চার বছর পর প্রত্যাবর্তন, তবু ব্যর্থ ভুবনেশ্বর!!
ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে রান আটকাতে ব্যর্থ হয়েছিল ভারতীয় বোলিং বিভাগ। আশা ছিল, নিউ জ়িল্যান্ডের পরিবেশে ছবিটা বদলাবে। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ হল না। বোলারদের ব্যর্থতার পাশাপাশি ফিল্ডিংয়েও একাধিক ভুল করল ভারত। সব মিলিয়ে ২২৫ রান তুলল নিউ জ়িল্যান্ড। চার বছর পর জাতীয় দলে ফিরে নজর ছিল ভুবনেশ্বর কুমারের উপর। তবে প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে নিজের পুরনো ছন্দ খুঁজে পেলেন না তিনি।
নতুন বলে সাফল্য পেলেন না ভুবি
ভুবনেশ্বরের প্রত্যাবর্তন ঘিরে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে আগ্রহ ছিল যথেষ্ট। নতুন বলে সুইং করানো এবং নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের জন্য পরিচিত এই পেসার। প্রথম ওভারে মাত্র চার রান দিয়ে শুরুটাও ভাল করেছিলেন তিনি। বল দু’দিকে সুইং করছিল। কিন্তু দ্বিতীয় ওভারেই সেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন ভুবি। খরচ করেন ১৭ রান।
ভারতের হয়ে নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়ার দায়িত্ব ছিল তাঁর অন্যতম প্রধান কাজ। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। ডেথ ওভারেও পরিস্থিতি বদলাতে পারেননি ভুবনেশ্বর। দ্বিতীয় স্পেলে গ্লেন ফিলিপ্সের বিরুদ্ধে বেশ অসহায় দেখায় তাঁকে। শেষ পর্যন্ত চার ওভারে ৪৯ রান দিয়ে কোনও উইকেট পাননি এই অভিজ্ঞ পেসার।
অন্য বোলারদেরও একই হাল
ভুবনেশ্বর একা নন, ভারতের বাকি বোলারদের পারফরম্যান্সও ছিল হতাশাজনক। অর্শদীপ সিংহ চার ওভারে ৪৫ রান দেন। ময়ঙ্ক যাদব ও নীতীশ রেড্ডি চার ওভারে ৪০ রান করে খরচ করেন। তুলনায় তাঁদের পারফরম্যান্স কিছুটা নিয়ন্ত্রিত হলেও নিউ জ়িল্যান্ডের রান তোলার গতি থামাতে পারেননি কেউই।
সবচেয়ে বেশি রান দেন অক্ষর পটেল। চার ওভারে ৫৩ রান খরচ করেন তিনি। নিউ জ়িল্যান্ডের পরিবেশে স্পিনারদের পক্ষে পরিস্থিতি সব সময় সহজ নয়। তবে অভিজ্ঞ অক্ষরের কাছ থেকে আরও ভাল বোলিং আশা করেছিল ভারতীয় দল।
পাঁচ বোলারে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন
ভারতের বোলিং পরিকল্পনাতেও প্রশ্ন উঠেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে আগের ম্যাচগুলিতে নমন ধীরকে নিয়মিত বল করতে দেখা গিয়েছিল। উইকেটও পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এই ম্যাচে তাঁকে একবারও বল দেননি অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ার।
ফলে মাত্র পাঁচ জন বোলারকে দিয়েই পুরো ইনিংস সামলাতে হয় ভারতকে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কোনও বোলারের দিন খারাপ গেলে বিকল্প বোলার থাকা গুরুত্বপূর্ণ। সেই বিকল্প ব্যবহার না করায় ভারতের সমস্যা আরও বেড়েছে।
ফিল্ডিংয়ে ভুলের মাশুল
বোলিংয়ের পাশাপাশি ভারতের ফিল্ডিংও চিন্তা বাড়িয়েছে। সহজ ক্যাচ ছেড়েছেন অভিষেক শর্মা। প্রিন্স যাদবের হাত গলে বল বেরিয়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত রানও হয়েছে। এমন কিছু ভুলের কারণে যেখানে একটি রানেই প্রতিপক্ষকে আটকে রাখা সম্ভব ছিল, সেখানে দু’রান নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে নিউ জ়িল্যান্ড।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ভারতীয় দল ইতিমধ্যেই ৫৭টি ক্যাচ ফেলেছে। এই পরিসংখ্যান দলের ফিল্ডিংয়ের ধারাবাহিকতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ছোট ছোট ভুলও ম্যাচের ফল বদলে দিতে পারে। তাই পরের ম্যাচগুলিতে বোলিংয়ের পাশাপাশি ফিল্ডিংয়েও উন্নতি করা জরুরি।
নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে এই ম্যাচে ভারতের দুর্বলতাগুলি ফের সামনে এল। ভুবনেশ্বরের প্রত্যাবর্তন প্রত্যাশামতো না হওয়া, বোলিংয়ে নিয়ন্ত্রণের অভাব এবং ফিল্ডিংয়ের ভুল—সব মিলিয়ে দলের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। পরের ম্যাচে ভারত কী ভাবে ঘুরে দাঁড়ায়, এখন সেটাই দেখার।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।