প্রিয়াংশুর আত্মপক্ষ: প্রেম নেই, পার্টি নেই, উন্নতির সংজ্ঞাও আলাদা!

প্রেম নেই, পার্টি নেই, উন্নতির সংজ্ঞাও আলাদা! নীল সিক্যুইন-পাঞ্জাবিতে গা-ঢলে সোফায় বসা একান্ত নির্লিপ্ত প্রিয়াংশু চট্টোপাধ্যায় যেন এক নিঃশব্দ উপস্থিতি। ২০০১ সালের ‘তুম বিন’-এর রোমান্টিক নায়ক এখন বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে ফিরেছেন…

June 16, 2025
1 min read

প্রেম নেই, পার্টি নেই, উন্নতির সংজ্ঞাও আলাদা!

নীল সিক্যুইন-পাঞ্জাবিতে গা-ঢলে সোফায় বসা একান্ত নির্লিপ্ত প্রিয়াংশু চট্টোপাধ্যায় যেন এক নিঃশব্দ উপস্থিতি। ২০০১ সালের ‘তুম বিন’-এর রোমান্টিক নায়ক এখন বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে ফিরেছেন ‘রবীন্দ্র কাব্য রহস্য’ ছবিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চরিত্রে। আর সেই ফাঁকেই খুলে বললেন নিজের দীর্ঘ অভিনয় সফরের অভিজ্ঞতা, তির্যক উপলব্ধি আর একরাশ নির্লিপ্ত ব্যঙ্গ।

প্রিয়াংশুর মতে, তিনি কোনও ইঁদুর দৌড়ে নেই। “ডাক পেলে যাই, চরিত্র পছন্দ হলে করি। ব্যবসায়িক হিসেব বা হিট-ফ্লপের চিন্তা মাথায় রাখি না।”

রবীন্দ্রনাথ হলেন কীভাবে?

পরিচালক সায়ন্তন ঘোষাল আর প্রযোজক হিমাংশু ধানুকা মিলে তাঁকে বোঝান, রবীন্দ্রনাথের চরিত্রে প্রিয়াংশুই সেরা পছন্দ। ‘‘স্বপ্নেও ভাবিনি এই চরিত্রে অভিনয় করব,’’ বলেন অভিনেতা। যদিও তিনি স্পষ্ট জানান, এটা কোনও জীবনীচিত্র নয়, একটি থ্রিলার। তাই রবীন্দ্রনাথের চরিত্রে তিনি যতটা প্রয়োজন, ততটাই হয়েছেন। ‘‘আমি রবীন্দ্রনাথের চেহারায়, নয় রচনায়!’’

‘তুম বিন’–এর গন্ধ এখনো গায়ে কেন?

প্রিয়াংশুর সহজ স্বীকারোক্তি, ‘তুম বিন’ তাঁদের প্রত্যেকের প্রথম ছবি ছিল বলেই আজও মানুষ মনে রেখেছে। “ভাল ছবি তৈরি হয়ে যায়, এটা পরিকল্পনা করে বানানো যায় না,” বলেন তিনি। তবে আফশোস নেই। এমনকি, নিজের ‘আধা হারিয়ে যাওয়া’ ক্যারিয়ার নিয়েও অনুযোগ নেই তাঁর। বরং রসিকতায় বলেন, “কেউ যদি একটা প্রেম ঘটিয়ে দেন!”

বিনোদন জগৎ কি বদলে গিয়েছে?

হ্যাঁ, এবং সেটা প্রিয়াংশুর মতে সম্পূর্ণ টেকনোলজির প্রভাবে। “আগে ২০ বার মহড়া হত, ক্যামেরা চালু হওয়ার আগে মন তৈরি হত। এখন ক্যামেরা তো সব সময় অন। কারা কখন কী রেকর্ড করছে বলা মুশকিল।” অভিনয় এখন যেন ২৪x৭ রেকর্ডেড বাস্তব।

অভিনয় না গসিপ?

“না, আমার জীবনে কোনও গসিপ নেই,” বলে হেসে ফেলেন অভিনেতা। “আমি পার্টি করি না, প্রেম করিনি। আমি তারকা নই, চরিত্রাভিনেতা। বাড়ি ফিরলেই চুপচাপ ঘুম।” তবে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় একটা ব্যাখ্যা স্পষ্ট, “কোটির ঘরে ছবি, সুদর্শনা নায়িকা— এগুলোই কি উন্নতির মাপকাঠি? আমি বলি, ধারা বদলাতে না পারলে উন্নতি কীসের?”

দর্শকের দিকে চাওয়া

নিজেকে কত নম্বর দেবেন জানতে চাইলে ফের হাসি: “দর্শকই বলুক। আমি পাশ করব, এটুকু ভরসা আছে।”

এই এক চুপচাপ, সংযত, বুদ্ধিদীপ্ত শিল্পী। চটকদার আলোয় না থাকলেও প্রতিটি সংলাপ আর চরিত্রে তিনি আলাদা করে জায়গা করে নিতে পারেন। ‘রবীন্দ্র কাব্য রহস্য’ তাঁর জন্য নতুন যাত্রা—আরও একবার নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ।

ইংল্যান্ড সফরের আগে শুভমনকে সৌরভের দুটি জরুরি পরামর্শ

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *