“ডুমসডে রেডিয়ো” ফের জেগে উঠল!!
প্রায় ৫৫ বছর ধরে পৃথিবীর আকাশে ভেসে চলেছে এক অদ্ভুত শব্দ— একঘেয়ে গুঞ্জন, মাঝেমধ্যে ভেঙে পড়া কিছু অস্পষ্ট শব্দ, সংখ্যা আর নাম। রাশিয়ার এই রহস্যময় স্বল্পদৈর্ঘ্যের বেতারতরঙ্গের নাম ইউভিবি-৭৬, যা বিশ্বজুড়ে পরিচিত “ডুমসডে রেডিয়ো” বা “দ্য বাজার রেডিয়ো” নামে। সাম্প্রতিক দিনে হঠাৎ করে এই তরঙ্গ থেকে একের পর এক সাঙ্কেতিক বার্তা ভেসে আসায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।
১৯৭০-এর দশকে ঠান্ডা যুদ্ধের সময় চালু হওয়া এই রেডিয়ো স্টেশন সাধারণত প্রতি মিনিটে বারবার একটানা গুঞ্জনের শব্দ সম্প্রচার করে। সেই শব্দ ১ থেকে ১.২ সেকেন্ড স্থায়ী হয়। মাঝেমধ্যে সেই একঘেয়েমি ভেঙে ভেসে আসে রুশ উচ্চারণে কিছু আলফানিউমেরিক কোড, অচেনা শব্দ বা দেশের নাম। ঠিক এই কারণেই এটি ঘিরে জন্ম নিয়েছে অজস্র রহস্য ও ষড়যন্ত্রতত্ত্ব।
গত বছরের ১৭ নভেম্বর, মস্কোর সময় দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে এই রেডিয়ো থেকে ভেসে আসে একাধিক শব্দ— যার মধ্যে ডিকোড করে পাওয়া যায় “লাটভিয়া” নামটি। সঙ্গে ছিল এনজ়েডএইচটিআই, ১৫৮৫৪, ৫৮৯৪, ৪১৬৭, গ্যালভানাইজ়ার-এর মতো শব্দ। এই বার্তাগুলি ছ’টি ভাগে সম্প্রচারিত হয়। ফলে অনেকেই মনে করছেন, এটি কোনও সামরিক প্রস্তুতির সংকেত।
লাটভিয়া নেটোভুক্ত দেশ। ফলে রাশিয়া যদি সেখানে হামলা চালায়, তা নেটোর পাঁচ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সমস্ত সদস্য দেশের উপর আক্রমণ হিসেবে ধরা হবে। আর সেই পরিস্থিতি থেকেই শুরু হতে পারে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ— এমন আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।
তবে রাশিয়ার তরফে এই সম্প্রচারের কোনও সরকারি ব্যাখ্যা এখনও দেওয়া হয়নি। পশ্চিমি বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, ইউভিবি-৭৬ আসলে রুশ সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন একটি চ্যানেল। যুদ্ধ বা জরুরি অবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ বজায় রাখতেই এটিকে সক্রিয় রাখা হয়। আবার কেউ কেউ মনে করেন, এটি রাশিয়ার স্বয়ংক্রিয় প্রতিশোধমূলক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘পেরিমিটার সিস্টেম’-এর সঙ্গে যুক্ত।
লন্ডনের সিটি ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ডেভিড স্টাপলসের মতে, এই রেডিয়ো তরঙ্গ মূলত একটি সামরিক যোগাযোগ চ্যানেল সংরক্ষণের মাধ্যম। বড় কোনও সংঘাত বা জাতীয় বিপর্যয়ের সময় এটি সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারে।
রহস্য আরও ঘনীভূত হয়, যখন এই স্টেশনে ‘সোয়ান লেক’ ব্যালে সংগীত এবং পুরনো সোভিয়েত গান সম্প্রচারিত হয়— যা ইতিহাসে মাত্র কয়েকবার ঘটেছে। অতীতে এই গান শোনা গিয়েছিল রাশিয়ায় বড় রাজনৈতিক সংকটের সময়।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর সময়েও এই রেডিয়ো থেকে অস্বাভাবিক হারে বার্তা পাঠানো হয়েছিল বলে দাবি করেছেন বেতারতরঙ্গ বিশ্লেষকেরা। তাই নতুন করে এর সক্রিয়তা অনেককেই উদ্বিগ্ন করছে।
তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে— এগুলি কি সত্যিই পারমাণবিক যুদ্ধের পূর্বাভাস, না কি নিছক সামরিক পরীক্ষার অংশ? স্পষ্ট উত্তর এখনও নেই। কিন্তু একথা মানতেই হবে, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার এই সময়ে “ডুমসডে রেডিয়ো”-র প্রতিটি শব্দই বিশ্বকে আরও একটু করে শঙ্কিত করে তুলছে।
রহস্যের এই বেতারতরঙ্গ তাই আজও অজানা, অমীমাংসিত— আর ভয় ধরানো এক নীরব সতর্কবার্তা হয়ে রয়ে গেছে মানবসভ্যতার জন্য।
‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা