ইরানি অভিনেত্রী মন্দনা কারিমির লড়াইয়ের গল্প!
গ্ল্যামার জগতের আলো ঝলমলে জীবন অনেক সময় আড়াল করে রাখে গভীর ব্যক্তিগত সংগ্রামের গল্প। ইরানি অভিনেত্রী Mandana Karimi-র জীবনও তেমনই নানা উত্থান-পতন, বিতর্ক এবং সাহসী সিদ্ধান্তে ভরা। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহবিচ্ছেদ, গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগ থেকে শুরু করে বলিউডে ‘প্রতারিত’ হওয়ার দাবি—সব মিলিয়ে তাঁর জীবন যেন এক নাটকীয় অধ্যায়।
তেহরান থেকে মুম্বই—স্বপ্নের পথচলা
১৯৮৮ সালের মে মাসে ইরানের রাজধানী Tehran-এ জন্ম মন্দনার। তাঁর আসল নাম মানিজ়ে কারিমি। বাবা ইরানি হলেও মা ভারতীয় বংশোদ্ভূত। ছোটবেলা থেকেই সিনেমার প্রতি প্রবল আকর্ষণ ছিল তাঁর।
ইরানে তখন বাড়িতে ভিডিও ক্যাসেটে সিনেমা দেখার উপর নানা বিধিনিষেধ ছিল। তবু তাঁর বাবা গোপনে এনে দিয়েছিলেন হিন্দি সিনেমা Sholay-এর ক্যাসেট। মাত্র আট বছর বয়সে সেই ছবি দেখেই ভারতীয় সিনেমার প্রতি এক অদ্ভুত টান তৈরি হয় মন্দনার মনে।
বিমানসেবিকা থেকে মডেল
স্কুল শেষ করে পড়াশোনার জন্য তিনি চলে যান দুবাইয়ে। সেখানে প্রশিক্ষণ নিয়ে কিছুদিন বিমানসেবিকা হিসেবে কাজও করেন। কিন্তু খুব বেশি দিন সেই পেশায় মন টেকেনি। ধীরে ধীরে মডেলিংয়ের জগতে পা রাখেন।
মডেলিংয়ের কাজের সূত্রেই প্রথমবার ভারতে আসা। অল্প সময়ের মধ্যেই দেশের প্রতি এক ধরনের টান অনুভব করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ইরান ছেড়ে স্থায়ীভাবে Mumbai-তে থাকার সিদ্ধান্ত নেন।
বলিউডে সুযোগ ও বিতর্ক
ভারতে এসে মডেলিং জগতে দ্রুত পরিচিতি পান মন্দনা। বহু বড় তারকার সঙ্গে বিজ্ঞাপনেও কাজ করেন। পরে বলিউডে অভিনয়ের সুযোগ আসে।
২০১৫ সালে Ranbir Kapoor অভিনীত Roy ছবিতে ছোট চরিত্রে দেখা যায় তাঁকে। একই বছরে Bhaag Johnny ছবিতে মুখ্য ভূমিকায় অভিনয়ের সুযোগ পান। পাশাপাশি Main Aur Charles এবং Kyaa Kool Hain Hum 3-এর মতো ছবিতেও কাজ করেন।
তবে কাজের পাশাপাশি বিতর্কও কম ছিল না। একাধিক পরিচালক ও প্রযোজকের বিরুদ্ধে তিনি অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার অভিযোগ তুলেছিলেন। বলিউডে নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে পরে তিনি বলেন, ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকা তাঁর জন্য সহজ ছিল না।
বিয়ে, অভিযোগ ও বিচ্ছেদ
ব্যক্তিগত জীবনেও ঝড় কম আসেনি। ২০১৭ সালে ভারতীয় ব্যবসায়ী Gaurav Gupta-কে বিয়ে করেন মন্দনা। কিন্তু সেই সংসার ছয় মাসও টেকেনি।
স্বামী এবং শাশুড়ির বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসা ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ করেন তিনি। যদিও পরে নিজেই সেই অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেন। শেষ পর্যন্ত তাঁদের সম্পর্ক ভেঙে যায় এবং ২০২১ সালে আইনি বিচ্ছেদ হয়।
ইরানের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশা
বর্তমানে আন্তর্জাতিক রাজনীতির ঘটনাবলিও তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করছে। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা Ali Khamenei-এর মৃত্যুর পর তিনি সামাজিক মাধ্যমে ‘মুক্ত ইরান’-এর স্বপ্নের কথা বলেছেন।
মন্দনার আশা, ভবিষ্যতে এমন একটি ইরান তৈরি হবে যেখানে নারীরা স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারবেন, নিজেদের পছন্দমতো পোশাক পরতে পারবেন এবং শিক্ষা বা কর্মক্ষেত্রে সমান সুযোগ পাবেন।
সব মিলিয়ে মন্দনা কারিমির জীবন শুধু এক অভিনেত্রীর গল্প নয়—এটি স্বপ্ন, সংগ্রাম, বিতর্ক এবং নতুন করে শুরু করার সাহসের এক অনন্য কাহিনি।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?