শীতকালীন অধিবেশনে পশ্চিমবঙ্গের সাংসদদের ভূমিকা: কে কতটা সক্রিয়?

ভারতীয় সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে পশ্চিমবঙ্গ থেকে নির্বাচিত সাংসদদের ভূমিকা নিয়ে চলছে চর্চা। এই অধিবেশনে কে কতটা সক্রিয় ছিলেন, এবং প্রশ্নোত্তর পর্বে কে এগিয়ে রইলেন, তা নিয়ে বিশদ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।…

January 9, 2025
0 min read

ভারতীয় সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে পশ্চিমবঙ্গ থেকে নির্বাচিত সাংসদদের ভূমিকা নিয়ে চলছে চর্চা। এই অধিবেশনে কে কতটা সক্রিয় ছিলেন, এবং প্রশ্নোত্তর পর্বে কে এগিয়ে রইলেন, তা নিয়ে বিশদ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

বিজেপি এগিয়ে, তৃণমূল দ্বিতীয়

পশ্চিমবঙ্গ থেকে সংসদে উপস্থিত ৫৫ জন সাংসদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন করেছেন বিজেপির সাংসদরা। কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বারবার প্রশ্ন তুলে ধরতে দেখা গেলেও, তৃণমূল সাংসদরা সংখ্যার বিচারে বিজেপিকে ছাপিয়ে যেতে পারেননি। তৃণমূল দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও, কংগ্রেস এবং সিপিএমের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত কম।

সংসদীয় অধিবেশনের কার্যক্রম:
শীতকালীন অধিবেশন শুরু হয়েছিল ২৫ নভেম্বর এবং শেষ হয় ২০ ডিসেম্বর। এর মধ্যে লোকসভা বসেছে ২০ বার এবং রাজ্যসভা ১৯ বার। এই অধিবেশনে পশ্চিমবঙ্গের সাংসদদের ভূমিকা ছিল মিশ্র।

শীতকালীন

রাজ্যসভার পরিসংখ্যান

রাজ্যসভায় সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন করেছেন বিজেপির শমীক ভট্টাচার্য। তিনি এককভাবে ৩২টি প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন তৃণমূলের ডেরেক ও’ব্রায়েন, সাকেত গোখলে এবং মহম্মদ নাদিমুল হক। তিনজনেই ৩১টি করে প্রশ্ন করেছেন।

তবে তৃণমূলের তিন রাজ্যসভা সাংসদ সুব্রত বক্সী, মমতাবালা ঠাকুর এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শীতকালীন অধিবেশনে কোনও প্রশ্ন করেননি। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে এটি তাঁর দ্বিতীয়বার রাজ্যসভায় যাওয়া। আগের মেয়াদে তিনি সিপিএমের সাংসদ হিসেবে ৭২৩টি প্রশ্ন করেছিলেন। তবে এ বার শপথ নেওয়ার পর মাত্র পাঁচ দিন অধিবেশনে উপস্থিত থাকার সুযোগ পেয়েছিলেন বলে তিনি কোনও প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারেননি।

বিজেপির অনন্ত মহারাজও এই অধিবেশনে রাজ্যসভায় কোনও প্রশ্ন করেননি।

লোকসভার পরিসংখ্যান

লোকসভায় পশ্চিমবঙ্গের ৪২ জন সাংসদের মধ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে থাকা সাংসদ সুকান্ত মজুমদার এবং শান্তনু ঠাকুর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হওয়ায় তাঁদের কাজ প্রশ্ন করা নয়, বরং প্রশ্নের উত্তর দেওয়া। এছাড়া বসিরহাটের তৃণমূল সাংসদ হাজি নুরুল ইসলামের মৃত্যুতে তাঁর আসন শূন্য। ফলে বাংলার বাকি ৩৯ জন সাংসদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন করেছেন বিজেপির খগেন মুর্মু।

খগেন মুর্মু উত্থাপন করেছেন ২৪টি প্রশ্ন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন তৃণমূলের সৌগত রায়, যিনি ২৩টি প্রশ্ন করেছেন। এর পরের স্থানে রয়েছেন বিজেপির জয়ন্ত রায় এবং তৃণমূলের কীর্তি আজাদ, যাঁরা দু’জনেই ২২টি করে প্রশ্ন করেছেন। দার্জিলিঙের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা ২১টি প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন।

তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তুলেছেন ১০টি প্রশ্ন। তবে শীতকালীন অধিবেশনে অংশ নেওয়া ১৭ জন সাংসদ কোনও প্রশ্ন করেননি। তাঁদের মধ্যে ১৫ জন তৃণমূলের এবং ২ জন বিজেপির।

সিপিএম এবং কংগ্রেসের ভূমিকা

সিপিএমের একমাত্র সাংসদ বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য এই অধিবেশনে মাত্র চারটি প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। যদিও তিনি প্রায় প্রতিটি বিষয়ে নিয়মিত মুখ খোলেন, কিন্তু প্রশ্নোত্তর পর্বে তাঁর সক্রিয়তা ছিল সীমিত। কংগ্রেসের সাংসদদের ভূমিকা আরও কম, যা এই অধিবেশনে তাঁদের সামগ্রিক উপস্থিতিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

উপসংহার

পশ্চিমবঙ্গের সাংসদদের মধ্যে শীতকালীন অধিবেশনে বিজেপি সাংসদদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। তৃণমূলও যথেষ্ট সক্রিয় থাকলেও সংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। তবে কংগ্রেস ও সিপিএমের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত সীমিত।

এতে বোঝা যায়, সংসদীয় প্রশ্নোত্তর পর্বে সক্রিয়তা শুধু রাজনৈতিক দলের অবস্থান নয়, বরং সাংসদের ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও দক্ষতার ওপরও নির্ভর করে।

ভরপেট খাওয়ার পরেও খিদে পেলে কী করবেন? খাই খাই করার বাতিক না অসুখ?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *