ফুরফুরার ইফতার থেকে মমতার সম্প্রীতির বার্তা: “দুর্গাপুজো-কালীপুজো করলে প্রশ্ন ওঠে না, এখন কেন?”

ফুরফুরার ইফতার থেকে মমতার সম্প্রীতির বার্তা! রাজ্যের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা দিতে সোমবার হুগলির ফুরফুরা শরিফের ইফতারে যোগ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘ প্রায় নয় বছর পর ফুরফুরায় গিয়ে মমতা বললেন,…

March 18, 2025
1 min read

ফুরফুরার ইফতার থেকে মমতার সম্প্রীতির বার্তা!

রাজ্যের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা দিতে সোমবার হুগলির ফুরফুরা শরিফের ইফতারে যোগ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘ প্রায় নয় বছর পর ফুরফুরায় গিয়ে মমতা বললেন, “আমি দুর্গাপুজো-কালীপুজো করলে প্রশ্ন ওঠে না তো! তাহলে এখন প্রশ্ন উঠছে কেন? আমি সব ধর্মের সব অনুষ্ঠানে যাই। ক্রিসমাসে যাই, গুরুদ্বারে যাই, রমজানে যাই, ইফতারেও যাই। বাংলার মাটি সম্প্রীতির মাটি।”

ফুরফুরার ইফতারে মমতার উপস্থিতি এবং রাজনৈতিক বার্তা

সোমবার বিকেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফুরফুরায় পৌঁছান। তাঁর উদ্যোগেই সেখানে ইফতারের আয়োজন করা হয়। সঙ্গে ছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, হুগলির জেলাশাসক মুক্তা আর্যসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।

তবে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল ছিল, ফুরফুরার প্রভাবশালী দুই নেতা, আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি এবং তাঁর দাদা আব্বাস সিদ্দিকি, মমতার অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন কি না। শেষ পর্যন্ত দেখা গেল, দু’জনের কেউই এলেন না।

শুভেন্দুর মন্তব্যের পাল্টা জবাব?

সোমবার সকালে দিল্লি উড়াল দেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি মমতার ফুরফুরা সফর প্রসঙ্গে বলেন, “সব হিন্দুদের বলব ওঁর (মুখ্যমন্ত্রী) লাইভটা দেখতে।” শুভেন্দুর এই মন্তব্যকে বঙ্গ রাজনীতির সাম্প্রতিক মেরুকরণের প্রেক্ষিতে দেখা হচ্ছে।

অনেকে মনে করছেন, বিকেলে ফুরফুরার ইফতারে মমতার বক্তব্য ছিল শুভেন্দুর মন্তব্যেরই জবাব। তিনি সরাসরি বলেন, “ধর্মের নামে বিভেদ তৈরি করা চলবে না। সবাইকে নিয়ে চলাই বাংলার ঐতিহ্য।”

নওশাদের অনুপস্থিতি নিয়ে জল্পনা

নওশাদ সিদ্দিকির অনুপস্থিতি নিয়েও রাজনৈতিক মহলে চর্চা চলছে। এক সপ্তাহ আগেই তিনি নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে প্রায় ২০ মিনিট একান্তে বৈঠক করেছিলেন। নওশাদ পরে দাবি করেন, তাঁর বিধানসভা কেন্দ্র ভাঙড়ে বিধায়ক তহবিলের অর্থখরচ নিয়ে কিছু সমস্যা হয়েছে, সেটাই আলোচনার জন্য গিয়েছিলেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এমন একটি ছোট বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি বৈঠক প্রয়োজন পড়ে না।

সোমবার বিকালে বিধানসভা থেকে বেরিয়ে যান নওশাদ, ঠিক তখনই মমতার কনভয় ফুরফুরার দিকে এগোচ্ছে। শেষ পর্যন্ত নওশাদ সেখানে গেলেন না। এদিকে, বাম-কংগ্রেস ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত প্রবীণ পিরজাদা ইব্রাহিম সিদ্দিকিও উপস্থিত ছিলেন না।

মমতার সঙ্গে কারা ছিলেন, কারা ছিলেন না?

ইফতারের মঞ্চে ফুরফুরার বেশ কিছু পিরজাদা উপস্থিত থাকলেও, নতুন প্রজন্মের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা তাতে অনুপস্থিত ছিলেন। একসময় ফুরফুরার ত্বহা সিদ্দিকির সঙ্গে তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। ২০১৬ পর্যন্ত এই সমন্বয়ের কাজ করতেন মুকুল রায়। তবে সোমবারের কর্মসূচিতে সেই দৃশ্যপট কিছুটা বদলে গেছে।

ত্বহা সিদ্দিকি ইফতার শুরু হওয়ার আগে মাইক হাতে নিয়ে সবাইকে অনুরোধ করেছিলেন, “আজ যেন কোনও দাবিদাওয়া না তোলা হয়।” কিন্তু পরবর্তীতে একের পর এক পিরজাদা বিভিন্ন দাবি তুলতে থাকেন।

মমতার বড় ঘোষণা— ফুরফুরায় পলিটেকনিক কলেজ

এই সফরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন, ফুরফুরায় একটি নতুন পলিটেকনিক কলেজ তৈরি হবে এবং সেটির নামকরণ হবে পিরজাদা আবু বকর সিদ্দিকির নামে। এই ঘোষণা ইফতার মঞ্চে থাকা ফুরফুরার নেতাদের মধ্যে বিশেষ সাড়া ফেলে।

রাজনৈতিক বার্তার মাহাত্ম্য

নওশাদ ও আব্বাস সিদ্দিকির মতো নেতারা তৃণমূলের কড়া সমালোচক হলেও, মমতা ধীরে ধীরে ফুরফুরার আরও পিরজাদাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে চাইছেন। এদিনের মঞ্চে তাঁকে ‘বাংলার অভিভাবিকা’ বলেও সম্বোধন করা হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতা ফুরফুরায় গিয়ে সম্প্রীতির বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি রাজ্যের মুসলিম ভোটব্যাংকের একটি বড় অংশকে ধরে রাখার কৌশল নিচ্ছেন। বিশেষত, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক মেরুকরণের আবহে তিনি বারবার বোঝাতে চাইছেন যে, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করাই তাঁর সরকারের মূল লক্ষ্য।

সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দাপ্রধানের উদ্বেগ, ইউনূস প্রশাসনের কড়া প্রতিক্রিয়া

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *