বিদায় বাসন্তী চট্টোপাধ্যায়: বাংলা অভিনয় জগতের আর এক নক্ষত্রপতন

বিদায় বাসন্তী চট্টোপাধ্যায়! বাংলা বিনোদন জগতে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। প্রখ্যাত অভিনেত্রী বাসন্তী চট্টোপাধ্যায় আর নেই। দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই চালানোর পর, মঙ্গলবার সকাল ১০টা নাগাদ নিজের বাড়িতেই শেষ…

August 13, 2025
1 min read

বিদায় বাসন্তী চট্টোপাধ্যায়!

বাংলা বিনোদন জগতে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। প্রখ্যাত অভিনেত্রী বাসন্তী চট্টোপাধ্যায় আর নেই। দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই চালানোর পর, মঙ্গলবার সকাল ১০টা নাগাদ নিজের বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বয়স হয়েছিল আনুমানিক ৮৮ বছর।

বর্ষীয়ান এই অভিনেত্রী বেশ কিছুদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন। শেষদিকে তাঁর পাশে ছিলেন কেবলমাত্র দীর্ঘদিনের পরিচারিকা। কলকাতার দমদমে নিজের বাড়িতেই থাকতেন বাসন্তী দেবী। তাঁর মৃত্যু সংবাদে শোকস্তব্ধ বাংলা টেলিভিশন ও সিনেমা মহল।

বাসন্তী চট্টোপাধ্যায়কে শেষবার পর্দায় দেখা গিয়েছিল জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘গীতা এলএলবি’-তে। অসুস্থ শরীর নিয়েও অভিনয়ের প্রতি ভালবাসা এতটাই প্রবল ছিল যে, নিয়মিত দমদম থেকে সোনারপুরের শুটিং সেটে যেতেন। মাসে প্রায় ২০ হাজার টাকার ওষুধ খেতে হত তাঁকে, ইনজেকশনে খরচ হতো আরও প্রায় সাড়ে চার হাজার টাকা। তবুও হাসিমুখে কাজ করে গিয়েছেন তিনি—এটাই ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয়।

মৃত্যুর পরে তাঁর দেহ বাড়িতেই রাখা হয়েছে। বাইরে থাকা তাঁর মেয়ের আগমনের অপেক্ষা চলছে। অভিনেত্রীর মৃত্যু সংবাদ জানানো হয়েছে আর্টিস্ট ফোরামকে।

এই খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে টলিপাড়ায়। অভিনেতা ভাস্বর চট্টোপাধ্যায় বহুবার প্রকাশ্যে তুলে ধরেছিলেন বাসন্তী দেবীর শারীরিক ও আর্থিক দুরবস্থার কথা। এমনকি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেও তিনি সাহায্যের আবেদন জানিয়েছিলেন। স্নেহাশিস চক্রবর্তী-সহ অনেকে সেই সময় পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী নিজেও পরে সামাজিক মাধ্যমে শোকবার্তা জানান।

বাসন্তী চট্টোপাধ্যায় তাঁর দীর্ঘ অভিনয় জীবনে বহু উল্লেখযোগ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ‘ঠগিনী’, ‘আমি সে ও সখা’-র মতো ছবিতে তাঁর পারফরম্যান্স আজও দর্শকের মনে গেঁথে রয়েছে। অভিনয়ের পাশাপাশি বাস্তব জীবনেও তিনি ছিলেন সাহসী ও সংগ্রামী—এই অসুস্থতা নিয়েও জীবনযুদ্ধে ছিলেন অবিচল।

বাসন্তী দেবীর দীর্ঘদিনের গৃহসহায়িকা কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, “নতুন করে কোনও সমস্যা হয়নি। হঠাৎই চলে গেলেন। তবে গত ছ’মাস ধরে খুব কষ্ট পাচ্ছিলেন।” তাঁর প্রার্থনা, “এ বার যেন ম্যাডাম শান্তিতে থাকেন। খুব কষ্ট পেয়েছেন জীবনের শেষদিকে।”

একজন অভিনেত্রী হিসেবে বাসন্তী চট্টোপাধ্যায় ছিলেন নিষ্ঠাবান, পরিশ্রমী ও অদম্য মনোবলের প্রতীক। তাঁর প্রয়াণ বাংলা বিনোদন দুনিয়ার এক অপূরণীয় ক্ষতি। কিন্তু তিনি থেকে যাবেন তাঁর কাজের মধ্য দিয়ে, রয়ে যাবেন দর্শকের হৃদয়ে।

কয়েক সপ্তাহ ধরে নতুন অভ্যাস শুরু করেছেন সোহা আলি খান, শরীর ভালো রাখতে খালি পেটে কী খান তিনি?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *