বামেদের ‘প্রান্তিকতা’য় থেমে নেই শুভেন্দু!
এক সময়ের প্রবল প্রভাবশালী সিপিএম এখন বঙ্গ রাজনীতিতে কার্যত প্রান্তিক শক্তি। তবুও কেন তাদের ওপর এত ক্ষুব্ধ শুভেন্দু অধিকারী? কেনই বা তিনি একের পর এক আক্রমণে বামেদের নিশানা করছেন? এই প্রশ্ন এখন রাজনৈতিক মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে।
সম্প্রতি মুর্শিদাবাদের শমসেরগঞ্জে হিংসায় নিহত হন হরগোবিন্দ ও চন্দন দাস। সিপিএম দাবি করে, তারা তাদেরই কর্মী। এই ঘটনার পরে রাজ্য সিপিএম নেতৃত্ব নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গেলে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ঘটনাটিকে হিন্দু পরিচয় দিয়ে চিহ্নিত করেন। বলেন, ‘‘ওঁরা হিন্দু বলেই মারা গিয়েছেন।’’ পাশাপাশি দাস পরিবারকে বামেদের হাত থেকে ‘ছিনিয়ে’ নিজেদের দিকে টেনে আনতেও সফল হন তিনি।
এই হিংসার আবহেই ঘটে পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার ঘটনা। তার জেরেও আরও একধাপ চড়ানো হয় বাম-বিরোধী সুর। সিপিএমের মুখপত্রকে ব্যঙ্গ করে শুভেন্দু বলেন, ‘‘এই কাগজ ঝালমুড়ির ঠোঙা হিসেবেও চলে না।’’ তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন, ‘‘২০২৬-এর পর যাদবপুরের দেশবিরোধীদের ধরে ড্রোনে বেঁধে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেব।’’
শুধু এই দুটি ঘটনা নয়। ব্রিগেড সমাবেশে বামদের ভিড় নিয়েও কটাক্ষ করেন শুভেন্দু, বলেন, ‘‘ভিড় ছিল না। হিন্দুরা ওখানে যাননি, এজন্য আমি তাঁদের ধন্যবাদ জানাই।’’
তাহলে, প্রান্তিক শক্তি হয়ে ওঠা বামেদের দিকে এত নজর কেন? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে রয়েছে হিন্দু ভোট নিয়ে কৌশলগত অঙ্ক। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই স্পষ্ট হয়, বামদের ভোটের বড় অংশ বিজেপির দিকে সরছে। বিশেষ করে হিন্দু ভোটারদের মধ্যে এই স্রোত বেশি। এই ভোট পোক্ত করতে বামেদের প্রতি আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছেন শুভেন্দু।
সিপিএমের অনেক শীর্ষ নেতাই মনে করছেন, শুভেন্দুর লক্ষ্য তাঁদের সেই হিন্দু ভোট ব্যাংককে পুরোপুরি বিজেপিমুখী করা। আবার বিজেপির নেতারাও মনে করছেন, বাম-কংগ্রেসের বাক্সে থাকা হিন্দু ভোট যদি বিজেপি পায়, তা হলে রাজ্যের বহু আসনে তাদের জন্য সমীকরণ বদলে যাবে।
সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম বলেন, “শুভেন্দু হিন্দু সম্রাট হতে চাইছেন। অথচ বিজেপির ভেতরেই হিন্দু ঐক্য ভেঙে পড়ছে। দিলীপ ঘোষেরা নিজেই তার প্রমাণ।”
এদিকে, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, মালদহ, হুগলি–এই সব জেলায় এখনও বাম-কংগ্রেসের কিছু ভোট রয়েছে। এই জেলাগুলিতেই গত কয়েক বছরে বেশ কিছু সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা ঘটেছে। ফলে, হিন্দুত্বের মেরুকরণে এখানেই সবচেয়ে বেশি ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে বিজেপি।
বামেদের পক্ষ থেকে যদিও এখন পেশাদারদের সাহায্য নিয়ে ফের ভোটে পজিশন নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। প্রশিক্ষণ শিবিরও চলছে। তবু সামাজিক মাধ্যমে বামেদের শান্তির বার্তা অনেকের কাছে দুর্বল প্রতিক্রিয়া বলেই প্রতিভাত হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, হিন্দু ভোটের মেরুকরণ এবং তৃণমূল-বিরোধী হিন্দু ভোটকে নিজেদের দিকে টানতেই শুভেন্দুর এই বাম-বিরোধী লাইন। যদিও রাজনীতির সমীকরণ কেবল অঙ্কে মেলে না—তা আগের ভোটের ফলেই দেখা গেছে। তবে এক বছর পরে হতে যাওয়া নির্বাচনের আগে এই আক্রমণ যে আরও বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য।
ফের জৈসলমের! নতুন রহস্যের পর্দা ফাঁস করতে যাচ্ছেন সব্যসাচী, সঙ্গী মেঘলা