“ভোট পাবে না বলেই বঞ্চনা”—কেন্দ্রের বাজেটকে কড়া ভাষায় আক্রমণ মমতা-অভিষেকের

কেন্দ্রের বাজেটকে কড়া ভাষায় আক্রমণ! কেন্দ্রীয় বাজেট ঘোষণার পরই পশ্চিমবঙ্গের প্রতি ‘বঞ্চনা’র অভিযোগে সরব হল তৃণমূল কংগ্রেস। রবিবার দিল্লি যাওয়ার আগে কলকাতা বিমানবন্দরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় বাজেটকে একেবারে খারিজ…

February 2, 2026
1 min read

কেন্দ্রের বাজেটকে কড়া ভাষায় আক্রমণ!

কেন্দ্রীয় বাজেট ঘোষণার পরই পশ্চিমবঙ্গের প্রতি ‘বঞ্চনা’র অভিযোগে সরব হল তৃণমূল কংগ্রেস। রবিবার দিল্লি যাওয়ার আগে কলকাতা বিমানবন্দরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় বাজেটকে একেবারে খারিজ করে দিয়ে বললেন, “এটা সাধারণ মানুষের বাজেট নয়। সামাজিক সুরক্ষার কোনও দিশা নেই। পশ্চিমবঙ্গে ওরা ভোট পাবে না জেনেই রাজ্যকে বঞ্চনা করা হচ্ছে।” তাঁর কণ্ঠে আরও তীব্র ক্ষোভ—এই বাজেটকে তিনি সরাসরি ‘মিথ্যার জঞ্জাল’ বলে আখ্যা দেন। একই সুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বাজেটকে ‘বিমাতৃসুলভ’ বলে কটাক্ষ করেন।

মমতার অভিযোগ, জিএসটি চালু হওয়ার পর থেকে রাজ্যের প্রাপ্য টাকা কেন্দ্র তুলে নিচ্ছে, অথচ রাজ্যকে তার ন্যায্য হিস্যা দিচ্ছে না। “একটা কর কাঠামো—জিএসটি। বাংলার টাকা নিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু রাজ্যের হাতে কিছুই তুলে দিচ্ছে না। বাজেটে যে সব বরাদ্দের কথা বলা হচ্ছে, তার বেশির ভাগই আসলে আমাদেরই টাকা,” বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, কেন্দ্রের কাছে বাংলার এখনও প্রায় দু’লক্ষ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে।

বাজেট বক্তৃতায় ডানকুনি থেকে গুজরাতের সুরত পর্যন্ত নতুন ফ্রেট করিডর তৈরির ঘোষণার প্রসঙ্গেও কটাক্ষ করেন মমতা। তিনি মনে করিয়ে দেন, ২০০৯ সালে রেলমন্ত্রী থাকাকালীন তিনিই ডানকুনি ফ্রেট করিডরের কথা ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু পরে সেই কাজ থমকে যায়। পাশাপাশি তিনি জানান, গত রাজ্য বাজেটেই তৃণমূল সরকার ছ’টি পণ্য করিডর তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছিল—ডানকুনি-রঘুনাথপুর, রঘুনাথপুর-তাজপুর, ডানকুনি-ঝাড়গ্রাম, ডানকুনি-কোচবিহার, পুরুলিয়ার গুরুডি থেকে জোকা এবং খড়্গপুর-মোরগ্রাম করিডর তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য।

বিজেপিকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জঙ্গলমহলের উন্নয়নের কাজ আমরা করেছি। জঙ্গলসুন্দরী প্রকল্প, পুরুলিয়ার জন্য আলাদা ফ্রেট করিডর—সবই রাজ্য সরকারের উদ্যোগ। ইতিমধ্যেই ৭২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে।” শিলিগুড়ি থেকে বারাণসী পর্যন্ত হাইস্পিড রেল করিডরের ঘোষণাকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “মোদীর নির্বাচনী কেন্দ্র বারাণসীকে ডিজ়নিল্যান্ড বানানো হচ্ছে।”

বাজেটকে ‘হাম্পটি ডাম্পটি বাজেট’ বলেও আক্রমণ করেন মমতা। তাঁর মতে, “বাজেটে শুধু কথার ফুলঝুরি। বাস্তবে তার কোনও প্রভাব নেই।” বাজারের প্রতিক্রিয়ার কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, “শেয়ারবাজারে বড় ধস নেমেছে। সেনসেক্স প্রায় এক হাজার পয়েন্ট পড়েছে—এতেই বোঝা যায়, বণিকমহল কতটা হতাশ।”

অন্য দিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, ৮৫ মিনিটের বাজেট বক্তৃতায় বাংলার জন্য একটি ঘোষণাও নেই। তিনি বাজেটকে ‘দিশাহীন, ভিত্তিহীন ও লক্ষ্যহীন’ বলে আখ্যা দেন। অভিষেকের আরও অভিযোগ, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই বিজেপি কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা আটকে রেখেছে। এমনকি ১০০ দিনের কাজে ২০২১-এর পর রাজ্যের একজন মানুষও কেন্দ্রের টাকা পেয়েছেন—এমন প্রমাণ দেখাতে পারলে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন বলেও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন।

তৃণমূল শিবিরের মতে, বিধানসভা ভোটের আগে বাজেটে পশ্চিমবঙ্গের নাম না থাকা তাদের রাজনৈতিকভাবে আরও সুবিধা করে দেবে। ‘কেন্দ্রীয় বঞ্চনা’র প্রশ্নটিকে নতুন করে হাতিয়ার বানিয়ে সেই ইঙ্গিতই দিলেন মমতা ও অভিষেক।

‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *