রাম হয়ে ওঠার লড়াই!
বড়পর্দায় রামচন্দ্রকে ফুটিয়ে তোলা মানেই শুধু অভিনয় নয়, এক ধরনের সাধনা। এই মুহূর্তে সেই সাধনার দৌড়ে নাম লিখিয়েছেন দুই প্রথম সারির তারকা—রণবীর কপূর ও মহেশ বাবু। এক জন বলিউডের, অন্য জন দক্ষিণী ছবির সুপারস্টার। দু’জনের পথ আলাদা, প্রস্তুতির ধরনও আলাদা। কিন্তু লক্ষ্য একটাই—পর্দায় এমন এক রামকে তুলে ধরা, যাঁর মধ্যে থাকবে শক্তি, সংযম আর আধ্যাত্মিকতা।
নিতেশ তিওয়ারির ‘রামায়ণ’ ছবির জন্য রণবীর কপূর গত বছর থেকেই নিজেকে ভেঙে গড়ার কাজে নেমেছেন। শোনা যায়, চরিত্রের প্রতি শ্রদ্ধা আর দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি মদ ও মাংস ছেড়ে দিয়েছেন। জীবনযাপনের এই পরিবর্তনই নাকি তাঁকে মানসিক ভাবে রামের চরিত্রের কাছাকাছি নিয়ে যেতে সাহায্য করছে। শুধু শরীরচর্চা নয়, মনকেও সংযত করার চেষ্টা করছেন অভিনেতা—এমনটাই বলিউড সূত্রের দাবি।
অন্য দিকে, এস এস রাজামৌলির পরিচালনায় ‘বারাণসী’ ছবিতে রামচরিত্রে দেখা যাবে মহেশ বাবুকে। সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে ছবির ঝলক। সেখানে দেখা যায়, ষাঁড়ের পিঠে চড়ে দুরন্ত গতিতে ছুটছেন তিনি। ওই কয়েক সেকেন্ডের দৃশ্যই এখন নেটদুনিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রে। কিন্তু দর্শক যা দেখছেন, তার পিছনে লুকিয়ে রয়েছে প্রায় ছ’মাসের নিরলস প্রস্তুতি।
মহেশ বাবু নিজেই জানিয়েছেন, রাজামৌলির ছবিতে কাজ মানেই একটি নির্দিষ্ট শৃঙ্খলার মধ্যে দিয়ে যাওয়া। তাঁর কথায়, “এই ছবিতে রাম হয়ে ওঠা আমার কাছে একটা যাপনের মতো। শুধু অভিনয় নয়, পুরো জীবনধারাটাই বদলাতে হয়েছে।” সেই বদলের অংশ হিসেবেই তিনি শিখেছেন কেরলের প্রাচীন মার্শাল আর্ট কালারিপায়াত্তু। এই কৌশল শরীরকে শুধু শক্তিশালী নয়, হালকাও করে তোলে বলে জানালেন অভিনেতা। ফলে পর্দায় শরীরী ভঙ্গি, গতি আর ভারসাম্য অনেক বেশি স্বাভাবিক আসে।
শুধু মার্শাল আর্টেই থেমে থাকেননি মহেশ। ষাঁড়ের পিঠে চড়ার দৃশ্যের জন্য আলাদা করে অনুশীলন করেছেন ছ’মাস ধরে। মাঠে দৌড়ের তালিম নিয়েছেন, যাতে সেই দৃশ্য দু’টি নিখুঁত ভাবে ফুটে ওঠে। মহেশের কথায়, “কাজটা কঠিন ভাবলে কঠিনই লাগে। কিন্তু আনন্দ নিয়ে করলে সবটাই সহজ হয়ে যায়।”
দুই অভিনেতার প্রস্তুতির ধরন আলাদা হলেও একটি জায়গায় মিল রয়েছে—দু’জনেই চরিত্রটিকে হালকা ভাবে নেননি। রাম তাঁদের কাছে শুধু একটি সিনেমার চরিত্র নয়, বরং দায়িত্ব। সংযম, শারীরিক কষ্ট আর মানসিক প্রস্তুতির মধ্য দিয়েই তাঁরা পর্দার রাম হয়ে উঠতে চাইছেন।
এখন দেখার বিষয়, দর্শকের চোখে কে কেমন ভাবে রামকে তুলে ধরতে পারেন। তবে এক কথা বলাই যায়—এই রামের দৌড়ে লড়াইটা শুধুই জনপ্রিয়তার নয়, পরিশ্রম আর নিষ্ঠারও।
প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই