ভোটার তালিকা বিতর্ক: লোকসভায় সরব তৃণমূল-কংগ্রেস, কমিশনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

ভোটার তালিকা বিতর্ক! ভোটার তালিকা নিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে লোকসভায় সরব হল তৃণমূল কংগ্রেস। একই এপিক নম্বরে একাধিক ভোটার থাকার অভিযোগ তুলে সোমবার সংসদে কড়া ভাষায় কমিশনের সমালোচনা করেন…

March 11, 2025
1 min read

ভোটার তালিকা বিতর্ক!

ভোটার তালিকা নিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে লোকসভায় সরব হল তৃণমূল কংগ্রেস। একই এপিক নম্বরে একাধিক ভোটার থাকার অভিযোগ তুলে সোমবার সংসদে কড়া ভাষায় কমিশনের সমালোচনা করেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, গত কয়েক বছরে কোনো নির্বাচনই স্বচ্ছ হয়নি এবং কমিশনের ব্যাখ্যা নির্বাচনী আচরণবিধির ২০ নম্বর ধারার পরিপন্থী।

এক আইডিতে একাধিক ভোটার! উদ্বেগ প্রকাশ তৃণমূলের

একই এপিক (ভোটার পরিচয়পত্র) নম্বরে একাধিক ভোটারের নাম থাকার অভিযোগে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল গত কয়েক দিন ধরেই সরব। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও দলীয় নেতা-কর্মীদের সতর্ক করেছেন এই বিষয়ে। লোকসভায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমাদের মুখ্যমন্ত্রীই প্রথম এই বিষয়টি সামনে আনেন। ইতিমধ্যে ‘ডুপ্লিকেট’ ভোটার কার্ডের বহু তথ্য সামনে এসেছে। বাংলার ভোটার তালিকায় গুজরাত ও হরিয়ানার ভোটারদের নামও পাওয়া যাচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”

তৃণমূল সাংসদের বক্তব্য, “নির্বাচন কমিশন দাবি করে তারা স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা করে, কিন্তু বাস্তব চিত্র ঠিক উল্টো। গত কয়েক বছরে আমরা কোনো অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখিনি।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, একজন ভোটারের জন্য নির্দিষ্ট একটি নম্বর থাকার কথা, তাহলে কীভাবে একই নম্বরে একাধিক ভোটার কার্ড ইস্যু হচ্ছে? এটি নির্বাচনী বিধির গুরুতর লঙ্ঘন।”

কমিশনের ব্যাখ্যা নিয়েও বিতর্ক

একই নম্বরে একাধিক ভোটারের নাম থাকার অভিযোগের জবাবে নির্বাচন কমিশন জানায়, এপিক নম্বর এক হলেও ভোটকেন্দ্র এবং বিধানসভা কেন্দ্র আলাদা হয়। ফলে এটি ভুয়ো ভোটারের প্রমাণ নয়। কিন্তু এই ব্যাখ্যায় বিরোধীদের সন্দেহ কাটেনি। তৃণমূল ইতিমধ্যেই কমিশনের রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে স্মারকলিপি জমা দিয়েছে এবং ভোটার কার্ডে আধার বা পাসপোর্টের মতো ইউনিক আইডি চালুর দাবি তুলেছে।

কমিশনের বিরুদ্ধে লোকসভায় বিরোধীদের চাপে কেন্দ্র

তৃণমূলের পাশাপাশি কংগ্রেসও ভোটার তালিকা বিতর্কে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী লোকসভায় বলেন, “গোটা দেশে ভোটার তালিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। প্রতিটি বিরোধী দল এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আমরা চাই সংসদে এর বিস্তারিত আলোচনা হোক।”

সোমবার থেকে সংসদের বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়েছে। প্রথম দিনেই এপিক নম্বর বিতর্ক নিয়ে কেন্দ্রকে চাপে ফেলতে সক্রিয় হয়েছে বিরোধী শিবির। মঙ্গলবার তৃণমূলের সংসদীয় প্রতিনিধি দল দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের অফিসে গিয়ে স্মারকলিপি জমা দেবে বলে জানা গেছে। এই দলে থাকবেন লোকসভার মুখ্য আহ্বায়ক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন।

নতুন ব্যবস্থা আসছে?

তৃণমূলের চাপে ভবিষ্যতে ইউনিক এপিক নম্বর চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তারা জানিয়েছে, আগামী তিন মাসের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে বিরোধী দলগুলোর দাবি, শুধু নতুন ব্যবস্থা চালু করলেই হবে না, পূর্ববর্তী ত্রুটিগুলোরও সমাধান করতে হবে।

রাজনীতির ময়দানে আরও চাপানউতোর

ভোটার তালিকা বিতর্ক ছাড়াও সোমবার সংসদে জাতীয় শিক্ষানীতির বিরোধিতায় সরব হয় ডিএমকে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এর বিরুদ্ধে সরব হলে লোকসভায় উত্তেজনা ছড়ায় এবং কিছু সময়ের জন্য অধিবেশন মুলতুবি থাকে।

রাজ্যসভাতেও একই ছবি দেখা যায়। বিরোধী দলগুলো বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার দাবি জানালে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নড্ডা বিরোধীদের সমালোচনা করেন। এর পরেই বেশ কয়েকটি বিরোধী দল ওয়াকআউট করে।

আগামী দিনগুলোতে কী হতে পারে?

ভোটার তালিকা নিয়ে এই বিতর্ক কতদূর গড়াবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে তৃণমূল ও কংগ্রেসের মতো বিরোধী দলগুলোর সক্রিয়তা দেখে মনে হচ্ছে, এটি লোকসভা নির্বাচনের আগে বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। এখন দেখার বিষয়, কেন্দ্রীয় সরকার এবং নির্বাচন কমিশন কীভাবে এই চাপ সামলায়!

ভারতের বদলার জয়: ২৫ বছর পর নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি রোহিতদের হাতে

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *