মাতৃগর্ভে মৃত্যু নয়, অলৌকিক রক্ষা: ইউক্রেনের প্রসূতি হাসপাতালে রাশিয়ার ড্রোন হামলার বিভীষিকা

ইউক্রেনের প্রসূতি হাসপাতালে রাশিয়ার ড্রোন হামলার বিভীষিকা! জানি যুদ্ধের মানে ধ্বংস, জানি লড়াইয়ের মানে প্রাণনাশ। কিন্তু মাতৃগর্ভ? প্রসূতি বিভাগ? যেখানে নতুন প্রাণের সূচনা হয়, যেখানে এক নারী জীবনের নতুন অধ্যায়ে…

June 10, 2025
0 min read

ইউক্রেনের প্রসূতি হাসপাতালে রাশিয়ার ড্রোন হামলার বিভীষিকা!

জানি যুদ্ধের মানে ধ্বংস, জানি লড়াইয়ের মানে প্রাণনাশ। কিন্তু মাতৃগর্ভ? প্রসূতি বিভাগ? যেখানে নতুন প্রাণের সূচনা হয়, যেখানে এক নারী জীবনের নতুন অধ্যায়ে পা রাখে? ঠিক সেই জায়গায় যখন বোমারু ড্রোন আছড়ে পড়ে, তখন প্রশ্ন উঠে যায়—মানবতাও কি আজ মৃত?

সোমবার গভীর রাতে যখন ইউক্রেনের আকাশজুড়ে অন্ধকার ঘনাচ্ছে, তখনই হঠাৎ আক্রমণ শুরু করে রুশ বাহিনী। একে একে ছুটে আসে আত্মঘাতী ড্রোন, লক্ষ্য ইউক্রেনের রাজধানী কিভ থেকে শুরু করে দক্ষিণের বন্দর শহর ওডেসা। তবে সবচেয়ে চমকে দেয় যে খবর, তা হল—ওডেসার একটি হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে সরাসরি আছড়ে পড়ে রাশিয়ার ড্রোন!

সেই মুহূর্তের আতঙ্ক, ছিন্নবিচ্ছিন্ন শয্যার দৃশ্য, কাঁদতে থাকা প্রসূতি ও নবজাতকদের আর্তনাদ—সব মিলিয়ে যেন এক বিভীষিকাময় দুঃস্বপ্ন। ওডেসা গভর্নর ওলেহ কিপার জানালেন, হাসপাতালের জরুরি ও প্রসূতি বিভাগ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সৌভাগ্যবশত কোনও প্রাণহানি ঘটেনি। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—এই হামলার লক্ষ্য কী ছিল? নতুন প্রাণ নাকি মানবতা?

এরই মধ্যে ইউক্রেনের পাল্টা হামলায় কেঁপে ওঠে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোও। আতঙ্ক এতটাই গভীর ছিল যে, নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় মস্কোর চারটি প্রধান বিমানবন্দর। রাশিয়ার অসামরিক বিমান পরিবহণ সংস্থা রোসাভিয়াতসিয়া জানায়, ইউক্রেনের ড্রোন আক্রমণের হুমকি পেয়েই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ইউক্রেনের দাবি, এই যুদ্ধের তিন বছরে এক দিনে রাশিয়ার সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা হয়েছে সোমবার। ৪৭৯টি আত্মঘাতী ড্রোন দিয়ে আঘাত হানে রুশ বাহিনী, যার মধ্যে ৪৬০টি ধ্বংস করে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী। কিন্তু তবুও বাকি কিছু ড্রোন ছিন্নভিন্ন করে ফেলে ওডেসার হাসপাতালটিকে।

এই হামলা পাল্টা হামলার মাঝেই রাশিয়ার একাধিক সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন পাঠিয়েছে ইউক্রেন। বিভিন্ন সূত্র জানায়, তাতে প্রায় ৪০টি রুশ যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে বোঝা যাচ্ছে, যুদ্ধের আগুন এবার আরও জ্বলন্ত, আরও নির্মম।

এত সবকিছুর মধ্যেও কিভের মানুষরা নিজেদের জীবন বাঁচাতে আশ্রয় নিচ্ছেন মেট্রো স্টেশনে। সেখানে অন্ধকার ঠেলে বেঁচে থাকার একটা লড়াই চলছে প্রতিনিয়ত।

কিন্তু এই লড়াইয়ের শেষ কোথায়? আর কত প্রসূতি বিভাগ ধ্বংস হলে থামবে এই আগ্রাসন? আর কত শিশু প্রাণ বাঁচবে কাকতালীয়ভাবে?

৪০ বছর পরে ফের এক ভারতীয় মহাকাশে! শুভাংশুকে নিয়ে উৎক্ষেপণের প্রস্তুতিতে তুঙ্গে ‘ড্রাগন

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *