প্রিয়ঙ্কা চোপড়ার হৃদয়ের স্পর্শ!
প্রিয়ঙ্কা চোপড়া—যাকে আমরা গ্ল্যামারের দুনিয়ার আলোতে দেখেছি, সেই একই প্রিয়ঙ্কাকে এবার ভিন্ন রূপে দেখলেন ভক্তরা। বিদেশ থেকে এসে তিনি পরেছেন শাড়ি, মাথায় ঘোমটা, আর হাতে নিয়ে স্বর্ণমন্দিরের বাসন। কী কারণে এই হঠাৎ বদলে যাওয়া জীবনধারা?
সম্প্রতি ‘বারাণসী’ ছবির শুটিং করতে ভারতে ফেরেন প্রিয়ঙ্কা। শুটিংয়ের ফাঁকে তিনি পঞ্জাবের অমৃতসরে গিয়ে স্বর্ণমন্দিরে সেবা করেন। মাটির বাসন মাজা, রান্নাঘরের কাজ—এগুলো স্বাভাবিক জীবনধারার ছোট খুশি, কিন্তু তার মাধ্যমে প্রিয়ঙ্কা যে মনের শান্তি খুঁজছেন, তা স্পষ্ট। তিনি সামাজিক মাধ্যমে সেই মুহূর্তের ছবি ভাগ করে নেন। ছবিতে দেখা যায়, হাতে ডালমাখানি, পরোটার মতো খাবার, আর মুখে খুশির হাসি—সেই ছোট্ট মুহূর্তের আনন্দই হয়তো তাঁকে ভীষণ প্রফুল্ল করে।
১২ বছর ধরে লস অ্যাঞ্জেলসে সংসার এবং কাজের ব্যস্ততায় ছিলেন প্রিয়ঙ্কা। বলিউড, হলিউড—সকলের মাঝে দৌড়ে তার গ্ল্যামার জীবন। তারপরও এই ধরণের স্থানীয়, হালকা-হাতের কাজের সঙ্গে যুক্ত হওয়া তাকে মনে করিয়ে দেয় দেশের মাটির সাথে সম্পর্ক। সম্প্রতি প্রিয়ঙ্কা জানিয়েছেন, ‘বারাণসী’ ছবির শুটিং শেষ করতে আরও সাত মাস লাগবে। তাঁর ভাষায়, “আমি ভারতীয় ছবি পছন্দ করি। ‘বারাণসী’তে কাজ করে আমি খুশি।”
এই ছবি হিন্দি নয়, দক্ষিণী চলচ্চিত্র। ১২ বছর পর ভারতীয় ছবিতে প্রত্যাবর্তন হলেও প্রিয়ঙ্কার প্রেম শুধু ভক্তদের নয়, সিনেমার প্রতি। বলিউড এবং দক্ষিণী ছবির মধ্যে বেছে নিতে চাইলে তিনি জানান, “আমি দুটোর মধ্যে একটিকে বেছে নিতে পারবই না। আমার দুই জায়গাতেই কাজ করতে ভাল লাগে।” এটি প্রিয়ঙ্কার বহুমাত্রিকতা এবং প্রতিটি সিনেমার প্রতি তাঁর ভালোবাসা দেখায়।
শোনা গিয়েছে, ‘জাজমেন্ট ডে’ ছবিতেও কাজ করছেন প্রিয়ঙ্কা, আর ‘কৃষ ৪’-এর সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত নিজেই নিশ্চিত করে কিছু বলেননি। শুটিং শুরু হয়েছিল চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে, আর প্রথম ঝলক ইতিমধ্যেই সাড়া ফেলেছে। এই ছবি প্রিয়ঙ্কার কাছে শুধু কাজ নয়, নিজের দেশে ফিরে আবার শিল্পের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আনন্দও।
সারাংশে বলা যায়, প্রিয়ঙ্কা চোপড়ার এই ছোট্ট, মানসিক শান্তির মুহূর্ত আমাদের মনে করিয়ে দেয়—যে কেউ, যত বড় তার গ্ল্যামার জীবনই হোক, নিজের মাটির সঙ্গে সংযোগ, দেশীয় ঐতিহ্য আর সেবা করার আনন্দের চেয়ে বড় কিছু নেই। শাড়িতে, ঘোমটায়, আর স্বর্ণমন্দিরের বাসন মাজার মধ্য দিয়ে প্রিয়ঙ্কা চোপড়া জানাচ্ছেন—ভালোবাসা, শান্তি, আর দেশের প্রতি সেবা কখনও হারায় না।
শেষ লড়াইয়ের গল্প: জল থেকে তোলার পরও বেঁচে ছিলেন রাহুল, তবু বাঁচানো গেল না