যোগাসনে নতুন দিশা দেখাচ্ছে ‘নারায়ণা স্কুলস্’!
শিক্ষা মানেই শুধুমাত্র পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান নয়, তার সঙ্গে থাকা দরকার শারীরিক সক্ষমতা ও মানসিক সুস্থতা—এই বিশ্বাসেই পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘নারায়ণা স্কুলস্’ চালু করেছে যোগাভ্যাস নির্ভর একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি। উদ্দেশ্য একটাই—ভবিষ্যতের প্রজন্মকে সুস্থ, আত্মবিশ্বাসী ও মনোসংযোগে দক্ষ করে গড়ে তোলা।
যোগব্যায়াম বরাবরই শরীর ও মনের মধ্যে সেতুবন্ধনের কাজ করে। শুধু দেহ নয়, মনকেও প্রশান্ত করে, আত্মজ্ঞান জাগিয়ে তোলে। প্রাচীন ভারতীয় ঐতিহ্য হলেও যোগ আজ আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত স্বাস্থ্যচর্চার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। ঠিক এই ভাবনাকে সামনে রেখেই নারায়ণা স্কুল তাদের সমস্ত শাখার শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন রুটিনে যোগাভ্যাসকে নিয়মিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
কেন এই পদক্ষেপ?
বর্তমান সময়ের পড়ুয়ারা পড়াশোনা, প্রতিযোগিতা ও প্রযুক্তির চাপে মানসিক ভারসাম্য হারাতে বসেছে। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যোগা যে একটি কার্যকর হাতিয়ার, তা বারবার প্রমাণিত। তাই শরীরচর্চার বাইরে গিয়েও নারায়ণা স্কুলস্ যোগাসনের মাধ্যমে ছাত্রদের মধ্যে মনোযোগ, ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে চাইছে।
বিদ্যালয়ের অভিমত
স্কুলটির একাডেমিক প্রধান প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় বলেন, “আমাদের কাছে যোগাভ্যাস শুধুই শরীরচর্চা নয়। এটি শিক্ষাদর্শনের অঙ্গ। শিশুদের দৈনন্দিন জীবনে আত্মনিয়ন্ত্রণ, সহানুভূতি এবং মানসিক স্থিতি গঠনে যোগার প্রভাব অপরিসীম।”
অভিজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলী জানিয়েছেন, নিয়মিত যোগা চর্চা পরীক্ষার সময় চাপ নিয়ন্ত্রণ, সহপাঠীদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতনতা বাড়িয়ে তুলছে। ফলে শ্রেণিকক্ষের বাইরে গিয়েও এই অভ্যাস পড়ুয়াদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সাহায্য করছে।
কী থাকছে এই যোগা কর্মসূচিতে?
‘নারায়ণা স্কুলস্’-এর যোগা কর্মসূচিতে রয়েছে—
- যোগাসন (শরীরের নমনীয়তা ও শক্তি বৃদ্ধির জন্য)
- প্রাণায়াম ও শ্বাসনিয়ন্ত্রণ ব্যায়াম (মানসিক প্রশান্তির জন্য)
- ধ্যান ও মননশীলতা চর্চা (মনোযোগ ও আত্মসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য)
শিশুমন বুঝে তৈরি করা হয়েছে প্রতিটি পর্যায়ের যোগাভ্যাস, যাতে ক্লাসের বয়স অনুযায়ী উপযোগী হয় প্রতিটি অনুশীলন। প্রশিক্ষণের দায়িত্বে রয়েছেন এমন সব শিক্ষক, যাঁদের দক্ষতা রয়েছে যোগবিদ্যা ও শিশু মনস্তত্ত্ব উভয় ক্ষেত্রেই।
অন্যদের কাছে অনুপ্রেরণা
আন্তর্জাতিক যোগ দিবসকে কেন্দ্র করে ‘নারায়ণা স্কুলস্’-এর এই প্রয়াস ইতিমধ্যেই অন্য অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে উদ্বুদ্ধ করছে। শুধু একাডেমিক সফলতা নয়, ছাত্রজীবনে ভারসাম্য, স্থিতি ও গভীর আত্মচিন্তন তৈরির একটি নতুন মডেল হিসেবে উঠে আসছে এই প্রয়াস।
সার্বিকভাবে বলা যায়, যোগাভ্যাসের মাধ্যমে নারায়ণা স্কুলস্ কেবল ভবিষ্যতের পড়ুয়াদের আরও মননশীল ও দৃঢ়চেতা করে তুলছে না, বরং শিক্ষার একটি নতুন সংজ্ঞাও গড়ে তুলছে।
কোভিডের পর নতুন আতঙ্ক! ফুসফুস-কিডনি-মস্তিষ্কে হানা দিতে পারে এই মারণ ছত্রাক