বলিউডে সুনীতা রাজওয়ারের যাত্রাপথ!
ট্রাকচালকের মেয়ে থেকে আজকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী—সুনীতা রাজওয়ারের জীবন ঠিক এমনই এক সিনেমার গল্পের মতো। উত্তরপ্রদেশের রায়বরেলীতে জন্ম, বেড়ে ওঠা হলদোয়ানিতে। ছোটবেলা থেকেই বাবার পেশা নিয়ে লজ্জা পেতেন তিনি। স্কুলে সহপাঠীদের কাছে বাবার পরিচয় লুকোতে হতো। অথচ সেই বাবার ট্রাক চালানোর টাকাতেই ভাল স্কুলে পড়ার সুযোগ পেয়েছিলেন সুনীতা।
নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামায় পড়া, তারপর মাত্র তিরিশ হাজার টাকা হাতে নিয়ে পা রাখেন মুম্বইয়ে। শুরুতে ছোটখাটো চরিত্রেই আটকে গিয়েছিল তাঁর কেরিয়ার। ‘ইয়ে রিশতা ক্যা কহলাতা হ্যায়’-তে ধনিয়া চরিত্রে প্রথম একটু পরিচিতি পেলেও, সেখানেই যেন থেমে গিয়েছিল সব। বাড়ির কর্মসহায়কের ভূমিকায় কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। তিনি নিজেই বলেছিলেন—একই ধরনের চরিত্রে এত কাজ করেছেন যে, গিনেস বুকে নাম তোলার মতো অবস্থা হয়েছিল!
নওয়াজ়উদ্দিন সিদ্দিকির সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও শিরোনামে উঠে এসেছিলেন একসময়। মুম্বইয়ে নাটক করতে গিয়েই তাঁদের পরিচয়। প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও, মতবিরোধের কারণে সেই সম্পর্কে ইতি টানেন সুনীতা। পরে নওয়াজ়উদ্দিন তাঁর আত্মজীবনীতে বিষয়টি উল্লেখও করেন। তবে সুনীতার মতে, ব্যক্তিত্বের অমিল ছিল বলে তিনিই সম্পর্ক ভেঙেছিলেন।
২০১৯ সালে ওটিটিতে ‘গুল্লক’ সিরিজের মাধ্যমে ফের খ্যাতির মুখ দেখেন। এরপর ‘পঞ্চায়েত’-এর ‘ক্রান্তি দেবী’ চরিত্র তাঁকে দেশের ঘরে ঘরে পরিচিত করে দেয়। পঞ্চায়েতের সাফল্যের পরে কান চলচ্চিত্র উৎসবে পা রাখেন তিনি, ‘সন্তোষ’ ছবির দৌলতে। সিনেমায় তাঁর অভিনীত চরিত্র অস্কারে মনোনীত হয়। সেই ছোট শহরের মেয়েটি যেন স্বপ্ন ছুঁয়ে ফেলেন।
কিন্তু এই সাফল্যের আড়ালে বলিউডের অন্ধকার দিকও আছে। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে সুনীতা বলেন, ছোট চরিত্রে অভিনয় করা শিল্পীদের সঙ্গে ‘পশুর মতো’ আচরণ করা হয়। নায়ক-নায়িকারা সমস্ত সুবিধা পান, আর সহ-অভিনেতারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থাকেন, নোংরা ঘরে বসে থাকতে হয়, এমনকি শৌচালয়েরও ঠিকঠাক ব্যবস্থা থাকত না।
এমন পরিস্থিতিতে তিনি ২০১৩ সালে অভিনয় ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন। সিনে অ্যান্ড টিভি আর্টিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যপদ বাতিল করার সিদ্ধান্তও নিয়েছিলেন। তখন পাশে দাঁড়ান নীনা গুপ্তা। ‘পঞ্চায়েত’-এর মঞ্জু দেবী এবং সুনীতার বন্ধুত্ব বাস্তবেও অটুট। অভিনয় থেকে সরে গিয়ে মাসাবা গুপ্তার ম্যানেজার হিসেবেও কাজ করেছেন সুনীতা।
২০১৫ সালে আবার ফিরেছিলেন অভিনয়ে। এবং আজকের দিনে তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন, প্রতিভা আর ধৈর্য থাকলে, শেষ পর্যন্ত সাফল্য আসবেই। সুনীতার মতে, অনেক শিল্পীই জীবিকা নির্বাহের তাগিদে একই ধরনের চরিত্রে আটকে যান। কিন্তু সেই আবর্ত ভেঙে বেরোনোই আসল চ্যালেঞ্জ।
বলিউডের রঙিন জগতে সুনীতা রাজওয়ারের এই যাত্রা শুধু একজন অভিনেত্রীর গল্প নয়, এটি সংগ্রাম, আত্মসম্মান আর শেষ পর্যন্ত নিজেকে খুঁজে পাওয়ার কথা।
ক্রিকেটার চাহালের সঙ্গে নাম জড়ানো আরজে মাহবিশের নতুন চমক, কিনে নিলেন নিজস্ব ক্রিকেট দল!