‘ভয় আউট, ভরসা ইন’: ক্ষমতা বদলের পর ডায়মন্ড হারবারে ভেঙে পড়েছে অভিষেকের ‘মডেল’

‘ভয় আউট, ভরসা ইন’! রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর সবচেয়ে বড় ধাক্কাগুলির একটি দেখা যাচ্ছে ডায়মন্ড হারবারে। একসময় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক Abhishek Banerjee-র রাজনৈতিক শক্তির প্রতীক হিসেবে পরিচিত ছিল যে…

June 22, 2026
1 min read

‘ভয় আউট, ভরসা ইন’!

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর সবচেয়ে বড় ধাক্কাগুলির একটি দেখা যাচ্ছে ডায়মন্ড হারবারে। একসময় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক Abhishek Banerjee-র রাজনৈতিক শক্তির প্রতীক হিসেবে পরিচিত ছিল যে ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’, তা এখন কার্যত অস্তিত্বের সংকটে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে যে কাঠামো ভয়, প্রভাব এবং সংগঠনিক নিয়ন্ত্রণের উপর দাঁড়িয়ে ছিল, ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে সেটাই দ্রুত ভেঙে পড়েছে।

ডায়মন্ড হারবার মহকুমাশাসকের দফতরের পাশের মাঠে এখনও দাঁড়িয়ে রয়েছে ‘সেবাশ্রয়’ কর্মসূচির বিশাল লোহার কাঠামো। এক সময় এই প্রকল্পকে অভিষেকের অন্যতম উচ্চাকাঙ্ক্ষী উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। ২০২৫ সালে শুরু হওয়া এই স্বাস্থ্য পরিষেবা শিবিরে লক্ষাধিক মানুষ চিকিৎসা পেয়েছেন বলে তৃণমূল দাবি করেছিল। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলানোর পরে সেই কাঠামো এখন অনেকের কাছে এক হারিয়ে যাওয়া রাজনৈতিক প্রভাবের প্রতীক।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিজ্ঞতাও একরকম নয়। কেউ কেউ সেবাশ্রয় প্রকল্পের মাধ্যমে উপকৃত হওয়ার কথা বললেও, আবার অনেকে অভিযোগ করেছেন প্রতিশ্রুতি পেলেও শেষ পর্যন্ত বাস্তব সাহায্য পাননি। ফলে প্রকল্পটির সাফল্য নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।

সরকার পরিবর্তনের আগে ডায়মন্ড হারবার অঞ্চলে রাস্তার দু’ধারে অভিষেকের ছবি-সহ অসংখ্য হোর্ডিং, ব্যানার এবং কাটআউট দেখা যেত। এখন তার অধিকাংশই উধাও। জায়গা নিয়েছে নতুন রাজনৈতিক শাসকের প্রচারসামগ্রী। এই দৃশ্যমান পরিবর্তনই স্থানীয় রাজনৈতিক বাস্তবতার বদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ফলতা এলাকায় একসময় প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন Jahangir Khan। তাঁর উত্থান শুরু হয়েছিল স্থানীয় পঞ্চায়েত রাজনীতি থেকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে ওঠেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর প্রভাবও অনেকটাই কমেছে বলে দাবি বিরোধীদের।

Communist Party of India (Marxist)-এর স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, আগে যেসব এলাকায় দলীয় অফিস খোলা রাখাও কঠিন ছিল, এখন সেখানে রাজনৈতিক কর্মসূচি স্বাভাবিক ভাবে করা যাচ্ছে। তাঁদের বক্তব্য, এলাকায় মানুষের মধ্যে ভয় কমেছে এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বেড়েছে।

একই ধরনের দাবি উঠেছে সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও। স্থানীয় কয়েক জন বাসিন্দা জানিয়েছেন, বহু বছর পরে তাঁরা নির্ভয়ে ভোট দিতে পেরেছেন বলে মনে করছেন। যদিও এই দাবিগুলির রাজনৈতিক মূল্যায়ন নিয়ে মতভেদ রয়েছে, তবু জনমতের একটি অংশে পরিবর্তনের অনুভূতি স্পষ্ট।

অন্য দিকে, বহু তৃণমূল কার্যালয় এখন কার্যত নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। কোথাও তালাবন্ধ অফিস, কোথাও আবার পূর্বের দলীয় দখল নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের বক্তব্য, আগে যেসব কার্যালয় তাঁদের থেকে দখল করা হয়েছিল, এখন সেগুলি পুনরুদ্ধার করা হচ্ছে। তবে তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই দাবি নিয়ে ভিন্ন মত রয়েছে।

ডায়মন্ড হারবার, ফলতা, বজবজ বা আমতলার মতো এলাকাগুলিতে এখন রাজনৈতিক শক্তির ভারসাম্য দ্রুত বদলেছে। এক সময় যে অঞ্চলকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অপ্রতিদ্বন্দ্বী ঘাঁটি হিসেবে ধরা হত, সেখানে এখন বিরোধী দলগুলির উপস্থিতি অনেক বেশি দৃশ্যমান। স্থানীয়দের কথায়, বর্তমান পরিস্থিতির সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা হয়তো এই বাক্যেই ধরা যায়— “ভয় আউট, ভরসা ইন।”

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *