পালাবদলে বদলেছে পুজোর গুরুত্ব, শমীককে ঘিরে বিজে পার্কে নজিরবিহীন পুলিশি নিরাপত্তা

শমীককে ঘিরে বিজে পার্কে নজিরবিহীন পুলিশি নিরাপত্তা! সল্টলেকের বিজে ও বিএইচ ব্লকের দুর্গাপুজো এ বার বিশেষ ভাবে নজর কাড়ছে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে ঘিরে। দীর্ঘদিন ধরে বিজে ব্লকের পুজোয়…

October 16, 2026
1 min read

শমীককে ঘিরে বিজে পার্কে নজিরবিহীন পুলিশি নিরাপত্তা!

সল্টলেকের বিজে ও বিএইচ ব্লকের দুর্গাপুজো এ বার বিশেষ ভাবে নজর কাড়ছে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে ঘিরে। দীর্ঘদিন ধরে বিজে ব্লকের পুজোয় বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোই ছিল তাঁর অভ্যাস। এ বছর অবশ্য দুই ব্লকের পুজোতেই সময় দিচ্ছেন তিনি। আর বিজে ব্লকের পুজো ঘিরে পুলিশের নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। শমীকের দাবি, তাঁকে বন্ধুদের থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা চলছে।

বিজে ব্লকের পুজোয় বাড়তি নিরাপত্তা

বিধাননগরের বিএইচ ব্লকে থাকেন শমীক। তবে পুজোর দিনগুলিতে বরাবরই বিজে ব্লকের মণ্ডপে আড্ডা দিতে যেতেন তিনি। এ বার প্রথমবারের মতো বিজে ব্লকের সাংস্কৃতিক মঞ্চেও দেখা গিয়েছে তাঁকে। যদিও শমীক জানিয়েছেন, তিনি কোনও পুজো কমিটির দায়িত্বে নেই। তাঁর কথায়, এত দিন বন্ধুদের সঙ্গে মণ্ডপে সময় কাটালেও কখনও মঞ্চে উঠতে হয়নি। এ বার তাঁকে মঞ্চে তোলার জন্য জোরাজুরি করা হয়েছে।

বিজে ব্লকের পুজো ঘিরে এ বার পুলিশের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। মণ্ডপে ঢোকার বিভিন্ন পথে বসানো হয়েছে ডোরফ্রেম মেটাল ডিটেক্টর। প্রবেশপথের ভিতরে ও বাইরে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সাদা পোশাকের পুলিশ, খাকি উর্দিধারী কর্মী এবং অন্য পোশাকের নিরাপত্তাকর্মীদেরও দেখা যাচ্ছে। পার্কের মেলা চত্বর ও সামনের রাস্তাতেও চলছে নজরদারি।

তবে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে দর্শনার্থীদের স্বাভাবিক যাতায়াতে যাতে সমস্যা না হয়, সে দিকেও নজর রাখা হচ্ছে। শমীককে ঘিরে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতেই এই বাড়তি সতর্কতা কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

সোমনাথ মন্দিরের আদলে বিজে-র মণ্ডপ

এ বছর বিজে ব্লকের পুজোর মূল আকর্ষণ গুজরাতের সোমনাথ মন্দিরের আদলে তৈরি মণ্ডপ। সন্ধ্যার পরে রঙিন আলোর খেলায় আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে সেটি। মণ্ডপ নির্মাণের জন্য মেদিনীপুর থেকে শিল্পীদের আনা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন পুজো কমিটির অন্যতম কর্তা উমাশঙ্কর ঘোষদস্তিদার। বাঁশের কাঠামোর উপর থার্মোকল ও কাঠের বাটাম ব্যবহার করে তৈরি হয়েছে মণ্ডপ।

উমাশঙ্কর শমীকের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী। তাঁরাই তৃতীয়ার সন্ধ্যায় শমীককে সাংস্কৃতিক মঞ্চে তুলে আনেন। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তে যে শমীক খুব একটা স্বচ্ছন্দ ছিলেন না, তা তাঁর বক্তব্যেই স্পষ্ট।

বিএইচ ব্লকের পুজোতেও শমীককে ঘিরে উৎসাহ

বিজে ব্লকের পাশাপাশি এ বার বিএইচ ব্লকের পুজোতেও শমীককে ঘিরে উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। দুই ব্লকের পুজোই চার দশকের বেশি পুরনো। বিজে-র পুজো ৪৩ বছরে পা দিয়েছে, আর বিএইচ-এর পুজো ৪২ বছরে।

বিএইচ ব্লকের পুজো কমিটির সভাপতি মৈনাক দত্ত শমীকের প্রতিবেশী। তাঁর বক্তব্য, দুই পরিবারের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। আগে রাজনৈতিক চাপের কারণে শমীককে পুজো কমিটির সামনে আনা যেত না বলে দাবি করেছেন তিনি। এ বার সেই পরিস্থিতি বদলেছে বলে তাঁর মত।

বিএইচ ব্লকের পুজো তুলনায় ছোট হলেও এ বার আয়োজন কিছুটা বড় হয়েছে। মণ্ডপ সাজানো হয়েছে গামছা, বেত, লালপেড়ে সাদা শাড়ি এবং যামিনী রায় ঘরানার পটচিত্র দিয়ে। ব্লকের অধিকাংশ বাসিন্দা বয়স্ক হওয়ায় মণ্ডপটি খোলামেলা রাখা হয়েছে, যাতে তাঁরা বসে গল্প করতে পারেন। এ বার তিন দিনের বদলে চার দিন খাওয়াদাওয়ার আয়োজনও রয়েছে।

‘বন্ধুদের থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা’

শমীক জানিয়েছেন, তিনি কোনও পুজো কমিটির সদস্য নন। পুজোর সময়ে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়াই তাঁর কাছে বরাবর গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাঁর অভিযোগ, এ বার তাঁকে মঞ্চে তুলে রাজনৈতিক পরিচিতিকে সামনে আনার চেষ্টা হচ্ছে, যা তাঁকে বন্ধুদের থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারে।

দুই ব্লকের পুজো কমিটির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে। তাই এ বার দুই মণ্ডপেই সময় কাটানোর পরিকল্পনা করেছেন তিনি। পঞ্চমীতে বিএইচ ব্লকে প্রতি বছরের মতো ‘আনন্দমেলা’র আয়োজন রয়েছে। সেখানে শমীক যোগ দিতে পারবেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে পুজোর সন্ধ্যায় নিজের পাড়ার মণ্ডপে তাঁর যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেই মনে করছেন আয়োজকেরা।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *