‘সবচেয়ে বড়’ রণতরী ধ্বংস, ভাইরাল ভয়াবহ বিস্ফোরণের ভিডিও
রাশিয়া ও ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল এক বিস্ফোরক ঘটনার মাধ্যমে। রুশ সমুদ্র-ড্রোনের হামলায় ধ্বংস হয়ে গেল ইউক্রেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ‘বৃহত্তম’ যুদ্ধজাহাজ— ‘সিম্ফেরোপল’। এই হামলার একটি ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে, যা ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়ে গেছে বিভিন্ন মাধ্যমে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এটি ছিল ইউক্রেনের নৌবাহিনীর বিরুদ্ধে সমুদ্র-ড্রোন ব্যবহারে রাশিয়ার প্রথম সফল অপারেশন। ইউক্রেনও স্বীকার করেছে, হামলায় তাদের একটি রণতরী সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়েছে। যদিও ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি, তবুও দৃশ্যটি যথেষ্ট ভয়াবহ ও চাঞ্চল্যকর।
কীভাবে হামলা হল?
রুশ সেনার দেওয়া তথ্যানুসারে, মধ্য আকৃতির লগুনা-শ্রেণির যুদ্ধজাহাজটি দায়িনুব নদীর ব-দ্বীপ অঞ্চলে অবস্থান করছিল। সেই সময়ই রাশিয়ার ড্রোন আঘাত হানে। জাহাজটি মুহূর্তের মধ্যে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণে জর্জরিত হয়ে যায় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই ডুবে যায়।
ইউক্রেনের প্রতিক্রিয়া ও ক্ষয়ক্ষতি
‘সিম্ফেরোপল’ যুদ্ধজাহাজটি ২০১৯ সালে নির্মাণ কাজ শুরু করে এবং ২০২১ সাল নাগাদ ইউক্রেনীয় নৌবাহিনীতে যুক্ত হয়। একে দেশের ‘সবচেয়ে বড়’ রণতরী বলে বর্ণনা করেছে একাধিক সংবাদমাধ্যম। ইউক্রেনের নৌবাহিনীর এক মুখপাত্র জানান, এই হামলায় একজন নৌসেনা নিহত হয়েছেন এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি কিছু নৌসেনা এখনও নিখোঁজ। তাদের উদ্ধারে তৎপরতা চলছে।
তার কথায়, “আমরা এখনও পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বেশিরভাগ ক্রু নিরাপদে রয়েছেন, তবে কিছুজনের এখনও সন্ধান মেলেনি।”
রাশিয়ার নতুন যুদ্ধকৌশল: ড্রোন হামলা
এই হামলা যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার এক নতুন কৌশলের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সমুদ্র-ড্রোন ব্যবহারে রাশিয়া যে কতটা এগিয়ে গিয়েছে, তার এক বাস্তব উদাহরণ এই হামলা। শুধু আকাশপথে নয়, এখন রাশিয়া সমুদ্রপথেও ড্রোন প্রযুক্তির বিস্তারে জোর দিচ্ছে।
সম্প্রতি রাশিয়া মানববিহীন ড্রোন নির্মাণে আরও বেশি করে নজর দিয়েছে। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে শত্রুপক্ষকে ঘায়েল করার লক্ষ্য স্পষ্ট।
জনপ্রিয়তার শীর্ষে ভিডিওটি
হামলার ভিডিওটি ‘আরটি’ নামের এক্স (প্রাক্তন টুইটার) হ্যান্ডল থেকে পোস্ট করা হয়। মুহূর্তেই তা ছড়িয়ে পড়ে। লাখ লাখ মানুষ ভিডিওটি দেখে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। কেউ কেউ রাশিয়ার এই সাফল্যকে প্রশংসা করছেন, আবার কেউ আবার যুদ্ধের নৃশংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ক্রমেই আরও জটিল ও প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে। একদিকে সামরিক শক্তির লড়াই, অন্যদিকে যুদ্ধের মানসিক ও মানবিক মূল্য—সব মিলিয়ে এই সংঘর্ষ আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
ছবিমুক্তির আগেই কোটির ঘরে নন্দিতা-শিবপ্রসাদ! টলিউডে বাজিমাত এই জুটির