ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির মাঝেই কড়া বার্তা ইরানের!
আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধের হুমকিতে ইরান ভয় পাচ্ছে না—এ কথা ফের একবার স্পষ্ট করে দিল তেহরান। পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সেনার ক্রমবর্ধমান আনাগোনা, যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন বা কড়া নিষেধাজ্ঞা—কোনও কিছুই ইরানকে দমাতে পারবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচী। তাঁর দাবি, সামরিক শক্তি দেখিয়ে বা যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরানের সিদ্ধান্ত বদলানো সম্ভব নয়।
রবিবার তেহরানে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আব্বাস জানান, আমেরিকার সঙ্গে চলা পরোক্ষ সমঝোতা-বৈঠক এবং অঞ্চলে মার্কিন সেনার গতিবিধি নিয়ে ইতিমধ্যেই ইরান দু’টি ‘কৌশলগত বন্ধু’ দেশের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। সেই দুই দেশ—চিন ও রাশিয়া। ইরানের ভাষায়, এই দুই রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাদের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী।
বিদেশমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমরা কেন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকরণ থেকে সরে আসছি না, কেন যুদ্ধের হুমকিতেও টলছি না—তার কারণ একটাই। আমরা কী করব, সেটা ঠিক করে দেওয়ার অধিকার অন্য কারও নেই।” তাঁর কথায়, পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সেনা মোতায়েন ইরানের কাছে মোটেই ভয়ের বিষয় নয়।
উল্লেখ্য, ওমানে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যে পরোক্ষ সমঝোতা-বৈঠক চলছে, তা নিয়ে খুব আশাবাদী নন তেহরান। আব্বাসের অভিযোগ, এই আলোচনাকে ওয়াশিংটন আদৌ গুরুত্ব দিচ্ছে না। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকরণ নিয়ে কোনও আপসের প্রশ্নই ওঠে না বলে স্পষ্ট করে দেন তিনি।
গত বছরের জুনে ইরান ও ইজ়রায়েলের মধ্যে টানা ১২ দিন ধরে চলা সংঘর্ষ পশ্চিম এশিয়াকে কার্যত যুদ্ধের কিনারায় নিয়ে গিয়েছিল। সেই সময় সাময়িক ভাবে আমেরিকাও সংঘাতে জড়ায়। তার পর দীর্ঘ বিরতির পরে সম্প্রতি আবার মার্কিন আধিকারিকদের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনায় বসে ইরান। কিন্তু সেই আলোচনা ফলপ্রসূ হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে দু’পক্ষেই।
এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিক বার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। আরব সাগরে মোতায়েন করা হয়েছে মার্কিন রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন। পাশাপাশি, ইরান থেকে তেল পরিবহণের সঙ্গে যুক্ত ১৪টি জাহাজ ও বিভিন্ন দেশের ১৫টি সংস্থার উপর নতুন নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে হোয়াইট হাউস। এতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও তলানিতে ঠেকেছে।
পশ্চিম এশিয়ায় একমাত্র পরমাণু শক্তিধর দেশ ইজ়রায়েল। অভিযোগ ওঠে, ইরানও নাকি পরমাণু অস্ত্র তৈরির পথে হাঁটছে। যদিও এই অভিযোগ বারবার অস্বীকার করেছে তেহরান। রবিবার আব্বাস বলেন, “ওরা ভাবে আমরা অ্যাটমিক বোমা বানাতে চাই। সত্যিটা হল, আমরা সেটা চাই না। বড় শক্তিগুলিকে ‘না’ বলার সাহসটাই আমাদের আসল শক্তি—ওটাই আমাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।”
এই মুহূর্তে স্পষ্ট, হুমকি আর চাপের রাজনীতিতে পিছু হটতে রাজি নয় ইরান। বরং নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে বার্তা দিতে চাইছে তেহরান।
প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই