অভিভাবকত্ব নিয়ে খোলামেলা Abhishek Bachchan!
তারকাদের সন্তান মানেই বাড়তি নজর—আর সেই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে Aaradhya Bachchan। ছোটবেলা থেকেই তার ব্যবহার, শিক্ষা ও সংস্কার নিয়ে প্রশংসা শোনা যায়। কিন্তু প্রশ্নটা থেকেই যায়—ওর জীবনের পথপ্রদর্শক কে? বাবা Abhishek Bachchan, না মা Aishwarya Rai Bachchan?
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই জিজ্ঞাসার উত্তর দিয়েছেন অভিষেক। আর তাঁর কথায় স্পষ্ট—সন্তান মানুষ করা তাঁদের কাছে কোনও প্রতিযোগিতা নয়, বরং যৌথ দায়িত্ব।
অভিষেক জানান, তাঁদের মধ্যে কখনওই নির্দিষ্ট করে দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া হয়নি। অর্থাৎ, “বাবা এটা করবেন, মা সেটা করবেন”—এই ধরণের কোনও নিয়ম তাঁদের সংসারে নেই। বরং দু’জনেই সমান ভাবে মেয়ের জীবনে ভূমিকা রাখেন।
তিনি বলেন, “আমি পুরুষ বলে যে আমিই কেবল আরাধ্যাকে আত্মরক্ষা শেখাব—এটা একেবারেই ঠিক নয়। আমার স্ত্রী নিজেই যথেষ্ট শক্তিশালী, সে নিজের দেখাশোনা করতে পারে। ফলে আরাধ্যার কাছেও সে এক বড় উদাহরণ।”
এই কথায় বোঝা যায়, Aishwarya Rai Bachchan-এর ব্যক্তিত্ব ও আত্মনির্ভরতা মেয়ের বড় হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে।
অভিষেক আরও জানান, তাঁরা মেয়েকে শেখানোর ক্ষেত্রে ‘কথা’ নয়, ‘উদাহরণ’-এর উপর বেশি জোর দেন। ঠিক-ভুলের পাঠ মুখে বলে না দিয়ে, নিজেরা আচরণ করে দেখান—যাতে আরাধ্যা নিজের মতো করে তা বুঝে নিতে পারে।
“আমরা ওকে বলি না কী ঠিক, কী ভুল। আমরা সেটাই করি, যা আমরা ঠিক মনে করি—ও নিজে দেখে শিখুক,”—এই সহজ অথচ গভীর দর্শনেই বিশ্বাসী এই তারকা দম্পতি।
তিনি স্পষ্ট করে দেন, সন্তানকে বড় করে তোলার ক্ষেত্রে তাঁদের মধ্যে কোনও প্রতিযোগিতা নেই। বরং একে অপরকে সমর্থন করেই এগিয়ে যান। এই সমতা বজায় রাখাই তাঁদের পরিবারের অন্যতম শক্তি।
অভিষেকের মতে, একটি শিশুর সবচেয়ে বড় শিক্ষক তার নিজের পরিবার। সে যেমন পরিবেশে বড় হয়, তেমনই মূল্যবোধ গড়ে ওঠে তার মধ্যে। তাই তাঁদের চেষ্টা থাকে, ঘরের পরিবেশ যেন সব সময় ইতিবাচক ও সম্মানজনক থাকে।
তবে তিনি এটাও স্বীকার করেন যে, প্রজন্মের পার্থক্য আজ অনেকটাই বেড়েছে। আজকের শিশুদের ভাবনা, শেখার পদ্ধতি, দৃষ্টিভঙ্গি—সবই আগের থেকে আলাদা। তাই অভিভাবক হিসেবেও সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা জরুরি।
সব মিলিয়ে, অভিষেকের বক্তব্য একটাই—সন্তান লালনপালন কোনও ‘রেস’ নয়। এখানে জেতা-হারার প্রশ্ন নেই। বরং এটা একটি দীর্ঘ যাত্রা, যেখানে বাবা-মা দু’জনেই সমান সঙ্গী।
আর সেই পথেই বড় হয়ে উঠছে আরাধ্যা—নিজের মতো করে, নিজের পরিবারকে দেখে শেখার মধ্য দিয়েই।
শেষ লড়াইয়ের গল্প: জল থেকে তোলার পরও বেঁচে ছিলেন রাহুল, তবু বাঁচানো গেল না