বেজিঙে অস্বস্তির ঝড়: শি জিনপিংয়ের ঘনিষ্ঠের বিরুদ্ধেই পরমাণু গোপন তথ্য পাচারের অভিযোগ

বেজিঙে অস্বস্তির ঝড়! চিনের ক্ষমতার অন্দরমহলে এই মুহূর্তে প্রবল অস্বস্তি। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত এক শীর্ষ সেনা আধিকারিকের বিরুদ্ধে উঠেছে ভয়াবহ অভিযোগ—দেশের পরমাণু অস্ত্র সংক্রান্ত গোপন তথ্য…

January 26, 2026
1 min read

বেজিঙে অস্বস্তির ঝড়!

চিনের ক্ষমতার অন্দরমহলে এই মুহূর্তে প্রবল অস্বস্তি। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত এক শীর্ষ সেনা আধিকারিকের বিরুদ্ধে উঠেছে ভয়াবহ অভিযোগ—দেশের পরমাণু অস্ত্র সংক্রান্ত গোপন তথ্য আমেরিকায় পাচার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, এই ঘটনায় শুধু গুপ্তচরবৃত্তিই নয়, সেনা অভ্যুত্থানের ছক কষার চেষ্টাও থাকতে পারে। খবর প্রকাশ্যে আসতেই বেজিঙে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন লিউ ঝেনলি, চিনের সশস্ত্র বাহিনীর প্রভাবশালী মুখ এবং শি জিনপিংয়ের ‘ডানহাত’ হিসেবে পরিচিত। জানা যাচ্ছে, তাঁকে ইতিমধ্যেই আটক করে তদন্ত শুরু হয়েছে। পাশাপাশি, আর এক শীর্ষ সেনা আধিকারিক ঝাং ইউশিয়া-র নামও উঠে এসেছে এই বিতর্কে। যদিও ঝাং বর্তমানে হেফাজতে আছেন কি না, সে বিষয়ে এখনও সরকারি ভাবে কিছু জানানো হয়নি।

চিনের সেনাবাহিনীর মুখপত্র ‘পিএলএ ডেইলি’-তে প্রকাশিত তথ্যে দাবি করা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ সামরিক পদে থেকেও লিউ ও ঝাংয়ের কর্মকাণ্ড ছিল কমিউনিস্ট পার্টি বিরোধী। শুধু তাই নয়, ঝাংয়ের বিরুদ্ধে কোটি কোটি ইউয়ান ঘুষ নিয়ে সাধারণ নাগরিকদের সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে। এই সব অভিযোগ মিলিয়ে বিষয়টি আর নিছক দুর্নীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে গিয়ে ঠেকেছে।

সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা যাচ্ছে, ২০১২ সালে শি জিনপিং কমিউনিস্ট পার্টির সর্বেসর্বা হওয়ার পর থেকেই সেনাবাহিনীকে দলের কড়া নিয়ন্ত্রণে রাখার উপর বিশেষ জোর দেন। সেনার মধ্যে আনুগত্য, শৃঙ্খলা ও ঐক্য বজায় রাখা তাঁর শাসননীতির অন্যতম স্তম্ভ। সেই প্রেক্ষিতে শীর্ষ স্তরের আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’র অভিযোগ স্বাভাবিক ভাবেই চিনা রাজনীতিতে বড় ধাক্কা।

লিউ ও ঝাং—দু’জনের বিরুদ্ধেই অভিযোগ, তাঁরা রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করার চেষ্টা করেছেন এবং সেনাবাহিনীর ঐক্যে ফাটল ধরানোর মতো কাজ করেছেন। তদন্তকারীদের মতে, এর নেপথ্যে ছিল ক্ষমতার লোভ। সূত্রের দাবি, এই ঘটনার পর চিনা সেনাবাহিনীর শীর্ষস্তরে কার্যত শূন্যতা তৈরি হয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, এই পরিস্থিতিতে শি জিনপিং খুব শীঘ্রই সেনাবাহিনীর শীর্ষ কাঠামোয় বড়সড় রদবদল করতে পারেন। আপাতত সব নজর তদন্তের দিকে। সত্যিই কি পরমাণু তথ্য পাচার হয়েছিল? আদৌ কি অভ্যুত্থানের চেষ্টা চলছিল? নাকি অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্বেই ফুলেফেঁপে উঠেছে এই অভিযোগ—তার উত্তর দেবে সময় আর তদন্তের ফল।

‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *