ইরানি সংবাদপত্রে ‘প্রতিশোধের তালিকা’ ঘিরে চাঞ্চল্য!
পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত থামার কোনও লক্ষণ এখনও দেখা যাচ্ছে না। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সংঘর্ষবিরতির ঘোষণা হলেও হরমুজ় প্রণালী ও তার আশপাশে একাধিক হামলার ঘটনার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বেড়েছে। এই আবহেই একটি তেহরানভিত্তিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথাকথিত ‘প্রতিশোধের তালিকা’ আন্তর্জাতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত একটি সংবাদপত্র একটি অনলাইন ইনফোগ্রাফিকে ১৩ জন বিদেশি নেতা ও শীর্ষ প্রশাসনিক ব্যক্তির ছবি প্রকাশ করেছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে হওয়া হামলার জন্য যাঁদের দায়ী মনে করা হচ্ছে, তাঁদেরই এই তালিকায় রাখা হয়েছে। তবে এই তালিকা ইরান সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান কি না, সে বিষয়ে কোনও সরকারি নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি।
সংবাদপত্রটির প্রকাশিত তালিকায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাশাপাশি ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মার, মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এবং জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎজ়ের নামও রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এই ঘটনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও সামাজিক মাধ্যমে ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ইরান বারবার তাঁর বিরুদ্ধে হুমকি দিচ্ছে। সেই প্রেক্ষিতে তিনি দাবি করেন, মার্কিন প্রশাসন সম্ভাব্য যে কোনও হামলার জবাব দিতে প্রস্তুত। অন্যদিকে, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফ থেকেও প্রতিশোধের বার্তা সামনে এসেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক সংঘাতের পর কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে হরমুজ় প্রণালীকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা, জাহাজ চলাচল এবং সামরিক উপস্থিতি এখন ইরান-আমেরিকা আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে পারস্য উপসাগর অঞ্চলে নতুন করে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় বাহরিন, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি-সহ একাধিক দেশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে উত্তেজনা বাড়ানোর অভিযোগ তুলছে।
তবে তথাকথিত ‘প্রতিশোধের তালিকা’ নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও স্বাধীন আন্তর্জাতিক সংস্থা বা সংশ্লিষ্ট সরকারিভাবে সত্যতা নিশ্চিত করেনি। ফলে বিষয়টি নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হলেও এর সত্যতা যাচাই হওয়া এখনও বাকি। এমন পরিস্থিতিতে পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের দিকে নজর রেখেছে গোটা বিশ্ব।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?