রাশিয়ার তেলে ভারতের ‘না’ কি সত্যি?
রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে ভারতকে ঘিরে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে। আমেরিকার রাজনীতিক মহলে আলোচনায় রয়েছে এমন একটি বিল, যেখানে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা দেশগুলির উপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানোর প্রস্তাব রয়েছে। রিপাবলিকান নেতা লিন্ডসে গ্রাহাম ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই এই বিল মার্কিন আইনসভায় পেশ হতে চলেছে।
কিন্তু প্রশ্ন একটাই— ভারত কি সত্যিই রাশিয়া থেকে তেল কেনা কমিয়েছে, না কি পুরোপুরি বন্ধ করেছে?
ভারত কিংবা রাশিয়া— কেউই এখনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি। তবু মার্কিন প্রশাসনের দাবি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারির পর নয়াদিল্লি রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করেছে। এই বক্তব্যে আবারও জোর দিয়েছেন মার্কিন অর্থসচিব স্কট বেসেন্ট। তাঁর কথায়, ৫০০ শতাংশ শুল্কের হুমকি এবং ভারতীয় পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের পরই ভারত বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বেসেন্ট শুধু ভারত নয়, নিশানা করেছেন চিন ও ইউরোপকেও। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ভারত রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করলেও ইউরোপীয় দেশগুলি তা চালিয়ে যাচ্ছে।” পাশাপাশি তিনি জানান, রাশিয়ার সবচেয়ে বড় তেল-ক্রেতা এখন চিন। সেই কারণেই চিনের উপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনাও অনেক দিন ধরেই করছে আমেরিকা।
লিন্ডসে গ্রাহামের ব্যাখ্যা আরও স্পষ্ট। তাঁর মতে, এই বিল পাশ হলে যে সব দেশ সস্তায় রাশিয়ার তেল কিনে ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধনীতিকে পরোক্ষ ভাবে সাহায্য করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সেই তালিকায় চিন, ব্রাজিলের সঙ্গে ভারতের নামও রয়েছে।
তবে স্কট বেসেন্ট মনে করেন, ভারতের সাম্প্রতিক অবস্থান দেখে তাদের উপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক চাপানো নাও হতে পারে। যদিও শেষ সিদ্ধান্ত যে ট্রাম্পের হাতেই, সেটাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।
এ দিকে বাস্তবে ভারত ইতিমধ্যেই রাশিয়া থেকে অশোধিত তেল কেনার জন্য শাস্তিস্বরূপ ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্কের মুখে পড়েছে। ফলে আমেরিকায় ভারতীয় পণ্যের মোট শুল্কের হার এখন ৫০ শতাংশ। তবু নয়াদিল্লির অবস্থান পরিষ্কার— দেশের সাধারণ মানুষের স্বার্থই আগে। কোন দেশ থেকে কত কম দামে তেল পাওয়া যাচ্ছে, সেই বাস্তব হিসাব মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
৫০০ শতাংশ শুল্কের বিল নিয়ে ভারত আগেই জানিয়েছে, বিষয়টি তারা গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে। বিলের অগ্রগতি, রাজনৈতিক সমীকরণ এবং ভবিষ্যৎ প্রভাব— সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, রাশিয়ার তেল নিয়ে ভারতের অবস্থান এখন কূটনৈতিক দাবার বোর্ডের সবচেয়ে স্পর্শকাতর ঘুঁটি। এক দিকে আমেরিকার চাপ, অন্য দিকে দেশের জ্বালানি চাহিদা— এই দুইয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে ভারতের সিদ্ধান্তই ঠিক করবে, ৫০০ শতাংশ শুল্কের খাঁড়া আদৌ নামবে কি না, নাকি তা শুধু হুমকিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা