দেশপ্রেমিক ইমেজ বিতর্কে মুখ খুললেন অক্ষয় কুমার!
বলিউড অভিনেতা Akshay Kumar-এর নামের সঙ্গে বহুদিন ধরেই জুড়ে রয়েছে এক ধরনের ‘দেশপ্রেমিক’ ইমেজ। তাঁর অভিনীত বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় ছবি— যেমন Airlift, Baby, Kesari এবং Mission Mangal— মূলত দেশপ্রেম, সেনাবাহিনী বা জাতীয় সাফল্যের গল্পকে কেন্দ্র করে তৈরি। ফলে অনেকেরই প্রশ্ন, অক্ষয় কি ইচ্ছাকৃতভাবেই এমন ছবি বেছে নেন যাতে তাঁর একটি জাতীয়তাবাদী ভাবমূর্তি তৈরি হয়?
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই বিতর্কের জবাব দিয়েছেন অভিনেতা নিজেই।
‘ভাবমূর্তি তৈরি করার জন্য কাজ করি না’
অক্ষয়ের বক্তব্য, তিনি কোনওদিনই বিশেষ কোনও ইমেজ তৈরির জন্য ছবি বেছে নেন না। তাঁর কথায়,
“আমি কোনও কাজই ভাবমূর্তি গড়ার জন্য করি না। আমি নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করি। কোনও বিশেষ ইমেজ তৈরি করার উদ্দেশ্যে নয়, বরং অভিনয় করতে ভালো লাগে বলেই করি।”
অভিনেতার মতে, দর্শকেরা কোনও একটি ধারার ছবি বেশি মনে রাখলে তাতেই সেই ধরনের পরিচিতি তৈরি হয়ে যায়।
কানাডার পাসপোর্ট বিতর্কেও প্রতিক্রিয়া
অক্ষয় কুমারের নাগরিকত্ব নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। একসময় তাঁর কাছে Canada-এর পাসপোর্ট ছিল— এই বিষয়টি নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। সেই প্রসঙ্গেও খোলাখুলি কথা বলেছেন অভিনেতা।
অক্ষয় জানান, জীবনের এক কঠিন সময়েই তিনি কানাডার নাগরিকত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্ত করেছিলেন। তখন তাঁর টানা ১৬-১৭টি ছবি ব্যর্থ হয়েছিল। সামনে মুক্তির অপেক্ষায় ছিল আরও কয়েকটি ছবি। সেই সময় তিনি ভাবতে শুরু করেন, যদি অভিনয়ে আর কাজ না চলে, তবে হয়তো অন্য কিছু করতে হবে।
অভিনেতার কথায়, সেই সময় কানাডায় বসবাসকারী তাঁর এক বন্ধু তাঁকে সেখানে ছোটখাটো ব্যবসা শুরু করার পরামর্শ দেন। সেই ভাবনা থেকেই তিনি কানাডার পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছিলেন।
পরে বদলে যায় পরিস্থিতি
তবে পরে পরিস্থিতি পুরো বদলে যায়। তাঁর বাকি ছবিগুলি মুক্তির পর সফল হয় এবং আবারও তিনি বলিউডে নিজের জায়গা ফিরে পান।
অক্ষয়ের মতে, একটি পাসপোর্ট দিয়ে কোনও মানুষের পরিচয় নির্ধারণ করা যায় না। তিনি বলেন,
“আমার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক সব সময় গভীর। আমি ভারতীয়, আর সব সময় ভারতীয়ই থাকব।”
আবার ভারতীয় নাগরিকত্ব
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে তিনি কানাডার নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছিলেন। তবে দীর্ঘ বিতর্কের পর ২০২৩ সালে তিনি আবার India-র নাগরিকত্ব ফিরে পান।
তার পর থেকেই তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ভারতের সঙ্গেই তাঁর পরিচয় ও আবেগ জড়িয়ে রয়েছে।
দেশপ্রেমের গল্পে তাঁর উপস্থিতি
অক্ষয় কুমারের ক্যারিয়ারে দেশপ্রেম বা জাতীয় গর্বের গল্পভিত্তিক ছবির সংখ্যা কম নয়। সেই কারণেই অনেক দর্শকের কাছে তিনি ‘দেশপ্রেমিক নায়ক’ হিসেবেও পরিচিত হয়ে উঠেছেন।
তবে অভিনেতার বক্তব্য স্পষ্ট— তিনি কোনও পরিকল্পনা করে এই ধরনের ইমেজ তৈরি করতে চাননি। তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ভালো গল্প এবং অভিনয়ের সুযোগ।
সব মিলিয়ে, নাগরিকত্ব ও দেশপ্রেমিক ভাবমূর্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কে এবার নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন অক্ষয় কুমার।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?