বিশ্বকাপের রেশ টেনে টি-টোয়েন্টিতেও দাপট! জেমাইমার ব্যাটে ভর করে শ্রীলঙ্কাকে সহজে হারাল হরমনপ্রীতের ভারত

বিশ্বকাপের রেশ টেনে টি-টোয়েন্টিতেও দাপট! এক দিনের বিশ্বকাপ জয়ের পর ভারতীয় মহিলা দল টি-টোয়েন্টিতে কেমন শুরু করে, সে দিকেই তাকিয়ে ছিলেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। বিশাখাপত্তনমে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে সেই প্রশ্নের…

December 22, 2025
1 min read

বিশ্বকাপের রেশ টেনে টি-টোয়েন্টিতেও দাপট!

এক দিনের বিশ্বকাপ জয়ের পর ভারতীয় মহিলা দল টি-টোয়েন্টিতে কেমন শুরু করে, সে দিকেই তাকিয়ে ছিলেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। বিশাখাপত্তনমে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে সেই প্রশ্নের জবাব দিল হরমনপ্রীত কৌরের দল। আত্মবিশ্বাসে ভর করে, নির্ভার ক্রিকেট খেলেই ৮ উইকেটে ম্যাচ জিতে নিল ভারত। পাঁচ ম্যাচের সিরিজ়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল নীল জার্সির মেয়েরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই ভারতের নিয়ন্ত্রণ স্পষ্ট ছিল। টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কা ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে তোলে ১২১ রান। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারত ৩২ বল বাকি থাকতেই জয়ের রেখা পেরিয়ে যায়। যদিও ওপেনিংয়ে নামা স্মৃতি মন্ধানা ও শেফালি বর্মা কেউই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি, তবু মাঝের ওভারে জেমাইমা রদ্রিগেজ়ের সাবলীল ব্যাটিং সব চাপ দূর করে দেয়।

বিশেষ নজর ছিল স্মৃতি মন্ধানার দিকে। ব্যক্তিগত জীবনের সাম্প্রতিক ধাক্কার পর এই ম্যাচ দিয়েই তিনি ফিরেছিলেন মাঠে। ম্যাচের আগে অনুশীলনে তাঁকে হাসিখুশি দেখালেও খেলতে নামার পর সেই স্বচ্ছন্দতা ধরা পড়েনি। ফিল্ডিংয়ে একটি সহজ ক্যাচ ফসকে যায় তাঁর হাত থেকে। ব্যাট হাতেও শুরুটা ছিল বেশ নড়বড়ে। বল ঠিক মতো ব্যাটে আসছিল না, টাইমিং হচ্ছিল না। ২৫ বলে ২৫ রান করে শেষ পর্যন্ত আউট হন তিনি। তবে এই ইনিংসেই একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলেন মন্ধানা— মহিলা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে ৪০০০ রান পূর্ণ করেন তিনি।

শেফালি বর্মার ব্যাটও বিশেষ চলেনি। ১২২ রানের লক্ষ্যে নেমে মাত্র ৯ রান করেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি। দুই ওপেনার ব্যর্থ হলেও ভারত যে চাপে পড়েনি, তার মূল কারণ জেমাইমা রদ্রিগেজ়। প্রথম বল থেকেই তিনি ছিলেন আক্রমণাত্মক। একদিকে দ্রুত রান নেওয়া, অন্য দিকে সুযোগ পেলেই বাউন্ডারি— সব মিলিয়ে শ্রীলঙ্কার বোলারদের কোনও স্বস্তির জায়গা দেননি তিনি।

মন্ধানা আউট হওয়ার পর আরও দায়িত্ব নিয়ে খেলতে থাকেন জেমাইমা। শিশির পড়ায় ব্যাটিং সহজ হয়ে যাওয়ায় তাঁর কাজটা আরও সুবিধাজনক হয়। অর্ধশতরান পূর্ণ করার পরেও গতি কমাননি। শেষ পর্যন্ত ৪৪ বলে ৬৯ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। ১০টি চার মারেন এই ইনিংসে। জয়ের রানও আসে তাঁর ব্যাট থেকেই। অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর ১৫ রান করে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন এবং সতীর্থকে যোগ্য সঙ্গ দেন।

এর আগে ভারতের বোলাররাও দারুণ নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্স দেখান। এক দিনের বিশ্বকাপে নজর কাড়া ক্রান্তি গৌড় এই ম্যাচে টি-টোয়েন্টিতে নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক উইকেট পান। শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক চামারি আটাপাট্টুকে আউট করে শুরুতেই ধাক্কা দেন তিনি। সেই ধাক্কা সামলাতে পারেনি সফরকারী দল। নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট পড়ায় বড় স্কোর গড়ার সুযোগ পায়নি শ্রীলঙ্কা।

এই ম্যাচে ভারতের হয়ে অভিষেক হয় বাঁহাতি স্পিনার বৈষ্ণবী শর্মার। উইকেট না পেলেও তাঁর বোলিং ছিল যথেষ্ট আঁটসাঁট। ৪ ওভারে মাত্র ১৬ রান দেন তিনি। দীপ্তি শর্মা, অরুন্ধতী রেড্ডি ও শ্রীচরণীরাও শ্রীলঙ্কার ব্যাটারদের চাপে রাখেন।

তবে জয়ের মাঝেও কিছুটা চিন্তার জায়গা ফিল্ডিং। মোট তিনটি ক্যাচ পড়ে যায় ভারতের। আরও ধারালো ফিল্ডিং হলে হয়তো শ্রীলঙ্কাকে ১০০ রানের মধ্যেই আটকে রাখা সম্ভব ছিল। তবু প্রথম ম্যাচে আত্মবিশ্বাসী জয় দিয়ে সিরিজ় শুরু করল ভারত— যা আগামী ম্যাচগুলির আগে নিঃসন্দেহে বাড়তি অক্সিজেন জোগাবে।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *