‘একজনের পক্ষে অসম্ভব’! আরজি কর-কাণ্ডে নির্যাতিতার পরিবার এবং আসামিপক্ষ একই সুরে প্রশ্ন তুলল আদালতে

আরজি কর-কাণ্ডে নির্যাতিতার পরিবার এবং আসামিপক্ষ একই সুরে! শনিবার শিয়ালদহ আদালতে আলোচিত আরজি কর-কাণ্ড নিয়ে শুনানির গুরুত্বপূর্ণ দিন ছিল। নির্যাতিতার বাবা-মা এবং ধৃত সিভিক ভলান্টিয়ারের আইনজীবী একই প্রশ্ন তুললেন— এই…

January 5, 2025
1 min read

আরজি কর-কাণ্ডে নির্যাতিতার পরিবার এবং আসামিপক্ষ একই সুরে!

শনিবার শিয়ালদহ আদালতে আলোচিত আরজি কর-কাণ্ড নিয়ে শুনানির গুরুত্বপূর্ণ দিন ছিল। নির্যাতিতার বাবা-মা এবং ধৃত সিভিক ভলান্টিয়ারের আইনজীবী একই প্রশ্ন তুললেন— এই ঘটনাটি কি আসলেই এক জনের পক্ষে ঘটানো সম্ভব?

নির্যাতিতার পরিবারের আরজি

শিয়ালদহ আদালতে হাজির হয়ে নির্যাতিতার বাবা-মা ৫৭ পাতার একটি বিশদ বিবৃতি জমা দেন। তাঁরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, এই অপরাধ এক জনের পক্ষে ঘটানো সম্ভব নয়। তাঁরা আদালতের কাছে আবেদন জানান, এই মামলার আরও গভীর তদন্ত করা হোক এবং যারা প্রকৃত দোষী, তাদের চিহ্নিত করে নতুন করে চার্জশিট দাখিল করা হোক।

নির্যাতিতার পক্ষের আইনজীবী অমর্ত্য দে বলেন, “আমরা চাই, পুরো সত্য সামনে আসুক। আরও কেউ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকলে, তাদের নামও প্রকাশ্যে আসা উচিত।” একই সঙ্গে, পরিবারের পক্ষ থেকে ধৃত সিভিক ভলান্টিয়ারের সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানানো হয়।

আসামিপক্ষের সওয়াল

ধৃত সিভিক ভলান্টিয়ারের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, এই ঘটনা এক জনের পক্ষে ঘটানো সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “সিসিটিভি ফুটেজ এবং পারিপার্শ্বিক প্রমাণে এটি স্পষ্ট যে আরও কেউ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। আমার মক্কেলকে ভিত্তিহীন অভিযোগে ফাঁসানো হচ্ছে।”

বিশেষজ্ঞদের মতামত

দিল্লির বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলের একটি রিপোর্ট নিয়ে আলোচনা হয় আদালতে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, আরজি কর-কাণ্ড এক জনের পক্ষেও ঘটানো সম্ভব। তবে, এটি একটি সম্ভাবনা মাত্র। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফরেনসিক তথ্য এবং ঘটনাস্থলের প্রমাণ মিলিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে।

পুলিশ এবং সিবিআই তদন্ত

ঘটনার দিন কলকাতা পুলিশ সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেফতার করে। পরে সিবিআই তদন্তে ওই সিভিক ভলান্টিয়ারকেই মূল অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তবে, সিবিআই তাদের চার্জশিটে জানায়, এই মামলায় অন্য কেউ জড়িত কি না, তা নিয়ে তদন্ত এখনও চলছে।

পুনরায় প্রশ্নের মুখে সিসিটিভি ফুটেজ

আদালতে উত্থাপিত সিসিটিভি ফুটেজ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। আসামিপক্ষের আইনজীবী দাবি করেন, ফুটেজের ভিত্তিতে যা দেখানো হয়েছে, তা পর্যাপ্ত নয়। এতে স্পষ্ট বোঝা যায় না, ঘটনা কেবল একজনই ঘটিয়েছেন।

মামলার পরবর্তী ধাপ

আরজি কর-কাণ্ডের পরবর্তী শুনানি আগামী ৮ জানুয়ারি। সেই দিন ধৃত সিভিক ভলান্টিয়ারের আইনজীবী তার যুক্তি আরও বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করবেন।

মামলার প্রেক্ষাপট এবং সমসাময়িক অবস্থা

আরজি কর-কাণ্ডে ধৃত সিভিক ভলান্টিয়ারের বিচারপ্রক্রিয়া নিম্ন আদালতে চলছে। তদন্তে প্রমাণ লোপাটের অভিযোগে মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ এবং টালা থানার প্রাক্তন ওসি অভিজিৎ মণ্ডলকেও গ্রেফতার করা হয়েছিল। যদিও তাঁরা জামিনে মুক্ত, আর্থিক দুর্নীতির মামলায় সন্দীপ ঘোষ এখনও জেলে রয়েছেন।

পরিবারের আবেদন এবং জনমত

নির্যাতিতার পরিবার এই ঘটনায় সর্বোচ্চ বিচার চাইছে। একই সঙ্গে, তারা আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছে, যাতে নতুন করে তদন্ত চালিয়ে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করা হয়।

এই মামলা বর্তমানে বহু প্রশ্নের সম্মুখীন। ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটিত হবে কি না, তা নির্ভর করছে তদন্ত ও বিচারপর্বের উপর।

ইনস্টাগ্রামে একে অপরকে আনফলো করায় ইউজবেন্দ্র চাহাল ও ধনশ্রী সম্পর্কের মধ্যে অশান্তি, বিচ্ছেদের গুঞ্জন

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *