পুরভোটের আগে কাউন্সিলরদের কড়া বার্তা তৃণমূলের!
আগামী বছর পুরসভা নির্বাচন। তার আগে থেকেই শহরাঞ্চলের তৃণমূল কাউন্সিলরদের জন্য স্পষ্ট বার্তা—বিধানসভা ভোটে পারফরম্যান্সই ঠিক করবে তাঁদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ। সরাসরি না বললেও, দলের অন্দরে এখন একটাই সমীকরণ ঘুরছে: “লিড দাও, টিকিট পাও।”
সম্প্রতি ভবানীপুরে এক কর্মিসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee কাউন্সিলরদের সতর্ক করেন। সেই সভায় উপস্থিত ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক Abhishek Banerjee-ও। দু’জনেই স্পষ্ট করে দেন—কে কতটা কাজ করছেন, তার উপর কড়া নজর রাখা হবে। তবে এই বার্তা শুধু ভবানীপুরে সীমাবদ্ধ নয়, ইতিমধ্যেই তা ছড়িয়ে পড়েছে গোটা রাজ্যের শহরাঞ্চলে।
দলের ভেতরের সূত্র বলছে, এবার কাউন্সিলরদের ‘পরীক্ষা’ নেওয়া হবে তাঁদের নিজস্ব ওয়ার্ডে বিধানসভা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর লিডের ভিত্তিতে। কোথাও ফোনে, কোথাও আবার প্রকাশ্য সভায় এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি, পরামর্শদাতা সংস্থা Indian Political Action Committee-এর মাধ্যমেও প্রতিটি ওয়ার্ডের খুঁটিনাটি হিসাব রাখা হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে।
এই কঠোর অবস্থানের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা। গত লোকসভা নির্বাচনে শহরাঞ্চলে তৃণমূলের ফল আশানুরূপ হয়নি। বহু পুর এলাকায় বিজেপি এগিয়ে ছিল। ফলে বিধানসভা ভোটে সেই ঘাটতি পুষিয়ে নিতে মরিয়া শাসকদল। দলের এক শীর্ষ নেতার কথায়, “পুরভোটে কাউন্সিলররা যে পরিশ্রম করেন, অন্য ভোটে তা দেখা যায় না। এ বার সেই মানসিকতা বদলাতে হবে।”
দলের সহ-সভাপতি Joyprakash Majumdar-ও জানিয়েছেন, সময়ের সঙ্গে দলের কাঠামো বদলেছে। তাই এখন পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে পুরস্কার বা তিরস্কার—এই নীতি আরও জোরদার করা হচ্ছে।
তবে বাস্তবের অঙ্কটা এত সহজ নয় বলেই মনে করছেন অনেকে। পুরসভা নির্বাচনে স্থানীয় ইস্যুই মুখ্য থাকে, কিন্তু বিধানসভা বা লোকসভা ভোটে রাজ্য বা জাতীয় প্রেক্ষাপট বড় ভূমিকা নেয়। ফলে একই লিড ধরে রাখা সবসময় সম্ভব হয় না। তবুও দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই যুক্তি মানতে নারাজ। তাঁদের লক্ষ্য—প্রতিটি স্তরে সংগঠনকে আরও সক্রিয় করা।
এই চাপের আরেকটি দিকও রয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, বহু এলাকায় কাউন্সিলরদের ঘিরে একটি শক্তিশালী ‘অর্থনৈতিক ও সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক’ তৈরি হয়েছে। সেই নেটওয়ার্কই নির্বাচনের সময়ে দলের সবচেয়ে বড় ভরসা। তাই তাঁদের সক্রিয় রাখতেই এই বার্তা।
যদিও অনেকেই বলছেন, এই চাপ অমানবিক নয়। উদাহরণ হিসেবে এক তৃণমূল সাংসদের বক্তব্য—“সব জায়গায় একই মাপকাঠি নয়। যেখানে বিজেপি শক্তিশালী, সেখানে সামান্য পিছিয়ে থাকলেও চলবে, কিন্তু সীমা আছে।”
সব মিলিয়ে স্পষ্ট, তৃণমূল এখন সংগঠনকে আরও ফলাফলমুখী করতে চাইছে। পুরভোটের আগে তাই কাউন্সিলরদের জন্য ‘ওয়ার্নিং বেল’ বেজে গিয়েছে। এবার দেখার, বিধানসভার দাঁড়িপাল্লায় কে কতটা ভারী প্রমাণ করতে পারেন নিজেকে।