফ্রান্সে তরুণ প্রজন্মের বিক্ষোভের আবহ। সেই উত্তেজনার মধ্যেই পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা প্রত্যক্ষ করলেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ। একই সময়ে দেশের অভ্যন্তরে অস্থিরতা এবং সামরিক শক্তি প্রদর্শনের ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার উদ্বেগই কি এই পরীক্ষার কারণ, নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও রাজনৈতিক বার্তা?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৬ অক্টোবর আটলান্টিক মহাসাগর সংলগ্ন ব্রিটানি উপকূলে ফ্রান্সের ‘এম৫১.৩’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ হয়। একটি পরমাণু শক্তিচালিত ডুবোজাহাজ থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি ছোড়া হয়। পরীক্ষার সময় তাতে কোনও বিস্ফোরক বা পরমাণু ওয়ারহেড ছিল না বলে জানানো হয়েছে। মাক্রোঁর সঙ্গে সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের আধিকারিক ও সামরিক কর্তারা।
ফরাসি প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, ‘এম৫১.৩’ দেশের কৌশলগত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে ক্ষেপণাস্ত্রটির কার্যক্ষমতা ও পাল্লা সংক্রান্ত সব তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সামরিক শক্তি বৃদ্ধির এই পদক্ষেপ ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং রাশিয়ার সঙ্গে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।
গত কয়েক বছর ধরে ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে ফ্রান্স। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে ইউরোপের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার পক্ষে সওয়াল করেছেন মাক্রোঁ। চলতি বছরেও দেশের পরমাণু প্রতিরক্ষা নীতি নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন তিনি। ফলে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
অন্য দিকে, ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও উত্তপ্ত। শিক্ষাখাতে সরকারি বরাদ্দ কমানোর প্রস্তাব ঘিরে তরুণদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। প্রতিবাদীদের দাবি, স্কুলের জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষ সংস্কার, শিক্ষক নিয়োগ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিকাঠামো উন্নয়নে আরও অর্থ বরাদ্দ করতে হবে। তাঁদের আশঙ্কা, সরকারি সাহায্য কমলে বিশেষত আর্থিক ভাবে দুর্বল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি সমস্যায় পড়বে।
বিক্ষোভের সময়ে প্যারিস-সহ একাধিক শহরে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও অন্যান্য ব্যবস্থা ব্যবহার করেছে। গ্রেফতারির ঘটনাও ঘটেছে। পুলিশের পদক্ষেপের মাত্রা নিয়ে আন্দোলনকারীদের পাশাপাশি অভিভাবকদের একাংশও প্রশ্ন তুলেছেন।
এই পরিস্থিতিতে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা এবং দেশের অস্থিরতার মধ্যে যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মহলে বার্তা দিতে চাইছে ফ্রান্স। আবার অন্য একটি মত হল, অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ থেকে মানুষের নজর ঘোরাতেই এমন পদক্ষেপ করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এই দাবির পক্ষে নিশ্চিত প্রমাণের উল্লেখ নেই।
পরীক্ষার পর সমাজমাধ্যমে মাক্রোঁর মন্তব্য, ফ্রান্স আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় জায়গায় সেই বার্তা পৌঁছে দেওয়া গিয়েছে। যদিও তিনি সরাসরি রাশিয়ার নাম করেননি। মস্কোর তরফে পাল্টা সতর্কবার্তাও এসেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
ফ্রান্সের সামনে এখন দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ—এক দিকে দেশের তরুণদের ক্ষোভ ও শিক্ষাখাতের ভবিষ্যৎ, অন্য দিকে ইউরোপের নিরাপত্তা ও সামরিক কৌশল। ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সঙ্গে অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কোনও সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। তবে দুই ঘটনাই মাক্রোঁ সরকারের উপর নতুন করে নজর টেনেছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।