ভোটার তালিকার কাজ থমকে যাওয়ার আশঙ্কা?
রাজ্যের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) কাজে যুক্ত হাজার হাজার কর্মীর পারিশ্রমিক এখনও মেটেনি— এই অভিযোগে নবান্নকে ফের কড়া বার্তা দিল নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার রাজ্যের মুখ্যসচিবকে পাঠানো চিঠিতে ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও), অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (এইআরও), বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও) এবং বিএলও সুপারভাইজ়ারদের প্রাপ্য অর্থ অবিলম্বে মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। এই নিয়ে তৃতীয়বার একই বিষয়ে রাজ্য সরকারকে চিঠি পাঠানো হল।
কমিশন সূত্রের দাবি, গত বছরের ডিসেম্বরেই একবার টাকা ছাড়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তার আগেও জুলাই ও অগস্ট মাসে ধাপে ধাপে জানানো হয়েছিল— কে কত পারিশ্রমিক পাবেন এবং কী ভাবে সেই অর্থ মেটানো হবে। কিন্তু একাধিকবার চিঠি পাঠানো সত্ত্বেও রাজ্যের তরফে কোনও স্পষ্ট উত্তর বা পদক্ষেপ মেলেনি বলেই অভিযোগ কমিশনের।
বর্তমানে রাজ্যের ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে যুক্ত আছেন বিপুল সংখ্যক কর্মী। প্রায় ৯৪ হাজার বিএলও মাঠে নেমে কাজ করছেন। তাঁদের তদারকির দায়িত্বে রয়েছেন প্রায় ১৫ হাজার বিএলও সুপারভাইজ়ার। পাশাপাশি ২৯৪ জন ইআরও এবং প্রায় ৩,৫০০ জন এইআরও এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। কমিশনের বক্তব্য, এত বড় পরিসরে কাজ চললেও কর্মীদের প্রাপ্য টাকা না পাওয়া কার্যত উদ্বেগজনক।
কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, গত বছর রাজ্য সরকার বিএলওদের পারিশ্রমিক বাবদ ৬১ কোটি টাকা ছাড়ার কথা জানিয়েছিল। সেই অর্থ এসআইআর কাজেই ব্যবহার করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ওই টাকা প্রায় ৯৫ হাজার বিএলওর মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার পরিকল্পনাও ছিল। কিন্তু বাস্তবে সেই অর্থের সম্পূর্ণ বণ্টন এখনও হয়নি বলেই অভিযোগ।
এর আগেই কমিশন জানিয়েছিল, বিএলওদের পারিশ্রমিক বাবদ রাজ্য থেকে মোট ৭০ কোটি টাকা পাওয়া গিয়েছে। তবে অভিযোগ, রাজ্যের অর্থ দফতর সেই টাকা আটকে রাখায় মাঠপর্যায়ের কর্মীদের টাকা দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে কাজ করেও পারিশ্রমিক না পাওয়ার ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে বলে মনে করছেন অনেকেই।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, চলতি বছরে বিএলওদের পারিশ্রমিক প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে। আগে যেখানে তাঁরা তুলনামূলক কম অর্থ পেতেন, সেখানে এ বার মূল পারিশ্রমিক ১২ হাজার টাকা নির্ধারিত হয়েছে। বিশেষ ভাতা মিলিয়ে মোট প্রাপ্য দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১৪ হাজার টাকা। অন্য দিকে, বিএলও সুপারভাইজ়ারদের পারিশ্রমিক ধার্য হয়েছে ১৮ হাজার টাকা।
রাজ্যজুড়ে প্রায় ৮১ হাজারেরও বেশি বিএলও সক্রিয়ভাবে এই সংশোধনের কাজে যুক্ত। কমিশনের দাবি, সমস্ত অনুমোদন এবং বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও এখনও তাঁদের হাতে টাকা পৌঁছয়নি। এর ফলে কাজের গতি এবং মনোবল— দু’টিই প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তাই কমিশনের স্পষ্ট বার্তা— আর দেরি নয়। অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট সমস্ত কর্মীর প্রাপ্য পারিশ্রমিক মিটিয়ে ফেলতে হবে। নচেৎ, ভোটার তালিকার মতো গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যাবে।
প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই