বিশ্বকাপের দরজা প্রায় বন্ধ বাংলাদেশের জন্য?
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে চাইছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। কিন্তু বাস্তবটা কঠিন—আইসিসির বোর্ড যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা নিয়ে আর কোনও শুনানি হওয়ার সম্ভাবনাই নেই। বিসিবির আবেদন ইতিমধ্যেই আইসিসির বোর্ড সভায় ভোটাভুটিতে খারিজ হয়েছে। তবু নতুন করে আশার খোঁজে আইসিসির ডিসপুট রেজোলিউশন কমিটি (ডিআরসি)-র দ্বারস্থ হয়েছে বাংলাদেশ। সমস্যা একটাই—এই কমিটির সেই সিদ্ধান্ত শোনার আইনি ক্ষমতাই নেই।
আইসিসি কর্তারা আর সময় নষ্ট করতে রাজি নন। সূত্রের খবর, শনিবারই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে দিতে পারে আইসিসি। অর্থাৎ, বাংলাদেশের জন্য অপেক্ষার সময় প্রায় শেষ।
ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে রাজি নয় বাংলাদেশ—এই অবস্থানেই অনড় বিসিবি। আইসিসি বোর্ডের সিদ্ধান্তের পরেও তারা ফের চিঠি পাঠিয়ে নিরপেক্ষ কমিটির কাছে বিষয়টি পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছে। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী, আইসিসির কোনও সাব-কমিটি বোর্ডের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শুনানি করতে পারে না। ডিআরসির শর্তাবলীর ১.৩ ধারায় স্পষ্ট বলা আছে, এই কমিটি আইসিসির বোর্ডের সিদ্ধান্ত বা বিজ্ঞপ্তির বিরুদ্ধে গিয়ে কাজ করতে পারবে না। ফলে মাইকেল বেলের নেতৃত্বাধীন ডিআরসিতে নতুন করে কোনও শুনানির প্রশ্নই ওঠে না।
আইসিসির এক কর্তা সংবাদসংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছেন, “বাংলাদেশ ডিআরসির কাছে যেতে পারে ঠিকই, কিন্তু বোর্ডের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শোনার ক্ষমতা ওই কমিটির নেই।” অর্থাৎ, বিসিবির আবেদন প্রক্রিয়াগত ভাবে গ্রহণযোগ্য হলেও ফল পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
তা হলে বিসিবি কেন এই পথে গেল? কারণ, আইসিসির সংবিধান অনুযায়ী এটিই ছিল তাদের সামনে খোলা একমাত্র আনুষ্ঠানিক দরজা। এর বাইরে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালত—সুইৎজারল্যান্ডের কোর্ট অফ আরবিট্রেশন অফ স্পোর্টস (CAS)-এ যাওয়ার কথাও ভাবছে বিসিবি। এক কর্তার কথায়, “আমরা বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনা পুরোপুরি বন্ধ করতে চাইছি না। ডিআরসি থেকেও নেতিবাচক উত্তর এলে CAS-ই হবে আমাদের শেষ ভরসা।”
আইসিসির অন্দরমহলে অবশ্য পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত। বোর্ড সভায় ১৪-২ ব্যবধানে হারার পরও বাংলাদেশের অনড় অবস্থানে আইসিসি সভাপতি জয় শাহ যে বিরক্ত, তা স্পষ্ট। নামিবিয়ায় অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ চলাকালীন বোর্ড বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। দুবাই ফিরে এসে নিজের অসন্তোষ লুকোননি বলেই খবর। নতুন করে আলোচনার পক্ষে তিনি নন।
ইতিমধ্যেই স্কটল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডকে প্রস্তুত থাকার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। সরকারি ঘোষণা না হলেও শনিবারই বাংলাদেশের বদলি দল হিসেবে স্কটল্যান্ডের নাম জানিয়ে দিতে পারে আইসিসি।
ইতিহাস বলছে, ডিআরসিতে গিয়ে খুব একটা লাভ হয়নি আগে। ২০১৮ সালে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডও একই পথে হেঁটেছিল, কিন্তু ফল মেলেনি। সেই নজিরই যেন আবার ফিরছে—এ বার বাংলাদেশের ক্ষেত্রে।
‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা