শাড়ির প্রথম রোমাঞ্চ থেকে লুকোনো প্রেম!
সরস্বতীপুজো মানেই শুধু বিদ্যার আরাধনা নয়—এ এক কিশোরী বয়সের আবেগ। এক পাড়া থেকে আর এক পাড়ার পুজো দেখা, নতুন বন্ধুত্ব, প্রথম শাড়ি পরার লজ্জা-উত্তেজনা, আর কারও কারও ক্ষেত্রে চুপিচুপি প্রেমের শুরু। কাজের সূত্রে আজ তিন অভিনেত্রীই কলকাতায় ব্যস্ত, কিন্তু বাণীবন্দনার দিনে তাঁরা ফিরে গেলেন নিজেদের ছোটবেলায়—আরাত্রিকা মাইতি, তিয়াসা লেপচা ও অভীকা মালাকার।
তিন জনেই ছোটপর্দার পরিচিত মুখ। আরাত্রিকা ও অভীকা ইতিমধ্যেই বড়পর্দাতেও পা রেখেছেন। তবে তাঁদের শৈশব কেটেছে কলকাতার কোলাহল থেকে অনেক দূরে। আরাত্রিকার বেড়ে ওঠা ঝাড়গ্রামে, তিয়াসা বনগাঁর মেয়ে, আর অভীকার শিকড় উত্তরবঙ্গে। তাই সরস্বতীপুজোর স্মৃতিও তাঁদের কাছে আলাদা রঙে রাঙানো।
আরাত্রিকার কাছে সরস্বতীপুজো মানেই স্কুলের পুজো আর পাড়ার আড্ডা। স্মৃতিচারণায় তিনি বললেন, “ঝাড়গ্রামে আমাদের স্কুলে পুজো হত। সেই দিন বন্ধুরা মিলে পাড়ার পুজোও ঘুরতাম। প্রেম-ট্রেম কিছু হয়নি কখনও। আমার সবচেয়ে আনন্দ হত শাড়ি পরে ঘুরতে। তার উপর তিন-চার দিনের পড়াশোনার ছুটি—ওটাই ছিল আসল পাওনা।” তাঁর কথায়, সেই সময়টা ছিল নির্ভার, একদম নিজের মতো।
তিয়াসার স্মৃতিতে কিন্তু সরস্বতীপুজোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটু দুষ্টুমি। হাসতে হাসতে তিনি স্বীকার করলেন, “পুজো দেখতে যেতাম, খেতাম, আর তার ফাঁকেই লুকিয়ে লুকিয়ে বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে দেখা হত। মাকে জানালে যে কী বকুনি খেতে হত!” বনগাঁর মেয়ের কাছে সরস্বতীপুজো মানে ছিল স্বাধীনতার ছোট্ট স্বাদ—বন্ধুদের সঙ্গে বেরোনো আর মনচোরার মুহূর্ত।
অভীকার অভিজ্ঞতা আবার খানিক আলাদা। তাঁর স্কুলে কখনও সরস্বতীপুজো হত না। “আমি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়তাম,” বললেন তিনি। “তবে পাড়ার কয়েকটা পরিবার মিলে আমাদের বাড়িতেই পুজো হত। মা-বাবা, ঠাকুমা—সবাই মিলে আয়োজন করতেন। আত্মীয়-পরিজনের ভিড় লেগে থাকত।” এখন কাজের জন্য কলকাতায় থাকলেও সেই বাড়ির পুজোর জন্য মন কেমন করে তাঁর। “এ বছর সত্যিই খুব মিস করব,” আক্ষেপ লুকোল না গলায়।
সময় বদলেছে, জীবন এগিয়েছে। কিন্তু শাড়ির প্রথম রোমাঞ্চ, বন্ধুত্বের উচ্ছ্বাস আর লুকোনো প্রেমের উত্তেজনা—সরস্বতীপুজোর সেই কিশোরীবেলার স্মৃতি আজও তিন অভিনেত্রীর মনে ঠিক তেমনই উজ্জ্বল।
‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা