৬০ লক্ষের মধ্যে ২০ লক্ষের ভোটার তালিকা নিষ্পত্তি!
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে জোরকদমে কাজ চলছে। ‘বিবেচনাধীন’ বা Adjudication তালিকায় থাকা প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের মধ্যে ইতিমধ্যেই প্রায় ২০ লক্ষের তথ্য যাচাই ও নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে বলে জানাল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর।
এই প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার দিকেই নজর রয়েছে Election Commission of India-এর।
কী এই ‘বিবেচনাধীন’ তালিকা?
ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় বিভিন্ন কারণে অনেক নাম চিহ্নিত করা হয়—
- কেউ মৃত
- কেউ অন্যত্র স্থানান্তরিত
- কারও নাম একাধিক জায়গায় রয়েছে
- কেউ দীর্ঘদিন অনুপস্থিত
এই ধরনের নামগুলি সরাসরি বাদ না দিয়ে ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায় রাখা হয়, যাতে যাচাইয়ের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।
কতটা কাজ এগোল?
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক Manoj Agarwal জানিয়েছেন, সোমবার পর্যন্ত প্রায় ২০ লক্ষ ভোটারের তথ্য নিষ্পত্তি হয়েছে।
এই কাজের জন্য মোট ৭০৫ জন বিচারপতি দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁদের মাধ্যমে নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যাতে কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ না পড়ে।
কোথায় সমস্যা সবচেয়ে বেশি?
প্রথম দফার তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, Murshidabad এবং Malda জেলায় সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বিবেচনাধীন ভোটার রয়েছেন।
উদাহরণ হিসেবে, মালদহ জেলাতেই প্রায় ৮ লক্ষের বেশি ভোটার এখনও যাচাইয়ের তালিকায় রয়েছেন।
আইনি তত্ত্বাবধানে চলছে প্রক্রিয়া
এই গোটা প্রক্রিয়াটি হচ্ছে Supreme Court of India-এর নির্দেশ অনুযায়ী।
ভোটারদের কোনও আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে তা বিচার করার জন্য ট্রাইবুনাল গঠন করা হবে, যেখানে প্রাক্তন বিচারপতিরাও থাকবেন। পাশাপাশি, Calcutta High Court-এর নির্দেশে বিচারপতিরা এই যাচাইয়ের দায়িত্ব পালন করছেন।
সামনে কী?
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ছয় থেকে সাত দিনের মধ্যেই বিবেচনাধীন ভোটারদের প্রথম অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে।
এছাড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল— মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত যাঁদের নাম ভোটার তালিকায় যুক্ত হবে, তাঁরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
কেন এত গুরুত্ব?
ভোটার তালিকা সঠিক রাখা গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে ভুয়ো বা অযোগ্য নাম বাদ দেওয়া, অন্যদিকে প্রকৃত ভোটারদের অধিকার নিশ্চিত করা— এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখতেই এত সতর্কতা।
শেষ কথা
যদিও এখনও প্রায় ৪০ লক্ষ ভোটারের তথ্য যাচাই বাকি, তবুও কমিশন আশাবাদী যে দ্রুত এই কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
নির্বাচনের আগে এই বিশাল প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে শেষ করতে পারলে তা ভোটের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা অনেকটাই বাড়াবে— এমনটাই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
ধীরে ধীরে কমান চিনির অভ্যাস: স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কার্যকর কয়েকটি সহজ উপায়