শাহের অনুরোধেও অনড় রাহুল-প্রিয়ঙ্কারা, মোদীর বাসভবনের সামনে রাতভর ধর্নার প্রস্তুতি কংগ্রেসের

শাহের অনুরোধেও অনড় রাহুল-প্রিয়ঙ্কারা! ছাত্র-যুবদের বিক্ষোভে পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবনের অদূরে অবস্থান বিক্ষোভে অনড় কংগ্রেস। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বার্তা পৌঁছলেও ধর্না…

July 21, 2026
1 min read

শাহের অনুরোধেও অনড় রাহুল-প্রিয়ঙ্কারা!

ছাত্র-যুবদের বিক্ষোভে পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবনের অদূরে অবস্থান বিক্ষোভে অনড় কংগ্রেস। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বার্তা পৌঁছলেও ধর্না প্রত্যাহার করতে রাজি হননি রাহুল গাঁধী, মল্লিকার্জুন খড়্গে, প্রিয়ঙ্কা গাঁধী বঢরারা। মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিস্থিতি বদলায়নি। কংগ্রেস সূত্রের দাবি, চার দফা দাবি পূরণ না হলে তাঁরা রাতভর ধর্না চালিয়ে যেতে পারেন।

লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধী মঙ্গলবার সমাজমাধ্যমে সাধারণ মানুষের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে লেখেন, “শিক্ষার্থীদের উপর হামলা মানে প্রতিটি ভারতীয় পরিবারের উপর হামলা। প্রধানমন্ত্রী মোদী মনে করেন, কোনও জবাব না দিয়েই তিনি পার পেয়ে যাবেন— তা হবে না। যাঁরা মনে করেন ছাত্রদের ন্যায়বিচার পাওয়া উচিত, তাঁরা প্রধানমন্ত্রী আবাসনের সামনে আমাদের ধর্নায় যোগ দিন।”

দিল্লির উচ্চ নিরাপত্তা বলয় লোককল্যাণ মার্গে কংগ্রেসের এই বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে, সাংসদ প্রিয়ঙ্কা গাঁধী বঢরা, কেসি বেণুগোপাল-সহ একাধিক শীর্ষ নেতা। পাশাপাশি উপস্থিত রয়েছেন কংগ্রেস-শাসিত দুই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী— কেরলের ভিডি সতীশন এবং কর্নাটকের ডিকে শিবকুমার। সন্ধ্যায় সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও ধর্নাস্থলে পৌঁছে সমর্থন জানান।

বিক্ষোভ শুরুর পর কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহ ধর্নাস্থলে গিয়ে কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি প্রথমে বিক্ষোভ তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানান। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করে আবার ফিরে এসে একই বার্তা পৌঁছে দেন। কিন্তু কংগ্রেস নেতৃত্ব নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকেন।

কংগ্রেসের দাবি, সরকার চারটি বিষয়ে স্পষ্ট পদক্ষেপ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। তাদের দাবিগুলি হল—

  • কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা।
  • ছাত্রদের উপর পুলিশের বলপ্রয়োগের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকাশ্য ক্ষমাপ্রার্থনা।
  • সংসদে এই ঘটনা নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিবৃতি।
  • নতুন শিক্ষানীতি এবং সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে সংসদের বাদল অধিবেশনে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা।

এই বিক্ষোভের সূত্রপাত সোমবারের সংসদ অভিযানকে ঘিরে। মেডিক্যাল প্রবেশিকা (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র ডাকা মিছিলে দিল্লি পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। বিক্ষোভকারীদের একাংশ সংসদ ভবনের কাছে পৌঁছে গেলে নিরাপত্তার স্বার্থে প্রধান ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়।

সিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমন করতেই পুলিশ শক্তি প্রয়োগ করেছে। আন্দোলনের জেরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা ইতিমধ্যেই সিজেপি প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক দফায় বৈঠক করেছেন এবং তাদের দাবি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফাসহ মূল দাবিগুলিতে এখনও কোনও সরকারি ঘোষণা হয়নি।

এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি-সহ বিরোধীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে সংসদের বাদল অধিবেশনের শুরুতেই কেন্দ্রীয় রাজনীতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow
Explore More on These Topics

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *