পহেলগাঁও কাণ্ডের পর পাকিস্তানি শিল্পীদের মন্তব্য
জন্মসূত্রে পাকিস্তানের নাগরিক হলেও বলিউডে দীর্ঘদিন ধরে নিজের জায়গা তৈরি করেছিলেন গায়ক আদনান সামি। ২০১৬ সালে তিনি ভারতের নাগরিকত্ব পান। সেই কারণে ভারত ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ পেয়েছিলেন বলে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। কিন্তু কেন এমন নির্দেশ?
পহেলগাঁও কাণ্ডের পর ভারত সরকার ঘোষণা করেছিল, ২৬ এপ্রিলের মধ্যে সব পাকিস্তানি নাগরিককে দেশ ছেড়ে যেতে হবে। এই ঘোষণা ঘিরে পাকিস্তানের প্রাক্তন মন্ত্রী ফওয়াদ হুসেন প্রশ্ন তোলেন, “আদনান সামির কী হবে? তিনি কি ভারত ছেড়ে যাবেন না?” তখনই গর্জে ওঠেন আদনান। তিনি স্পষ্ট করলেন, দীর্ঘদিন ধরে যে দেশ তাঁর কর্মক্ষেত্র ও বাড়ি হয়ে উঠেছে, সেটি তিনি সহজে ছাড়বেন না।
কিন্তু এবার পহেলগাঁও কাণ্ডের পর পাকিস্তানি শিল্পীদের যাতায়াত বন্ধের বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন। আদনান বলেন, ‘‘রাজনীতি নিজের জায়গায়, আর দেশভক্তি নিজের জায়গায়। একজন শিল্পীর উচিত রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব না থাকা; কিন্তু তাঁর দায়িত্ব সবসময় তার দেশের জন্য কাজ করা।’’
আদনান আরও যোগ করেন, ‘‘শিল্পী ও শিল্পের ভৌগোলিক সীমানা থাকা উচিত। আমি কখনও কাউকে নিজের বাড়িতে থাকতে দেব না, যে আমার ক্ষতি করবে। আমার দেশ, আমার বাড়ি—সেটি সবার আগে রক্ষা করা উচিত। যে শিল্পী পৃথিবীর যে প্রান্তে বাস করেন, সেটিই তাঁর বাড়ি। আর সেটাকে সম্মান করা ও রক্ষা করা তারও দায়িত্ব।’’
এই মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, আদনান শিল্পীদের স্বাধীনতা ও আন্তর্জাতিক কার্যক্রমের প্রতি সমর্থন রাখলেও, নিজের দেশ ও নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি স্পষ্ট। তিনি মনে করেন, শিল্পী হতে গেলে দেশের জন্য দায়বদ্ধ হতে হবে।
ভারতে নাগরিকত্ব পাওয়ার পর আদনান সামি দেশের নিয়ম ও নীতি মেনে চলার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন। পহেলগাঁও কাণ্ডের পর পাকিস্তানি শিল্পীদের যাতায়াত বন্ধের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানানো তারই একটি উদাহরণ। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, দেশপ্রেম ও শিল্পী দায়িত্বকে আলাদা করে দেখা সম্ভব নয়।
সংক্ষেপে বলা যায়, আদনান সামি শুধু একজন শিল্পী নন, তিনি সেই শিল্পী যিনি দেশের প্রতি দায়বদ্ধ। পহেলগাঁও কাণ্ডের পর ভারত সরকারের সিদ্ধান্তের পক্ষে মন্তব্য করে তিনি বার্তা দিয়েছেন—শিল্পী হিসেবে স্বাধীনতা থাকা উচিত, তবে সেই স্বাধীনতা দেশের নিরাপত্তা ও স্বার্থের বাইরে যেতে পারবে না।
এই অবস্থান আদনান সামির পেশাগত ও ব্যক্তিগত মানসিকতার প্রতিফলন। নিজের কর্মক্ষেত্র ভারতে স্থিত থাকার পাশাপাশি তিনি দেশের নিয়ম-নীতি ও নিরাপত্তাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁর মন্তব্য শিল্পী ও দেশের সম্পর্কের সীমা এবং দায়বদ্ধতার পাঠও দিচ্ছে।
ব্যালকনির উপর উড়ালপুল! নাগপুরের সেতু স্মরণ করাচ্ছে ভোপালের ৯০ ডিগ্রি রেলসেতুর ঘটনার কথা