রুশ অধিকৃত দ্বীপ ফেরতের দাবি, পরমাণু শক্তি নিয়ে জল্পনা!
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দীর্ঘদিন ধরে শান্তিবাদী নীতি অনুসরণ করলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাপানের প্রতিরক্ষা কৌশলে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। একদিকে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা বিতর্কিত দ্বীপপুঞ্জ ফেরত চাওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে, অন্যদিকে চীনের সঙ্গে আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং তাইওয়ান ইস্যুতে অবস্থান স্পষ্ট করায় টোকিয়োকে ঘিরে নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনা শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি জাপানের বিরোধী নেতা তারো ইয়ামামতো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষে সোভিয়েত ইউনিয়নের দখলে চলে যাওয়া কুরিল দ্বীপপুঞ্জের চারটি দ্বীপ ফেরত দেওয়ার দাবি তুলেছেন। জাপান এই অঞ্চলকে “উত্তরাঞ্চলীয় দ্বীপপুঞ্জ” বলে উল্লেখ করে, আর রাশিয়া সেগুলিকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে এই ভূখণ্ড নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন চলছেই।
জাপানের দাবি, ইতুরুপ, কুনাশির, শিকোতান এবং হাবোমাই দ্বীপ ঐতিহাসিকভাবে তাদের অংশ ছিল। তবে রাশিয়া কখনওই এই দাবি মেনে নেয়নি। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধের পর মস্কো-টোকিয়ো সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়ে ওঠায় এই বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে।
শুধু রাশিয়া নয়, চীনের সঙ্গেও জাপানের সম্পর্ক বর্তমানে বেশ উত্তপ্ত। তাইওয়ানকে ঘিরে বেইজিংয়ের অবস্থানের বিরোধিতা করেছে টোকিয়ো। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাইওয়ানের নিরাপত্তা প্রশ্নে প্রয়োজন হলে জাপান পাশে দাঁড়াবে। এর জেরে পূর্ব চীন সাগরে সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে জাপান নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে জোর দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং ফিলিপিন্সের সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্র নির্মাণ এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে বিনিয়োগও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে জাপানের পরমাণু সক্ষমতা নিয়ে। চীনের কিছু সামরিক বিশ্লেষকের দাবি, জাপানের কাছে বর্তমানে বিপুল পরিমাণ প্লুটোনিয়াম মজুত রয়েছে। তাত্ত্বিকভাবে সেই মজুত ব্যবহার করে কয়েক হাজার পরমাণু অস্ত্র তৈরি করা সম্ভব। যদিও জাপান বরাবরই পরমাণু অস্ত্র-বিরোধী অবস্থানে থেকেছে এবং তাদের সরকারি নীতিতেও আণবিক অস্ত্র তৈরির অনুমতি নেই।
বিশেষজ্ঞদের একাংশ অবশ্য মনে করেন, প্লুটোনিয়াম মজুত থাকলেই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করা সম্ভব নয়। তার জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, সামরিক অবকাঠামো এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি। বর্তমানে জাপানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বড় অংশই যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ছাতার উপর নির্ভরশীল।
তবু ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা দ্রুত বদলাচ্ছে। রাশিয়ার সঙ্গে দ্বীপ-বিতর্ক, চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক উপস্থিতি এবং তাইওয়ান প্রশ্নে উত্তেজনার মধ্যে জাপান যে নিজের প্রতিরক্ষা নীতিকে নতুনভাবে সাজাতে শুরু করেছে, তা স্পষ্ট। এক সময়ের ‘শান্তিবাদী’ জাপান এখন এশিয়ার নিরাপত্তা সমীকরণে ক্রমশ আরও গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রভাবশালী শক্তি হয়ে উঠছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?