বাংলাদেশের দুই অ্যাথলিটকে আজীবন নিষিদ্ধ!
বাংলাদেশের দুই অ্যাথলিট জান্নাত বেগম ও কবিতা রায়কে মহিলাদের বিভাগে প্রতিযোগিতা থেকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করেছে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন (বিএএফ)। মেডিক্যাল পরীক্ষার রিপোর্ট এবং আন্তর্জাতিক অ্যাথলেটিকসের নিয়মের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ফেডারেশনের তরফে জানানো হয়েছে।
জান্নাত ও কবিতার বিরুদ্ধে এই সিদ্ধান্ত আসে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে ঐতিহাসিক জয়ের ঠিক আগের দিন। শনিবার বিএএফের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে সর্বসম্মত ভাবে তাঁদের নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে অতীতে তাঁরা যে সব পদক জিতেছেন এবং যে রেকর্ড তৈরি করেছেন, সেগুলিও বাতিল করা হয়েছে।
মেডিক্যাল পরীক্ষায় কী উঠে এল?
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে হরমোন ও শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর পাঁচ সদস্যের বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল বোর্ড রিপোর্ট দেয়। ফেডারেশনের দাবি, ২৮ বছরের জান্নাত এবং ১৯ বছরের কবিতার ক্ষেত্রে XY DSD (Differences of Sex Development) শনাক্ত হয়েছে। রিপোর্টে আরও কিছু শারীরিক বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ করা হয়েছে।
দুই অ্যাথলিটের পরীক্ষার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল তাঁদের কর্মরত বাহিনীর অভিযোগের ভিত্তিতে। জান্নাত বাংলাদেশের সেনাবাহিনীতে এবং কবিতা নৌবাহিনীতে কর্মরত। গত ১১ মে তাঁদের পরীক্ষা শেষ হয় এবং ১৬ মে ফেডারেশনের হাতে চূড়ান্ত রিপোর্ট পৌঁছয়।
টেস্টোস্টেরনের মাত্রা নিয়েও প্রশ্ন
মহিলাদের বিভাগে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে অ্যাথলেটিকসের আন্তর্জাতিক নিয়মে নির্দিষ্ট টেস্টোস্টেরন সীমা রয়েছে। বিএএফের বক্তব্য অনুযায়ী, মহিলাদের বিভাগে প্রতিযোগিতার জন্য টানা ২৪ মাস রক্তে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ২.৫ ন্যানোমোল প্রতি লিটারের নিচে থাকা প্রয়োজন।
ফেডারেশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জান্নাতের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ছিল ১৯.৬৬ ন্যানোমোল প্রতি লিটার, আর কবিতার ক্ষেত্রে তা ১৬.৫০ ন্যানোমোল প্রতি লিটার। এই রিপোর্টের ভিত্তিতেই তাঁদের মহিলাদের ইভেন্টে ভবিষ্যতে অংশ নেওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।
বাতিল হল বহু পদক ও রেকর্ড
এই সিদ্ধান্তের ফলে জান্নাতের জ্যাভলিন থ্রো এবং ডিসকাস থ্রো-র জাতীয় রেকর্ড-সহ ১৮টি সোনা, একটি রুপো ও দু’টি ব্রোঞ্জ পদক বাতিল করা হয়েছে।
অন্য দিকে, কবিতার ১০০ মিটার, ২০০ মিটার এবং ৪×১০০ মিটার রিলে থেকে পাওয়া একটি সোনা, একটি রুপো ও দু’টি ব্রোঞ্জ পদক বাতিল হয়েছে।
বিএএফ জানিয়েছে, চিকিৎসা সংক্রান্ত রিপোর্ট এবং প্রযোজ্য অ্যাথলেটিকস নিয়ম মেনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে দুই অ্যাথলিটের ক্রীড়াজীবনে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব অত্যন্ত বড় হতে চলেছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।