রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে কেঁপে উঠল শহর!
মঙ্গলবার রাত ঠিক ৯টা নাগাদ হঠাৎই নড়ে উঠল কলকাতা। উত্তর থেকে দক্ষিণ—শহরের একাধিক এলাকায় মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই প্রথমে বুঝে উঠতে পারেননি কী ঘটছে। দোকান, শপিং মল কিংবা বাড়ির ঘরে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষজন অনুভব করেন, মাটি যেন হালকা দুলে উঠছে। পরে জানা যায়, এই কম্পনের উৎসস্থল ছিল মায়ানমার, যেখানে রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৬।
শুধু কলকাতাই নয়, পশ্চিমবঙ্গের আরও কয়েকটি জেলাতেও এই কম্পন অনুভূত হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়াতেও ভূমিকম্পের খবর মিলেছে। তবে স্বস্তির কথা, মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত কলকাতা বা রাজ্যের কোথাও হতাহত কিংবা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কোনও খবর পাওয়া যায়নি।
মধ্য কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার ই-মলে সেই সময় কেনাকাটা করছিলেন হুগলির ভদ্রেশ্বরের বাসিন্দা স্বপন ঘোষ। তিনি বললেন, “হঠাৎ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মনে হল চারদিক নড়ছে। প্রথমে মাথা ঘুরছে ভেবেছিলাম। তার পর দেখি আশপাশের লোকজনও একই কথা বলছে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই অনেকেই মলের বাইরে চলে যান।”
ভূমিকম্পের পরে সোশ্যাল মিডিয়াতেও কলকাতাবাসীর অভিজ্ঞতার কথা উঠে আসে। কেউ লিখেছেন, জানলার কাঁচ কাঁপছিল, কেউ আবার জানিয়েছেন, বিছানায় বসে থাকা অবস্থায় অস্বাভাবিক দুলুনি টের পেয়েছেন। রাতের শহরে মুহূর্তের জন্য হলেও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছিল।
প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রথম নয়। এর আগেও একাধিক বার কেঁপে উঠেছে কলকাতা ও তার আশপাশের এলাকা। গত বছরের জানুয়ারি মাসে নেপালের গোকর্ণেশ্বরের কাছে লোবুচে অঞ্চলে ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছিল। সেই কম্পন টের পাওয়া গিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, বাংলাদেশ, এমনকি চিন ও ভুটানেও। বিহারের মধুবনী জেলাতেও তখন কম্পন অনুভূত হয়েছিল।
এর পরে ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর সকালে আবার কেঁপে ওঠে কলকাতা-সহ রাজ্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ—প্রায় সর্বত্রই মানুষ ভূমিকম্পের ঝাঁকুনি টের পেয়েছিলেন। তখন ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল বাংলাদেশের নরসিংদী জেলার কাছাকাছি, মাটি থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে।
এরও আগে, সোমবার গভীর রাতে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে ৪.৬ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল বলে জানিয়েছিল ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি। সেখানেও কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকা মাঝারি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের মধ্যে পড়ে। ফলে দূরবর্তী শক্তিশালী ভূমিকম্পের প্রভাব এই এলাকায় এসে পড়া নতুন কিছু নয়। তবে এমন ঘটনায় আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা।
মঙ্গলবার রাতের কম্পনও আপাতত আতঙ্ক ছড়ালেও বড় বিপদের খবর না থাকায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন শহরবাসী। তবু প্রকৃতির এই অপ্রত্যাশিত সতর্কবার্তা আবার মনে করিয়ে দিল—নিস্তব্ধ রাতেও হঠাৎ কেঁপে উঠতে পারে শহরের মাটি।
প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই