“মধ্যস্থতার প্রশ্নই নেই!” ট্রাম্পকে সাফ জানালেন মোদী
পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির যখন ওয়াশিংটনের পথে, তখনই গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপে মুখোমুখি হলেন দুই রাষ্ট্রনায়ক— ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের সঙ্গে ৩৫ মিনিটের এই আলাপে মোদী স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন, ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষের পরে যে সংঘর্ষবিরতি হয়েছে, তার নেপথ্যে কোনও তৃতীয় পক্ষ নয়— তা সম্পূর্ণভাবেই দুই দেশের সেনা স্তরের আলোচনার ফসল। “ভারত কখনও মধ্যস্থতা চায়নি, ভবিষ্যতেও চাইবে না,” দৃঢ় সুরে বললেন মোদী।
ট্রাম্পকে জানানো হল ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর খুঁটিনাটি
ভারতের বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রী জানিয়েছেন, এই ফোনালাপে মোদী বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন পহেলগাঁও হামলার পর ভারত কেন ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালাতে বাধ্য হয়েছিল। তিনি বলেন, “পাকিস্তানের ‘গুলির’ জবাব ভারত দিয়েছে ‘গোলায়’। সেনাছাউনি ধ্বংসের পরেই পাকিস্তান সংঘর্ষবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে।”
ট্রাম্পকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, এর আগেও মে মাসে মোদী মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সকে সতর্ক করে বলেছিলেন, পাকিস্তান হামলা চালালে ভারতের পাল্টা জবাব আরও কঠোর হবে। ট্রাম্প এ বার ফোনে সেই কথার প্রতিধ্বনি শুনলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর মুখে।
বাণিজ্য চুক্তি? উঠে আসেইনি আলোচনায়
ট্রাম্প বহু বার দাবি করেছেন, তাঁর কূটনৈতিক হস্তক্ষেপেই নাকি এই বিরোধ থেমেছে এবং ‘বাণিজ্যের মাধ্যমে শান্তি’ ফিরেছে উপমহাদেশে। তবে মোদী এ বার স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন, “এই পুরো প্রক্রিয়ায় কখনও কোনও বাণিজ্য আলোচনা হয়নি। এবং মার্কিন মধ্যস্থতার প্রসঙ্গও ওঠেনি।” একই সঙ্গে তিনি বলেন, ভারতের রাজনৈতিক মহলে এই বিষয়ে পূর্ণ ঐকমত্য রয়েছে।
সন্ত্রাসবাদকে যুদ্ধ বলেই দেখছে ভারত: মোদী
মোদী ট্রাম্পকে জানান, ভারতের দৃষ্টিতে সন্ত্রাসবাদ নিছক নিরাপত্তা সমস্যা নয়, এটি একটি যুদ্ধ। তাই ‘অপারেশন সিঁদুর’ এখনও চালু রয়েছে। মোদীর অবস্থানকে সম্মান জানিয়ে ট্রাম্পও সন্ত্রাসবাদ বিরোধী ভারতের এই লড়াইকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন।
ওয়াশিংটন আমন্ত্রণ ও কোয়াড নিয়ে বার্তা
ফোনালাপের সময় ট্রাম্প মোদীকে আমেরিকা সফরের আমন্ত্রণ জানান। কানাডা থেকে ফেরার পথে আমেরিকা সফরের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হয়, কিন্তু পূর্বনির্ধারিত সূচির কারণে সেটি সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দেন মোদী। তবে কোয়াড সম্মেলনের জন্য ট্রাম্পকে ভারতের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যার ইতিবাচক সাড়া মিলেছে হোয়াইট হাউস থেকে।
ইঙ্গিতপূর্ণ সময়ের ফোনালাপ
এই গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপ এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির ওয়াশিংটনে উপস্থিত। তাঁর সঙ্গে ট্রাম্পের মধ্যাহ্নভোজে আলোচনা কী হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। ভারতের তরফ থেকে মোদী ফোনে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়ে কূটনৈতিকভাবে চাপ বজায় রাখলেন।
শসা নয়, এবার লাউয়ের রায়তা! পুষ্টিবিদ বলছেন, উপকারে অনেকটাই এগিয়ে ‘লউকি’র ছাপা রেসিপি