কী ভাবে ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে আনলেন অমিত শাহ?
দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবিটিসের সমস্যায় ভুগছিলেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ব্যস্ত রাজনৈতিক জীবনের মধ্যেও নিজের স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিয়ে ধীরে ধীরে জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন এনেছেন তিনি। সেই নিয়ম মেনেই এখন অনেকটাই সুস্থ ও ফিট রয়েছেন বলে জানিয়েছেন শাহ।
অমিত শাহের মতে, এই পরিবর্তনের পিছনে কোনও সহজ রাস্তা বা দ্রুত ফল পাওয়ার চেষ্টা ছিল না। বরং নিয়মিত অভ্যাস, নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমেই তিনি নিজের স্বাস্থ্যকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছেন।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে শাহ জানিয়েছিলেন, ২০২০ সালের মে মাস থেকে তিনি জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে শুরু করেন। ঘুম, খাবার এবং শরীরচর্চার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর দাবি, এই পরিবর্তনের ফলেই ধীরে ধীরে ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ওষুধ ও ইনসুলিনের প্রয়োজন কমে যায়।
অমিত শাহ বলেন, “আগে আমার ডায়াবিটিস ছিল। কিন্তু জীবনযাত্রার পরিবর্তন, পর্যাপ্ত ঘুম, বেশি করে জল খাওয়া, খাদ্যাভ্যাসে বদল এবং নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস আমাকে অনেক সাহায্য করেছে।”
প্রায় সাড়ে চার বছরের ধারাবাহিক চেষ্টায় নিজের শরীরের উপর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছেন বলে জানান তিনি। শুধু ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণ নয়, এই পরিবর্তনের ফলে তাঁর কর্মক্ষমতা, মনোযোগ এবং মানসিক সতর্কতাও বেড়েছে বলে মনে করেন শাহ।
তিনি জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুলে ২০ কেজিরও বেশি ওজন কমিয়েছেন। তাঁর মতে, শরীর সুস্থ রাখতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল নিয়ম মেনে চলা। ব্যস্ত জীবনেও প্রতিদিন শরীরচর্চার জন্য সময় বের করা প্রয়োজন।
যুবসমাজকে অনুপ্রাণিত করতে গিয়ে নিজের উদাহরণ তুলে ধরে শাহ পরামর্শ দিয়েছেন, প্রতিদিন অন্তত দু’ঘণ্টা ব্যায়াম করা এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভ্যাস তৈরি করা উচিত। তাঁর মতে, নিয়মিত শরীরচর্চা শুধু শারীরিক শক্তি বাড়ায় না, মানসিক ভাবেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুষম খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জীবনযাত্রার পরিবর্তন অনেকের ক্ষেত্রেই রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে, যদিও ওষুধ বা চিকিৎসা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত সবসময় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নেওয়া প্রয়োজন।
অমিত শাহের বক্তব্যে উঠে এসেছে মূলত নিয়মিত অভ্যাসের গুরুত্ব। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ধৈর্য এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমেই তিনি নিজের ফিটনেসে বড় পরিবর্তন আনতে পেরেছেন।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?