টেস্টে ধাক্কার পর বোর্ডের দিকে আঙুল শুভমনের!
টেস্ট ক্রিকেটে প্রত্যাশামতো ফল আসছে না। একের পর এক ম্যাচে হতাশা বাড়ছে দল ও সমর্থকদের— এমন সময় খোলাখুলি কথা বললেন ভারতীয় দলের অধিনায়ক শুভমন গিল। নিজের ব্যর্থতা বা দলের খারাপ পারফরম্যান্স শুধু মাঠের ক্রিকেটারদের ঘাড়ে চাপিয়ে না দিয়ে, তিনি প্রশ্ন তুললেন ব্যবস্থাপনাগত দিক নিয়েও। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, সমস্যা শুধু ব্যাট-বলের নয়, কাঠামোগত ভাবনাতেও বদল দরকার।
সাম্প্রতিক টেস্ট সিরিজে ভারতের ব্যাটিং বারবার চাপের মুখে পড়েছে। শুভমন মনে করছেন, এর নেপথ্যে প্রস্তুতির ঘাটতি এবং ঘরোয়া ক্রিকেট ও আন্তর্জাতিক টেস্টের মধ্যে ফারাক অনেকটাই দায়ী। তাঁর কথায়, “আমরা অনেকেই সাদা বলের ক্রিকেটে নিয়মিত খেলছি। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটের জন্য যে আলাদা মানসিকতা, ধৈর্য আর প্রস্তুতি দরকার, সেটা সব সময় পাওয়া যাচ্ছে না।”
অধিনায়ক হিসেবে শুভমন বোর্ডের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি মনে করেন, ক্রিকেটারদের টেস্টে মানিয়ে নেওয়ার জন্য আরও পরিকল্পিত রোডম্যাপ দরকার। দীর্ঘ সময় ধরে লাল বলের ক্রিকেট খেলার সুযোগ, বেশি ‘এ’ দল সফর এবং ঘরোয়া টুর্নামেন্টে টেস্ট-ধাঁচের উইকেট— এই বিষয়গুলোয় জোর না দিলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ধারাবাহিকতা আসবে না।
তবে শুধু অভিযোগে থেমে থাকেননি শুভমন। সফল হওয়ার পথও দেখিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য লাল বলের বিশেষ ক্যাম্প, সিনিয়রদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা এবং কোচিং স্টাফের সঙ্গে স্পষ্ট যোগাযোগ জরুরি। “টেস্ট ক্রিকেট রাতারাতি শেখা যায় না। এখানে সময় দিতে হয়, ব্যর্থতার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। সেই জায়গাটা বোর্ডকেও বুঝতে হবে,” বলেছেন তিনি।
শুভমন আরও মনে করিয়ে দিয়েছেন, টেস্ট ক্রিকেটই আসল পরীক্ষা। টি-টোয়েন্টি বা এক দিনের ফরম্যাটে দ্রুত সাফল্য এলেও, পাঁচ দিনের লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে আলাদা প্রস্তুতি চাই। অধিনায়কের মতে, যদি বোর্ড ও দল একসঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় হাঁটে, তা হলে এই ব্যর্থতা সাময়িকই থাকবে।
একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অন্য দেশগুলির উদাহরণও টেনেছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়া বা ইংল্যান্ড কী ভাবে ঘরোয়া কাঠামো থেকে টেস্ট ক্রিকেটার তৈরি করছে, তা খতিয়ে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন শুভমন। তাঁর বিশ্বাস, ভারতের প্রতিভার অভাব নেই— দরকার শুধু সঠিক ব্যবস্থাপনা আর ধৈর্য।
টেস্টে ধাক্কার পর এই আত্মসমালোচনাই হয়তো নতুন শুরুর ইঙ্গিত। দায় এড়িয়ে না গিয়ে সমস্যার মূলে হাত রাখাই যে এগোনোর একমাত্র পথ— অধিনায়কের কথায় সেই বার্তাই স্পষ্ট।