‘হরেকৃষ্ণ’ ধ্বনি, মোদীর বার্তা আর মতুয়া প্রসঙ্গের মেলবন্ধন!
অমিত শাহ-র মায়াপুর সফর ঘিরে বুধবার এক অনন্য দৃশ্যের সাক্ষী থাকল নদিয়ার এই আন্তর্জাতিক তীর্থক্ষেত্র। আধ্যাত্মিক আবহে ভরা সভামঞ্চে তিনি শুরুতেই উচ্চারণ করেন ‘হরেকৃষ্ণ’ ধ্বনি— যা মুহূর্তেই একাত্ম করে দেয় দেশ-বিদেশ থেকে আসা হাজার হাজার ভক্তকে।
ভক্তি আর বিশ্বজনীনতার মিলন
মায়াপুর-এর এই সমাবেশে ছিল এক বিরল বৈচিত্র্য। বাঙালি ভক্তদের পাশাপাশি ইউরোপ, আমেরিকা, রাশিয়া ও স্পেন থেকে আসা বহু বিদেশি ভক্তও উপস্থিত ছিলেন। অনেকেই হিন্দি ভাষণ পুরোপুরি বুঝতে পারেননি, তবুও আধ্যাত্মিক আবেগে তাঁদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।
কারও কপালে তিলক, কারও পরনে ধুতি বা শাড়ি— ভাষার সীমা ছাপিয়ে তাঁরা অনুভব করতে চেয়েছেন ভারতের আধ্যাত্মিকতার শক্তিকে। এক বিদেশি ভক্তের কথায়, “সব শব্দ না বুঝলেও অনুভূতিটাই গুরুত্বপূর্ণ।”
ইসকনের মঞ্চে আধ্যাত্মিক বার্তা
এই কর্মসূচি আয়োজন করেছিল ইসকন। অনুষ্ঠানের মূল উপলক্ষ ছিল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর-এর ১৫২তম জন্মজয়ন্তী।
শাহ জানান, তিনি এখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নয়, বরং চৈতন্য মহাপ্রভু-র এক ভক্ত হিসেবেই এসেছেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে চৈতন্যের সমাজসংস্কারের ভূমিকা এবং বিশ্বজুড়ে সনাতন ভাবধারা প্রচারে ইসকনের অবদান।
মোদীর বার্তা ও মতুয়া প্রসঙ্গ
ভাষণের শুরুতেই তিনি জানান, সফরের আগে নরেন্দ্র মোদী-র সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকেও উপস্থিত ভক্তদের উদ্দেশে ‘হরেকৃষ্ণ’ শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন শাহ।
এদিন তিনি মতুয়া সমাজের অবদানও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। হরিচাঁদ ঠাকুর ও গুরুচাঁদ ঠাকুর-এর সামাজিক ঐক্যের বার্তাকে তিনি প্রশংসা করেন।
রাজনীতি নয়, আধ্যাত্মিকতার সুর
২৪ মিনিটের ভাষণে কোনও রাজনৈতিক মন্তব্য করেননি শাহ। বরং তিনি বলেন, ভগবান নৃসিংহের কৃপায় ভারত আধ্যাত্মিক শক্তির মাধ্যমে বিশ্বে শান্তি ও উন্নতির বার্তা পৌঁছে দিতে পারবে।
সফর শেষে হেলিকপ্টারেই তিনি কলকাতায় ফিরে যান। তবে রাজনৈতিক আলোচনা হয়েছে কি না— সে বিষয়ে তাঁর সফরসঙ্গীরা নীরবই থেকেছেন।
এক সফরের তাৎপর্য
এই সফর আবারও দেখিয়ে দিল, মায়াপুর শুধু একটি তীর্থস্থান নয়— এটি বিশ্বসংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিকতার মিলনক্ষেত্র। এখানে ধর্ম, ভাষা ও দেশের সীমানা পেরিয়ে মানুষ একত্রিত হয় একটাই অনুভূতিতে— ভক্তিতে।
প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই