চিনের সঙ্গে সীমান্ত সমাধানে কি কৌশল বদলাচ্ছে ভারত? আকসাই চিন-অরুণাচল নিয়ে বাড়ছে জল্পনা

চিনের সঙ্গে সীমান্ত সমাধানে কি কৌশল বদলাচ্ছে ভারত? চিনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ মেটাতে ভারতের কূটনৈতিক অবস্থানে কি বড় কোনও পরিবর্তন আসতে চলেছে? জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সাম্প্রতিক চিন…

August 28, 2026
1 min read

চিনের সঙ্গে সীমান্ত সমাধানে কি কৌশল বদলাচ্ছে ভারত?

চিনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ মেটাতে ভারতের কূটনৈতিক অবস্থানে কি বড় কোনও পরিবর্তন আসতে চলেছে? জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সাম্প্রতিক চিন সফরের পর নতুন করে এই প্রশ্নই সামনে এসেছে। বিশেষ করে, বিরোধহীন এলাকাগুলির সীমান্ত আগে চূড়ান্ত করার বিষয়ে আলোচনা ঘিরে কূটনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা।

২৪ অগস্ট চিনে পৌঁছন ডোভাল। পরের দিন বেজিঙে ভারত ও চিনের বিশেষ প্রতিনিধিদের ২৫তম বৈঠকে অংশ নেন তিনি। চিনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং এবং বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গেও সীমান্ত সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। বৈঠকের পরে দুই দেশই সীমান্ত নির্ধারণ নিয়ে আলোচনার কথা জানিয়েছে।

এই বিবৃতির পরেই প্রশ্ন উঠেছে, দীর্ঘদিন ধরে ভারতের অনুসৃত অবস্থানে কি বদল আসছে? ২০০৫ সালের সমঝোতায় ভারত ও চিন সীমান্ত সমস্যাকে একটি সামগ্রিক কাঠামোর মধ্যে মেটানোর বিষয়ে জোর দিয়েছিল। অর্থাৎ, আলাদা আলাদা করে সীমান্তের বিভিন্ন অংশের নিষ্পত্তির বদলে গোটা সমস্যাটিকে একসঙ্গে বিবেচনা করার নীতি ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

এ বার চিনের বিবৃতিতে সেই সামগ্রিক কাঠামোর স্পষ্ট উল্লেখ না থাকায় সন্দেহ আরও বেড়েছে। কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিরোধহীন অংশগুলির সীমা আগে নির্ধারণ করে পরে বিতর্কিত এলাকাগুলি নিয়ে আলোচনা করার একটি পদ্ধতি নিয়ে ভাবনাচিন্তা হতে পারে।

ভারত-চিন সীমান্ত প্রায় ৩,৪৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং তা পশ্চিম, মধ্য ও পূর্ব—এই তিন সেক্টরে ভাগ করা হয়। পশ্চিমে লাদাখ, মধ্য সেক্টরে হিমাচল প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ড এবং পূর্বে সিকিম ও অরুণাচল প্রদেশ রয়েছে। এর পাশাপাশি পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের শাক্সগাম উপত্যকা নিয়েও ভারত ও চিনের মধ্যে বিরোধ রয়েছে।

অরুণাচল প্রদেশকে দীর্ঘদিন ধরেই নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসছে চিন। বেজিঙের দাবি, ম্যাকমোহন লাইন আন্তর্জাতিক ভাবে বৈধ নয় এবং অরুণাচল দক্ষিণ তিব্বতের অংশ। অন্য দিকে, ভারত এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে। ১৯৬২ সালের যুদ্ধের পর আকসাই চিন চিনের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। সেই ভূখণ্ডও নিজেদের বলে দাবি করে ভারত।

এই পরিস্থিতিতে সীমান্ত সমস্যা সমাধানের চিনা প্রস্তাব মেনে নিলে ভারতের সামনে যেমন ঝুঁকি রয়েছে, তেমনই কিছু কৌশলগত সুবিধার সম্ভাবনাও রয়েছে। আশঙ্কার দিক থেকে বলা হচ্ছে, ধাপে ধাপে সীমান্ত নির্ধারণের পথে হাঁটলে আকসাই চিন বা অরুণাচল নিয়ে ভারতের দীর্ঘদিনের দাবির অবস্থান দুর্বল হতে পারে।

তবে বিপরীত যুক্তিও রয়েছে। বিরোধহীন এলাকাগুলির সীমা দ্রুত নির্ধারিত হলে উত্তরাখণ্ড, হিমাচল প্রদেশ ও সিকিমে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আরও স্পষ্ট হতে পারে। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে পরিকাঠামো ও সামরিক প্রস্তুতিও বাড়ানোর সুযোগ পেতে পারে দিল্লি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর এলএসি-তে দায়িত্বে থাকা সেনা কমান্ডারদের কাছ থেকেও বিরোধহীন এলাকাগুলির সীমা আগে নির্ধারণের পক্ষে মতামত পেয়েছিল কেন্দ্র। সেই কৌশলই এ বার আলোচনার টেবিলে গুরুত্ব পাচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে ভারত আকসাই চিন বা অরুণাচল প্রদেশের দাবি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সীমান্ত বিরোধ নিয়ে দু’দেশের বিশেষ প্রতিনিধিদের কমিটি আলোচনায় বসছে এবং মানচিত্র ও বাস্তব পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সীমান্ত নির্ধারণের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ফলে ডোভালের চিন সফরকে আপাতত ভারতের অবস্থান বদলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না বলে কৌশলগত পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত হিসাবেই দেখছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ। শেষ পর্যন্ত সীমান্ত সমস্যার সমাধান কোন পথে এগোয়, সেটাই এখন নজরে

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow
Explore More on These Topics

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *