শতরান হাতছাড়া শুভমনের!
রাজকোটে নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচে শুরুটা মন্দ ছিল না ভারতের। তবে শেষ পর্যন্ত সেই শুরুই রূপ পেল আক্ষেপে। অর্ধশতরান করেও শতরানের স্বপ্ন পূরণ হল না শুভমন গিলের। আবারও শর্ট বলের দুর্বলতাই তাঁর ইনিংসের ইতি টানল।
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে ভারত। ওপেনিংয়ে নামেন রোহিত শর্মা ও শুভমন গিল। শুরুতে দু’জনেই ছিলেন সাবধানী। নিউ জিল্যান্ডের পেসাররা নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেন্থে বল করছিলেন। প্রথম ১০ ওভারে ভারতের রান ওঠে বিনা উইকেটে ৫৭। তখন রোহিত ২১ ও শুভমন ৩১ রানে অপরাজিত।
ধীরে ধীরে হাত খুলতে শুরু করেন দুই ওপেনার। শুভমন ছিলেন তুলনামূলক বেশি সাবলীল। সুন্দর টাইমিং, মাটিতে মারা শট— সব মিলিয়ে আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছিল ভারত অধিনায়ককে। ৪৬ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন তিনি। দর্শকের মনে তখন শতরানের প্রত্যাশা।
কিন্তু ঠিক তখনই এল ছন্দপতন।
প্রথমে উইকেট ছুড়ে দিয়ে ফেরেন রোহিত শর্মা। ২৪ রানে বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন। আগের ম্যাচের মতোই একই ভুল। ভারতের স্কোর তখন ৭০/১।
এর পর শুভমন গিল আরও কিছুক্ষণ ক্রিজে থাকলেও শর্ট বলের ফাঁদ এড়াতে পারলেন না। কাইল জেমিসনের একটি শর্ট বল টানতে গিয়ে ভুল টাইমিং। ক্যাচ উঠে যায় ফিল্ডারের হাতে। ৫৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন শুভমন। ভারতের স্কোর দাঁড়ায় ৯৯/২। অল্পের জন্য হাতছাড়া হয় একটি সম্ভাব্য শতরান।
এই আউট যেন আরও এক বার মনে করিয়ে দিল— শর্ট বলের বিরুদ্ধে এখনও পুরোপুরি স্বচ্ছন্দ নন শুভমন। অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্বের ভার যেমন তাঁর কাঁধে, তেমনই নিজের ব্যাটিংয়ের সীমাবদ্ধতা কাটানোর চ্যালেঞ্জও সামনে।
শুভমন ফিরতেই ক্রিজে নামেন বিরাট কোহলি। গ্যালারিতে তখন নতুন করে উত্তেজনা। ম্যাচের রাশ এখন অনেকটাই নির্ভর করছে তাঁর ব্যাটের উপর। কোহলির উপস্থিতিতে ভারতের ইনিংস নতুন গতি পাবে কি না, সেটাই দেখার।
এর আগে ম্যাচ শুরুর আগে একাদশে আসে একটি পরিবর্তন। চোটের কারণে সিরিজ় থেকে ছিটকে যান ওয়াশিংটন সুন্দর। তাঁর জায়গায় সুযোগ পান নীতীশ কুমার রেড্ডি। ভারতের প্রথম একাদশে ছিলেন— শুভমন, রোহিত, কোহলি, শ্রেয়স, রাহুল, জাডেজা, নীতীশ, হর্ষিত রানা, কুলদীপ, সিরাজ ও প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ।
ম্যাচের প্রথম ভাগে ভারতের ব্যাটিং ছিল স্থির কিন্তু আশাব্যঞ্জক। তবে রোহিত ও শুভমনের পরপর উইকেট হারানোয় চাপ এখন মাঝের সারির উপর। কোহলি কতটা দায়িত্ব নিয়ে ইনিংস গড়তে পারেন, সেটাই ঠিক করবে ভারতের লড়াইয়ের ভিত।
শতরান হাতছাড়া হলেও শুভমনের অর্ধশতরান আবারও প্রমাণ করল— ছন্দে থাকলে তিনি দলের অন্যতম ভরসা। শুধু সেই শর্ট বলের ধাঁধাটা ভাঙলেই, ভবিষ্যতে বড় ইনিংস আর অধিনায়কসুলভ শতরান— দুটোই হয়তো দূরে থাকবে না।
লড়াইয়ের মাঝেও হাসি— হাসপাতালে ‘বাইক অ্যাম্বুল্যান্স দাদা’, পাশে দাঁড়াতে ছুটে গেলেন দেব